সেন্টমার্টিনে পর্যটন মৌসুম শুরু, প্রথম দিনে গেলেন নির্ধারিত সংখ্যার অর্ধেক

ছবি: স্টার

বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটন মৌসুম শুরু হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন দুই হাজার মানুষ দ্বীপে যাওয়ার সুযগ পেলেও প্রথম দিনে গেছেন প্রায় অর্ধেক।

আজ সোমবার সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে তিনটি জাহাজ নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট ছেড়ে যায়। এর মধ্য দিয়ে কয়েক মাসের নিষেধাজ্ঞার পর টেকনাফ থেকে দ্বীপের মধ্যে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হলো।

সরকারি ১২ দফা নির্দেশনা মেনে জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ট্যুরিস্ট পুলিশের কড়া তল্লাশি শেষে জাহাজে ওঠেন ১ হাজার ১৭৪ জন পর্যটক। দীর্ঘ বিরতির পর দ্বীপে যেতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তারা।

সি ক্রুজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর জানান, চলাচলের জন্য ছয়টি জাহাজ অনুমোদন পেলেও আজ তিনটি জাহাজ ছেড়ে গেছে। তিনি বলেন, সরকারিভাবে দিনে দুই হাজার পর্যটক যাতায়াতের অনুমতি থাকলেও স্কুলে পরীক্ষা ও অন্যান্য কারণে আজ ১ হাজার ১৭৪ জন পর্যটক গেছেন। এর মধ্যে 'কর্ণফুলী' ও 'বার আউলিয়া' জাহাজ দুটি প্রায় ৯৫০ জন যাত্রী নিয়ে পূর্ণ ধারণক্ষমতায় ছেড়ে গেছে। যাত্রী সংকটের কারণে অন্য জাহাজগুলো আজ চলাচল করবে না।

হোসাইনুল ইসলাম আরও জানান, অনুমোদিত অন্য জাহাজগুলোও পর্যায়ক্রমে চলাচল শুরু করবে। তাদের জাহাজে আগামী ৫ থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।

এদিকে সরকারি অনুমোদনকৃত ট্রাভেল পাস ছাড়া টিকিট বিক্রির দায়ে 'কেয়ারি সিন্দাবাদ' জাহাজকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নীলুফা ইয়াসমিন। এ বিষয়ে কেয়ারি গ্রুপের পরিচালক আবদুল্লাহ আল সাইদ বলেন, যাত্রীরা শেষ মুহূর্তে ফিরতি টিকিট নিয়ে ঘাটে এসেছিলেন, কিন্তু তাদের যাওয়ার টিকিট ছিল না। সকাল সাতটায় সার্ভার জটিলতার কারণে কিউআর কোডসহ পাস ইস্যু করা সম্ভব হচ্ছিল না।

যাত্রীদের সহযোগিতা করতে গিয়েই জরিমানার মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে জাহাজগুলো সেন্টমার্টিনে পৌঁছাবে বলে জানান হোসাইনুল ইসলাম। দ্বীপের স্থানীয় রিসোর্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহেল জানান, পর্যটকদের স্বাগত জানাতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত।

ঘাট পরিদর্শনে গিয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান বলেন, 'আজ থেকে পর্যটকরা সেন্টমার্টিনে রাত্রীযাপন করতে পারবেন। টিকিট ও ট্রাভেল পাস অনলাইনেই কাটতে হবে। দৈনিক পর্যটকের সংখ্যা যাতে নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকে, তা নিশ্চিত করতে প্রবেশপথে কিউআর কোড স্ক্যান করা হচ্ছে।'

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেন, জাহাজগুলো কঠোর নজরদারিতে থাকবে এবং দিনে দুই হাজারের বেশি পর্যটক যেতে দেওয়া হবে না। এ জন্য নুনিয়ারছড়া ও সেন্টমার্টিন ঘাটে আলাদা চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

দ্বীপের প্রতিবেশ রক্ষায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় গত ২২ অক্টোবর ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে একটি পরিপত্র জারি করে। চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দ্বীপে পর্যটন বন্ধ ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যটকরা যাতায়াত করতে পারবেন। তবে দিনে সর্বোচ্চ ২ হাজার পর্যটক যেতে পারবেন এবং রাত্রীযাপন করা যাবে শুধু ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুমোদিত জাহাজ ছাড়া অন্য কোনো জলযানে যাতায়াত করা যাবে না। কিউআর কোডসহ টিকিট ছাড়া ভ্রমণ নিষিদ্ধ। সৈকতে রাতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দে গান বাজানো বা বারবিকিউ পার্টি করা যাবে না। কেয়া বনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা কেনাবেচা নিষিদ্ধ থাকবে। এ ছাড়া সামুদ্রিক কচ্ছপ, পাখি, প্রবাল, কাঁকড়া বা ঝিনুক- শামুকের ক্ষতি করা যাবে না। সৈকতে মোটরযান চলাচল নিষিদ্ধ। পর্যটকদের পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন না করতে এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

Comments

The Daily Star  | English

Highest ever remittance came in 2025

Migrants sent home $32.8 billion in the just-concluded year

33m ago