দারুণ শুরুটা আর ধরে রাখা গেল না যেসব কারণে

Bangladesh cricket team
ক্লান্ত শরীরে মাঠ ছাড়ছে বাংলাদেশ দল। ছবি: ফিরোজ আহমেদ

টসটা হেরে যাওয়ার পরই ঘিরে ধরেছিল শঙ্কা। রানে ভরপুর উইকেটে কোথায় না কোথায় গিয়ে থামে শ্রীলঙ্কা! ব্যাট করার জন্য আদর্শ উইকেটে প্রচণ্ড গরমে প্রথম সেশন পর সেকারণেই বাহবা দেওয়ার মতো পারফরম্যান্স ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু দ্বিতীয় সেশনে মিলল ভিন্ন ছবি, শেষ সেশনের প্রথম ঘণ্টায় ফের ঘুরে দাঁড়ানো এবং দিনশেষে থাকল হতাশার ছবিই।

নিজেদের খানিকটা ঘাটতি আর বিশেষ একজনকে দায় দেওয়া ছাড়া উপায় নেই মুমিনুল হকদের। শ্রীলঙ্কার শুরু আর মাঝের ছোটখাটো বিপর্যয় সামলালেন,  অভিজ্ঞতা দিয়ে রাঙালেন সামলালেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস।

দ্বাদশ টেস্ট সেঞ্চুরিতে ম্যাথিউসই দুই দলের মধ্যে গড়ে দিয়েছেন বড় ব্যবধান। ২৫ মিনিট দেরিতে দিনের খেলা শেষে যখন ক্লান্ত শরীরে সবাই ড্রেসিংরুম মুখি। তখন লিটন দাস, মুশফিকুর রহিমরা এসে অভিনন্দন জানালেন ম্যাথুউসকে। সারাদিনে একটি সুযোগ ছাড়া প্রতিপক্ষকে চরম হতাশায় পুড়িয়েছেন তিনি।

Angelo Mathews
ছবি: ফিরোজ আহমেদ

স্কোরকার্ড বলবে ৪ উইকেটে শ্রীলঙ্কা করেছে ২৫৮ রান। সেঞ্চুরি করে অপরাজিত ম্যাথিউস। সঙ্গী অভিজ্ঞ দীনেশ চান্দিমালও হয়ে গেছেন থিতু। বড় রানের দিকেই ছুটছে তারা। তবে বাংলাদেশ এদিন খুব খারাপ বল করেনি।

বিশেষ করে তিন স্পিনারই ভাল করেছেন। প্রথম সেশনে দলকে খেলায় এনেছেন নাঈম হাসান। আউট করেছেন দুই ওপেনারকেই। লম্বা সময় পর টেস্টে ফেরা এই স্পিনার ওভারপ্রতি চার রানের উপরে দিয়েছেন বটে তবে সুযোগ তৈরি করেছেন সবচেয়ে বেশি। অনেক ফ্লাইট দিয়ে উইকেট নেওয়ার পরিস্থিতি বানিয়েছেন। দ্বিতীয় সেশনে গিয়ে অবশ্য ফ্লাইট দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ কিছুটা কমে যাচ্ছিল তার।

৩৫ ওভার পর, দ্বিতীয় সেশনের মাঝামাঝি বল হাতে নেন সাকিব। কোভিড আক্রান্ত হওয়ায় এই টেস্ট তার খেলবারই কথা ছিল না। নাটকীয়ভাবে দুদিন আগে সেরে উঠে অনুশীলন ছাড়াই নেমে যান তিনি। আগের দিন ৩৫ মিনিট ব্যাটিং অনুশীলন সারলেও বোলিং করেননি। কিন্তু এদিন তার বোলিং দেখে কে বলবে তার কোন প্রস্তুতি ঘাটতি আছে!

১৯ ওভার বল করে ওভারপ্রতি ১.৪২ করে দিয়েছেন মাত্র ২৭ রান। দারুণ এক আর্ম বলে ফিরিয়েছেন ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে। সর্বোচ্চ ৩১ ওভার বল করে ৭৩ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম।

তবে দুই পেসারই করেছেন হতাশ। শরিফুল ইসলাম ১৩ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। খালেদ ১১ ওভার বল করে ৪৫ রান দিয়ে পাননি উইকেটের দেখা। দুজনই প্রচুর আলগা বলে চাপ সরিয়েছেন ব্যাটারদের। এদিন একাদশে ইবাদত হোসেনের না থাকা ছিল বড় চমক।

নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের নায়ক ইবাদত বাংলাদেশের সবচেয়ে গতিময় পেসার। চট্টগ্রামের মাঠে এর আগে শেষ খেলা টেস্টেও ভাল বল করেছিলেন তিনি। ফ্লাট উইকেটে জোরে বল করতে পারেন এমন একজনকে একাদশের বাইরে রাখা বোধগম্য হয়নি।

দিনশেষে ম্যাচের যা পরিস্থিতি তাতে লঙ্কানরা স্পষ্ট এগিয়ে। কিন্তু বাংলাদেশের স্পিন কোচ রঙ্গনা হেরাথ মনে করেন পারফরম্যান্স বিচার করলে খারাপ বল করেনি তাদের দল। তবে ওই যে ব্যবধান গড়েছেন একজনই,  'আমার মনে হয় সমান পারফরম্যান্স হয়েছে। কিছু কৃতিত্ব শ্রীলঙ্কাকে দিতে হবে, বিশেষ করে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস একটা দারুণ সেঞ্চুরি করেছে। তারা ভাল ব্যাট করেছে, আমরা ভাল বল করেছি।'

Comments

The Daily Star  | English

NCP struggles to steady ship ahead of polls

Despite submitting nomination papers, the party remains short of election-ready structures, with crucial tasks, such as strategy-setting and manifesto drafting, either stalled or unfinished.

13h ago