যেভাবে ভূমিকম্প বুঝতে পারেন তাইজুলরা

ছবি: ফিরোজ আহমেদ

ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হলো রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প। ভয়ঙ্কর ঝাঁকুনিতে পুরো মাঠে ছড়িয়ে পড়ল আতঙ্ক। যদিও ফিল্ডিংয়ে থাকা বাংলাদেশ দল শুরুতে বুঝতে পারেনি এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

শুক্রবার মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে আয়ারল্যান্ডের ইনিংসের ৫৬তম ওভার চলছিল। ওভারের তৃতীয় বলটি করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বাংলাদেশের অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। হঠাৎ কেঁপে ওঠে গোটা মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়াম।

ভূমিকম্প টের পেয়ে দুই দলের ক্রিকেটাররা থমকে যান। ড্রেসিং রুম থেকেও বেরিয়ে আসেন কয়েকজন খেলোয়াড় ও স্টাফ। গ্যালারিতে থাকা দর্শকরা তাড়াহুড়ো করে নিচে নামতে শুরু করেন। স্টেডিয়ামের পাঁচ তলায় অবস্থিত প্রেসবক্সেও ছড়িয়ে পড়ে ভয়। গণমাধ্যমকর্মীরা দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে বের হয়ে নিরাপদ জায়গায় যেতে থাকেন। সব মিলিয়ে খেলা বন্ধ থাকে তিন মিনিটের মতো। সবাই ধাতস্থ হওয়ার পর বাকি সময় অবশ্য খেলা চলে নির্বিঘ্নে।

দিনশেষে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধি হয়ে গণমাধ্যমের সামনে আসা বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম ভূমিকম্পের সময়ের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ভীত হয়ে পড়েছিলেন তারা, 'আসলে প্রথমে বুঝিনি। কিন্তু একটা সময় সম্ভবত মিডিয়া বক্স যে জায়গা থেকে, সেদিক থেকে একটা আওয়াজ আসছিল। ওই... একটা শব্দ এসেছে। তারপরে শারীরিকভাবেও অনুভব করেছি। ওই সময়ে একটা আতঙ্ক কাজ করছিল।'

সংবাদ সম্মেলনে আয়ারল্যান্ডের কোচ হাইনরিখ মালান জানান, এমন ভূমিকম্প অনুভবের পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে তার। পাশাপাশি বৃহত্তর ছবিটাও মনে করিয়ে দেন তিনি, 'আমি ব্যক্তিগতভাবে কিছু ভূমিকম্পের ঘটনার সাক্ষী হয়েছি। নিউজিল্যান্ডে কিছুদিন থেকেছি আমি। এটা কখনোই ভালো অনুভূতি নয়।'

'বোঝার চেষ্টা করছিলাম কী হচ্ছে। পাশাপাশি বড় প্রভাবের দিকটাও মাথায় এসেছিল, কোথায় ভূমিকম্পটা আঘাত করল। সেটার ক্ষতি যেন খুব বেশি না হয়, এই আশা করছিলাম। কয়েক মিনিটের জন্য যেন সব থমকে গিয়েছিল। তারপর আমরা আবার খেলায় ফিরেছি। এখন চিন্তা একটাই, কোথাও যেন বড় ধরনের ক্ষতি না হয়ে থাকে,' আরও বলেন তিনি।

Comments

The Daily Star  | English

National flag-draped coffin of Sharif Osman Hadi reaches Dhaka

Inqilab Moncho spokesperson died in Singapore after being critically injured in a shooting

1h ago