ঝামেলা ছাড়াই নির্বাচন হবে, আশা মির্জা ফখরুলের

সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: কামরুল ইসলাম রুবাইয়াত/স্টার

কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই ছাব্বিশের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির হলরুমে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ এখন একটা গণতন্ত্র উত্তরণের পথে যাচ্ছে। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ঘোষণা করেছে। বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দেশে একটা নির্বাচনের আবহাওয়া সৃষ্টি হয়েছে। সুতরাং আমরা অত্যন্ত আশাবাদী, কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই ছাব্বিশের ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে বা মধ্য সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা মনে করি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যথেষ্ট উপযোগী আছে, ভালো আছি। এখন এমন কোনো পরিস্থিতি নাই, যেখানে নির্বাচন ব্যাহত হবে।

কয়েকটি আসনে বিএনপির প্রার্থী বদলের দাবিতে আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি একটি বিশাল রাজনৈতিক দল, এটা একটা স্রোতস্বিনী নদীর মতো, এখানে কিছু তো সমস্যা হবে। এটা বরাবরই হয়ে আসছে, এটা কোনো সমস্যা না। এতে বোঝা যায় বিএনপি একটা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন,গণঅভ্যুত্থানের পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাংবিধানিক পরিবর্তন, রাষ্ট্রীয় কাঠামো পরিবর্তনের জন্য ছয়টি কমিশন তৈরি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংস্কার কমিশন। এই প্রথম দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের প্রস্তাব করা হয়েছে। আপার হাউস, লোয়ার হাউস—এ ব্যবস্থায় আমরা খুব একটা পরিচিত না। তবে আমরা একমত হয়েছি। আমরা মনে করেছি, এই ব্যবস্থাটা একটা চেক অ্যান্ড ব্যাল্যান্স তৈরি করবে। লোয়ার হাউস এককভাবে ক্ষমতাশালী হবে না। আবার আপার হাউসে চেক অ্যান্ড ব্যাল্যান্স থাকবে।

'আমরা অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, এক ব্যক্তি যদি বেশি দিন ক্ষমতায় থাকেন, তাহলে তিনি কর্তৃত্ববাদী হয়ে যান। এ কারণে আমরা একমত হয়েছি, দুই টার্মের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে এসেছি। বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করার কথা বলেছি। এসব বিষয় নিয়ে রাজনীতিতে কোয়ালিটি অব চেঞ্জ নিয়ে আসছে। এসব পরিবর্তনের মধ্যে আসতে গিয়ে কিছু বাধা তো থাকবেই।'

তিনি বলেন, আমরা ইতিহাসের ক্রান্তিলগ্নে আছি। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছে। আমরা অনেকেই একসঙ্গে যুদ্ধ করেছি। তারপর যে পরিবর্তনটা হয়েছে, তা ম্যাজিক, অনেক বড় পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের মধ্যে আজ নতুন প্রজন্মকে স্বীকার করে নিতে হবে। নতুন ধারণাকে স্বীকার করতে হবে। নতুন চিন্তাগুলোকে কাছে নিতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা বয়স্করা বলি—ছেলেরা এসব কী বলছে? এমন কথা বললে আমাদের হবে না। ছেলেরা কী বলছে, তা বোঝার চেষ্টা করতে হবে, এটা নিউ জেনারেশন। তাদের কথা আর আমাদের কথা এক হবে না। এটা বুঝে, তাদের সঙ্গে যদি আমরা এগোতে পারি, তাহলে একটা সমন্বয় ঘটানো যাবে। আজ এই জায়গাতেই কিছু সমস্যা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এনসিপি নামে ছেলেদের একটা দল হয়েছে, কমপ্লিটলি ইয়াং ভয়েজ। আমাদের উচিত এ ধরনের ইয়াং ছেলেদের স্বাগত জানানো। কারণ, আমাদের পরে নিউ জেনারেশন প্রকৃত অর্থে দেশকে কিছু দিতে পারবে।

ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল, আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মকদুম সাব্বির মৃদুল প্রমুখ। 

Comments

The Daily Star  | English
Bangladesh's remittance earning in 2025

Highest ever remittance came in 2025

Migrants sent home $32.8 billion in the just-concluded year

1h ago