শ্রম আইন লঙ্ঘন মামলায় ড. ইউনূসের জামিনের মেয়াদ বাড়ালেন আদালত

ঢাকার শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: পলাশ খান/স্টার

শ্রম আইন লঙ্ঘন মামলায় নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জামিনের মেয়াদ বাড়িয়েছেন ঢাকার শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল।

আজ রোববার সকাল ১০টা ৪৭ মিনিটে ড. ইউনূসসহ গ্রামীণ টেলিকমের তিন শীর্ষ কর্মকর্তার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করেন আদালত।

পরবর্তী আপিল শুনানি ১৬ এপ্রিল ধার্য করেন আদালত।

সিনিয়র আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, 'আপিল শুনানি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিন বর্ধিত করা হয়েছে।'

এর আগে, এই মামলায় জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগর এলাকার শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে যান তারা।

সেসময় অনেক বিদেশি পর্যবেক্ষকও আদালতে প্রবেশ করেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, 'আমরা জামিন বর্ধিত করার জন্য এবং মামলা আপিল শুনানি পর্যন্ত বর্ধিত করার জন্য আবেদন করেছি। আমাদের আবেদন কোর্ট শুনেছেন। শুনে কোর্ট তার বক্তব্যে বলেছেন, এই কোর্টের প্রাকটিস হচ্ছে প্রথমে আপিল অ্যাডমিট করলে প্রথমবার একটা লিমিটেড টাইমের জন্য জামিন দেওয়া হয়। পরবর্তী ধার্য তারিখে আপিল শুনানি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিন বর্ধিত করা হয়, যা কোর্টের প্রসিডিউর।'

'এই কথা বলার পর একটি নজিরবিহীন ঘটনা ঘটল। সরকার পক্ষের আইনজীবী, কল-কারখানা প্রতিষ্ঠানের আইনজীবী, এই সাধারণ নিয়মে
আপিলে জামিন পাওয়ার যে অধিকার তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। আপত্তি জানিয়ে তারা বলেছে, জামিন যেন লিমিটেড সময়ের জন্য দেওয়া হয়। এটা একটা নজিরবিহীন ঘটনা। এটা একজন ব্যক্তির আপিল করার আইনগত অধিকার এবং জামিন থেকে বঞ্চিত করার জন্য গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে আমরা মনে করছি', বলেন তিনি।

এই আইনজীবী বলেন, 'তা না হলে একজনের ব্যক্তিগত অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার যে, আপিল শুনানি পর্যন্ত তিনি জামিনে থাকবেন, সেখানে সরকার পক্ষের আইনজীবী এ কথা বলা মানেই, কোর্টকে ভয়-ভীতসন্ত্রস্ত করা।' 

'সুতরাং আমরা মনে করি, আদালতেও বলেছি, আমরা ন্যায়বিচার চাই। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটা নাগরিক আইনের সমান অধিকার লাভের অধিকারী। আমরা মনে করি ড. ইউনূসসহ বাকিরাও সমান অধিকার রাখেন। সুতরাং তাদের জামিন প্রার্থনা করছি। আদালত বলেছেন, আমরা আপিল বর্ধিত করলাম, জামিনের বিষয় পরে জানাব', বলেন তিনি।

Comments

The Daily Star  | English

Fire erupts in Dhaka's Korail slum

11 firefighting units at the scene; five more on the way

1h ago