কুড়িগ্রামে নিষিদ্ধ হিযবুত তাহরীরের পোস্টার সাঁটানোয় ৫ শিক্ষার্থী কারাগারে
কুড়িগ্রামে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরীরের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যকে তাদের কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে, বুধবার দুপুরে কুড়িগ্রাম শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রকাশ্যে দেয়ালে দেয়ালে হিযবুত তাহরীরের পোস্টার সাঁটানোর অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় বুধবার রাতে কুড়িগ্রাম সদর থানায় তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে।
গ্রেপ্তার তরুণেরা হলেন- যশোরের জাবের আল রাফিয়ান (৩০), ঢাকার সাকিবুল হাসান (২৪), লক্ষ্মীপুরের শামীম হোসেন (২৫), নাটোরের ফাহমিদ হাসান (৩৪) এবং মাদারীপুরের মাহমুদুর রহমান (২৫)।
পুলিশ জানায়, জাবের আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (এআইইউবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগ, সাকিবুল ও শামীম ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির সিএসই বিভাগ, ফাহমিদ ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ এবং মাহমুদুর বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) শিক্ষার্থী।
পুলিশ জানায়, বুধবার দুপুরে কুড়িগ্রাম শহরের কলেজ মোড়সহ একাধিক ব্যস্ত এলাকায় হিযবুত তাহরীরের পোস্টার সাঁটানো হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর পুলিশের একাধিক টিম শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করে। পরে খলিলগঞ্জ বাজার সংলগ্ন এলাকায় রংপুরগামী একটি মিনিবাসের গতিরোধ করে ভেতরে থাকা পাঁচ সন্দেহভাজন তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওসি জাহাঙ্গীর আলম জানান, পোস্টার সাঁটানোর স্থানগুলোর আশপাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তারা ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামে এসে পরিকল্পিতভাবে হিযবুত তাহরীরের প্রচারণামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন। সাঁটানো সব পোস্টার ইতোমধ্যে তুলে ফেলা হয়েছে।
এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সহিদুর রহমান বলেন, 'দুপুরের দিকে পাঁচ তরুণ একসঙ্গে এসে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন দেয়ালে পোস্টার সাঁটিয়ে দ্রুত সরে পড়ে। তখন বুঝতে পারিনি এগুলো নিষিদ্ধ সংগঠনের পোস্টার। তারা চলে যাওয়ার পর পোস্টারগুলো পড়ে বিষয়টি বুঝতে পারি। কিছুক্ষণ পরই সেখানে ডিবি পুলিশের সদস্যরা আসেন।'
কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) খন্দকার ফজলে রাব্বি বলেন, 'প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তরুণেরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা অনেক তথ্য দিয়েছে এবং এগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।'


Comments