পুলিশ-প্রশাসনে রদবদল নিয়ে অসন্তুষ্ট বিএনপি

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নির্বাচনের আগে পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক রদবদলের পেছনে স্বচ্ছতা, সময়কাল এবং উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা বলেছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই এই রদবদল অস্বাভাবিক। তারা সরকারের কাছে এর ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

বুধবার সরকার ম্যানুয়াল লটারির মাধ্যমে ৬৪টি জেলায় এসপি পদায়ন করে এবং ১৬৬ উপজেলায় নতুন ইউএনও নিয়োগ দেয়। সম্প্রতি ৫০ জন নতুন ডিসিও নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, লটারি লোক দেখানো। তালিকা তৈরির সময় 'বিশেষ আনুগত্য' সম্পন্ন কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছিল। তারা বলেছেন, 'একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা আদর্শের' প্রতি অনুগত কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় নির্বাচনে ডিসিরা রিটার্নিং অফিসার হিসেবে কাজ করেন এবং অনেক ইউএনও সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে কাজ করেন। তবে, নির্বাচন কমিশন এখনও ঘোষণা করেনি যে এবার কারা রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

লটারির কথা উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, 'একটি দল দাবি করেছিল কয়েকদিন আগে, হয়তো তাদের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার করেছে। কতটা সুবিবেচিত ও ন্যায্য হয়েছে সেটা পর্যালোচনার দাবি রাখে।'

স্থায়ী কমিটির চার সদস্য দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, নির্বাচনের আগে প্রশাসনে নিরপেক্ষতা অপরিহার্য এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক বিবেচনার ভিত্তিতে নয়, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে নিয়োগ করতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য প্রশাসনিক কার্যক্রমকে বিতর্কমুক্ত রাখতে হবে।

বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, 'এত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার জন্য লটারি প্রকৃত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার সঠিক উপায় নয়।'

১৯ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের সংলাপের সময় জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বদলির জন্য লটারি-ভিত্তিক ব্যবস্থার প্রস্তাব করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য সতর্ক করেন, লটারির মাধ্যমে বদলি হলে এমন অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র থাকা আসনে পোস্টিং পেতে পারেন, যারা সেসব এলাকার পরিস্থিতি সামলানোর মতো প্রস্তুত নন। 'এতে আগামী নির্বাচনের জন্য ঝুঁকি আরও বাড়বে।'

বিএনপি নেতারা বলেছেন, ডিসি, ইউএনও এবং এসপিদের রদবদল 'পূর্বপরিকল্পিত কৌশলের অংশ'। তারা উল্লেখ করেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আগের বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিদল জোর দিয়ে বলেছিল, নির্বাচনের দায়িত্বে নিযুক্ত কর্মকর্তাদের অবশ্যই নিরপেক্ষ থাকতে হবে।

তারা বলছেন, তফসিল ঘোষণার ঠিক আগে সরাসরি নির্বাচনের দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের রদবদল 'কেবল অস্বাভাবিকই নয় বরং নির্বাচনের পরিবেশ সম্পর্কে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।'

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নিয়োগ 'ভোট শুরু হওয়ার আগেই' প্রশাসনকে পক্ষপাতদুষ্ট করে তুলতে পারে।

স্থায়ী কমিটির অন্য আরেক সদস্য বলেন যে, অতীতের সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড বা রাজনৈতিক ঝোঁকসম্পন্ন কর্মকর্তাদের অনেক জেলায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ আরও গভীর করে তুলেছে।

বিএনপি মনে করছে, সরকার নির্বাচনি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে একটি দলের অনুকূলে মাঠ প্রশাসন সাজাচ্ছে।

নেতারা বলেন, নির্বাচনের নিরাপত্তা, প্রশাসন, ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা এবং আচরণবিধি প্রয়োগ সবকিছুই এসপি, ডিসি এবং ইউএনওদের ওপর নির্ভর করে। 'যদি সন্দেহজনক কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা হয়, তাহলে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক বাড়তে পারে,' বলেন বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা।

স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য বলেন, সরকার এই বদলি এবং নিয়োগের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিক। তারা বলেন, প্রকৃত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে রদবদলের কারণ, মান ও পদ্ধতি প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায়, নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনসাধারণের অনাস্থা বাড়বে।

স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, 'আমরা দলীয় সভায় বিষয়টি উত্থাপন করব।'

Comments

The Daily Star  | English
Khaleda Zia political legacy in Bangladesh

The magic of Khaleda Zia

Her last speeches call for a politics of ‘no vengeance’.

1d ago