ঘুষের অভিযোগে বিআরটিএ পরিদর্শককে বরখাস্ত ও বিভাগীয় ব্যবস্থার নির্দেশ
ট্রাকচালকের কাছ থেকে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে হবিগঞ্জে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সহকারী মোটরযান পরিদর্শক আশরাফুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ সোমবার হবিগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এক গণশুনানিতে দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন এই আদেশ দেন।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার হাতিরথান এলাকার ট্রাকচালক নোমান মিয়া ওই বিআরটিএ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফিটনেস টোকেন দেওয়ার বিনিময়ে ৪ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগ আনার পর এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
নোমান শুনানিতে জানান, তিনি গত রোববার প্রয়োজনীয় সরকারি ফি পরিশোধ করেছেন। তারপরও আশরাফুল 'সারাদিন তার চারপাশে ঘুরঘুর করে' বারবার ও প্রকাশ্যে ৪ হাজার টাকা দাবি করেছেন।
ঘটনাস্থলে অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করার পর দুদক চেয়ারম্যান অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিআরটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তলব করেন এবং আশরাফুলকে অবিলম্বে বরখাস্ত ও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
দুদকের জেলা সমন্বিত কার্যালয় আয়োজিত এই গণশুনানি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান ড. মোমেন বলেন, 'বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরৎ আনা কঠিন ও জটিল কাজ। এ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি এখনো সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি।'
তিনি বলেন, 'বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরৎ আনা অত্যন্ত কঠিন কাজ। এ বিষয়ে দুদক, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করছে।'
দেশের টাকা বাইরে নিতে যাদের সহযোগিতা লাগে, আগে তাদের চিহ্নিত করতে হবে। চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের দেওয়া কিছু বিবরণের ভিত্তিতে কোম্পানি গড়ে তুলে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে টাকা বিদেশে পাচার করা হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে দুর্নীতির তদন্ত পাঁচ বছরেও শেষ না হওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, 'দুদক কোনো বিচারকারী প্রতিষ্ঠান নয়। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুতই আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের উদ্যোগ নেওয়া হবে।'
তিনি জানান, ১৭৭২ সাল থেকে হবিগঞ্জ জেলার সিলিকা বালু লুট হয়ে আসছে। এ বিষয়ে সবার সোচ্চার থাকা জরুরি।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, 'দুর্নীতির কারণে সুশাসন সংকটে পড়ে। আর এ ধরনের অনিয়মের মদদদাতা হিসেবে অনেক সময় রাজনীতিবিদদের ভূমিকা থাকে। দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোরদের নির্বাচিত করলে এমন সংকট আসবে। কাজেই দুর্নীতিবাজকে ভোট দেওয়া যাবে না।'


Comments