বিবাহবিচ্ছেদ থেকে অভিভাবকত্ব, প্রতিকার ই-পারিবারিক আদালতে

ছবি: এমরুল হাসান বাপ্পী/স্টার

বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে দেশে প্রথমবারের মতো ই-পারিবারিক আদালত চালু হয়েছে। এই আদালতে ঘরে বসেই অনলাইনে মামলা দাখিল ও শুনানি করা যাচ্ছে।

ডিজিটাল এই আদালতের বেঞ্চ সহকারী আকরাম হোসেন আবিদ দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, ই-পারিবারিক আদালত বর্তমানে রাজধানীর চারটি এলাকায় কার্যক্রম চালাচ্ছে—মোহাম্মদপুর, আদাবর, ধানমন্ডি ও কলাবাগান।

ই-পারিবারিক আদালত এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে বিচারপ্রার্থীদের খরচ, দূরত্ব, কাগজপত্র ও দীর্ঘ সময় ধরে আদালতে অপেক্ষার ঝামেলা কমানো যায়। এটি দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। অনলাইন এই আদালত তৈরিতে সহযোগিতা করেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

আকরাম হোসেন আবিদ বলেন, 'এই আদালতের মাধ্যমে মামলাকারীরা পাঁচটি সুবিধা পাবেন—দ্রুত অনলাইনে মামলা করা, বাড়ি থেকে সেবা, ডিজিটাল নথি জমা, ২৪/৭ মামলা দাখিল এবং অনলাইন শিডিউলিং।'

তিনি আরও বলেন, 'আসলে কোনো মামলাকারীকে শারীরিকভাবে আদালতে আসার দরকার হবে না। সাক্ষ্য প্রদান, সমনসহ সবকিছুই ডিজিটালি করা হবে। মামলাকারী এবং আইনজীবীরা যেকোনো সুবিধাজনক স্থান থেকে কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন। আর বিচারক কোর্টরুম থেকে অনলাইনে উপস্থিত থাকবেন।'

আদালতের কর্মকর্তাদের মতে, ই-পারিবারিক আদালতে মামলা সহজেই দাখিল করা যায়। এর ওয়েবসাইট ঠিকানা efamilycourt.judiciary.gov.bd। যদি মামলা দাখিলের সময় কোনো সমস্যা হয়, তবে ওয়েবসাইটে থাকা নির্দেশিকা দেখে সাহায্য নেওয়া যাবে।

এই ডিজিটাল আদালতের মাধ্যমে মামলাকারীরা বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধার, মোহরানা, ভরণপোষণ এবং সন্তানের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধানের মতো বিষয়গুলোর জন্য বিচারিক প্রতিকার চাইতে পারবেন।

ই-পারিবারিক আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী, গতকাল বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই আদালতে একটি মামলা দাখিল হয়েছে। মামলাটি দাখিল করেছেন মোহাম্মদপুরের একজন বাসিন্দা, পারিবারিক বিবাদের সমাধান চেয়ে।

মামলাকারী ওই ব্যক্তি বলেন, 'প্রথমবার ডিজিটালি মামলা দাখিল করলাম। এটা বেশ নতুন অভিজ্ঞতা। তবে স্বস্তিদায়ক লেগেছে।  আগের মতো আমাকে আদালতের ভিড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়নি বা সারাদিন করিডোরে ছুটতে হয়নি।'

তিনি আরও বলেন, 'ই-পারিবারিক আদালতের ওয়েবসাইটে গিয়ে সবকিছুই বাড়ি থেকে করেছি—অ্যাকাউন্ট তৈরি থেকে শুরু করে সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান ও আপলোড করা পর্যন্ত। যদিও কিছু কাগজপত্র ফরম্যাটিংয়ে সময় লেগেছে, তবে 'সাবমিট কেস' ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গে মনে হয়েছে আমরা সঠিক পথে এগোচ্ছি।'

ই-পারিবারিক আদালত কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গত সোমবার আইন উপদেষ্টা আসিফ নাজরুল জানিয়েছিলেন, এটি দুর্নীতি রোধে সাহায্য করবে। কারণ সরকার মামলা জট কমাতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চায়।

Comments

The Daily Star  | English
Khaleda Zia political legacy in Bangladesh

The magic of Khaleda Zia

Her last speeches call for a politics of ‘no vengeance’.

1d ago