হ্যাটট্রিক শিরোপার অভিযানে আফগানিস্তানকে হারিয়ে শুরু বাংলাদেশের
ওপেনারদের নৈপুণ্যে দেড়শ ছাড়ানো উদ্বোধনী জুটিতে মিলল শক্ত ভিত। রিফাত বেগ ফিফটি করে থামার পর জাওয়াদ আবরার মাত্র ৪ রানের জন্য পেলেন না সেঞ্চুরির স্বাদ। চ্যালেঞ্জিং রান তাড়ায় শেষদিকে দ্রুত কয়েকটি উইকেট পড়লেও কক্ষপথে থাকল বাংলাদেশ। আফগানিস্তানকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে শুভ সূচনা করল তারা।
শনিবার দুবাইয়ের আইসিসি ক্রিকেট একাডেমিতে অনুষ্ঠিত 'বি' গ্রুপের ম্যাচে শিরোপাধারীদের জয় ৩ উইকেটের। টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৮৩ রান করে আফগানরা। জবাবে ৭ উইকেট খুইয়ে ও ৭ বল হাতে রেখে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছায় যুব টাইগাররা।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে হ্যাটট্রিক শিরোপার হাতছানি রয়েছে বাংলাদেশ দলের সামনে। ২০২৩ সালে মাহফুজুর রহমান রাব্বির নেতৃত্বে প্রথমবার ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল তারা। গত বছর টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে অধিনায়কত্ব করা আজিজুল হাকিম তামিম এবারও আছেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের দায়িত্বে।
৪৫ বলে ফিফটি ছোঁয়া জাওয়াদ আক্ষেপ নিয়ে বিদায় নেন ৯৬ রানে। তার ১১২ বলের ইনিংসে চার নয়টি ও ছয় ছয়টি। রিফাত ৬০ বলে ফিফটি স্পর্শ করে আউট হন ৬২ রানে। তার ৬৮ বলের ইনিংসে চার পাঁচটি ও ছয় দুটি। তিনে নামা আজিজুল দুটি চার ও তিনটি ছক্কায় করেন ৪৮ বলে ৪৭ রান।
পাওয়ার প্লেতে বিনা উইকেটে ৭৬ রান তুলে দুই ওপেনার বেঁধে দেন সুর। পঞ্চদশ ওভারে উদ্বোধনী জুটির রান পেরিয়ে যায় একশ। রিফাত ক্যাচ দিয়ে ফিরলে ভাঙে তাদের ১৬০ বলে ১৫১ রানের জুটি। সঙ্গী হারিয়ে বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি নার্ভাস নাইন্টিজে আটকা পড়া জাওয়াদ। দুজনই হন রুহুল্লাহ আরবের শিকার। তৃতীয় উইকেটে কালাম সিদ্দিকিকে (৩৬ বলে ২৯ রান) নিয়ে আরেকটি ভালো জুটি গড়েন আজিজুল। তারা যোগ করেন ৭১ বলে ৬৬ রান।
অনায়াস জয়ের দিকেই এগোচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু কালামের বিদায়ের পর ঘটে ছন্দপতন। ২৮ রানের মধ্যে পড়ে যায় ৪ উইকেট। আজিজুল আউট হওয়ার পর একই ওভারে রানআউটে কাটা পড়েন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও সামিউন বশির। বলপ্রতি রানের চাহিদা কম থাকায় অবশ্য চাপ জেঁকে বসার সুযোগ পায়নি। যেটুকুও ছিল, তা উবে যায় ১০ বলে ১৯ রানের সপ্তম উইকেট জুটিতে।
দুই দলের স্কোর সমান থাকা অবস্থায় ৭ বলে একটি করে চার ও ছক্কায় ১৩ রান করা শেখ পারভেজ জীবন ফিরলেও রিজান হোসেন ম্যাচ শেষ করেই মাঠ ছাড়েন। তিনি একটি চার করেন ১৩ বলে অপরাজিত ১৭ রান। মুখোমুখি হওয়া তৃতীয় বলে জয়সূচক রানটি আনেন শাহরিয়ার আহমেদ।
এর আগে আফগানদের সাত ব্যাটার দুই অঙ্কে পৌঁছালেও সব আলো কাড়েন ফয়সাল খান। তিনে নেমে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে তিনি খেলেন ১০৩ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস। ৯৪ বল খেলে আটটি চার ও চারটি ছয় হাঁকান তিনি। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে ছয় ইনিংসে এটি তার তৃতীয় শতক। তবে তার প্রচেষ্টা শেষমেশ যায় বিফলে। বাংলাদেশের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন শাহরিয়ার ও ইকবাল হোসেন ইমন।


Comments