বিএনপির মাথাব্যথা এখন বিদ্রোহী প্রার্থী

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিকে দুই দিক থেকে লড়তে হতে পারে। প্রথমত প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর সঙ্গে, দ্বিতীয়ত দলের ভেতরের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে। এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিএনপির ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

সতর্কবার্তা ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও বহু নেতা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে দলটির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ক্রমে বাড়ছে।

ইতোমধ্যে বিএনপির ১৯০ জনের বেশি বিদ্রোহী প্রার্থী ১১৫টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির ঐতিহ্যগতভাবে পরিচিতি শক্ত ঘাঁটি থেকে শুরু করে রাজধানীর আসনও আছে।

তবে বিএনপি নেতারা দাবি করছেন, সবাই বিদ্রোহী নন। সম্ভাব্য ঝুঁকি মাথায় রেখে বিএনপি ১৫টির বেশি আসনে বিকল্প প্রার্থী প্রস্তুত রেখেছে। কারণ খেলাপি হওয়া, মামলা-মোকদ্দমা কিংবা অন্যান্য জটিলতায় মূল প্রার্থীরা বাদ পড়তে পারেন।

এছাড়া কিছু প্রার্থীর অসুস্থতা বা বয়সজনিত কারণ বিবেচনায় রেখে তাদের বিকল্প রাখা হয়েছে। আর কোনো কারণে মূল প্রার্থী বাদ পড়লে, সেই বিকল্প প্রার্থীকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

অন্যদিকে বিদ্রোহীদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। দলটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা নির্বাচন করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে জোটসঙ্গীদের জন্য ছেড়ে দেওয়া আসনে মনোনয়ন জমা দেওয়ায় নয় নেতাকে বহিষ্কারও করেছে দলটি।

দলীয় সূত্র জানায়, অনেক নেতা অফিসিয়াল তালিকার বাইরে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা যদি ২০ জানুয়ারির মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহার না করেন, তাহলে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার হওয়ার পাশাপাশি সদস্যপদও বাতিল হতে পারে।

এ ছাড়া জোটসঙ্গীদের জন্য ছেড়ে দেওয়া আসনে কোনো নেতা যদি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন, সে ক্ষেত্রেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এমন পরিস্থিতিতে দল জোটসঙ্গীদের আশ্বাস দিয়েছে যে, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে তিনি বলেন, যদি বহিষ্কৃত নেতারা নিজেরাই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন, তাহলে দল বহিষ্কারের আদেশও পুনর্বিবেচনা করে প্রত্যাহার করতে পারে।

আগামী ২০ জানুয়ারি মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন উল্লেখ করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স আরও কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে থাকেন, তাহলে ক্ষমার কোনো সুযোগ থাকবে না। প্রয়োজনে দল আজীবন বহিষ্কারের সিদ্ধান্তও নিতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি নয় নেতাকে বহিষ্কার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

তারা হলেন– বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহ আলম, হাসান মামুন, আব্দুল খালেক, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক তারুণ দে, ঢাকা উত্তর সিটি বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব, সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশীদ,  বাঞ্চারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহদি হাসান পলাশ।

বিদ্রোহী প্রার্থীরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে রুমিন ফারহানা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, যদিও বিএনপি এই আসন জামিয়াত উলামায়ে ইসলামের জুনায়েদ আল হাবিবের জন্য ছেড়ে দিয়েছে।

রুমিন ফারহানা ডেইলি স্টারকে বলেন, গত ১৭ বছর ধরে আমি জনগণের অধিকার নিয়ে লড়াই করেছি। আমি আমার প্রচারণা চালিয়ে যাব এবং ভোটারদের বলব, ভোটের মাধ্যমে তাদের মতামত তুলে ধরুক।

ঢাকা-১২ আসনে সাইফুল আলম মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, যদিও বিএনপি আসনটি বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের জন্য ছেড়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, আমি আমার এলাকার মানুষ ও দলের কর্মীদের অগ্রাধিকার দিয়েছি। আমি নির্বাচনে লড়ব।

সিলেট-৫ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মামুনুর রশীদ, যেখানে আসনটি জামিয়াত উলামায়ে ইসলামের সভাপতি উবাইদুল্লাহ ফারুকের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০০৮ ও ২০১৮ সালে তাকে বিএনপির টিকিট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আসনটি জোটসঙ্গীদের জন্য দেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, আমি আমার এলাকার মানুষের জন্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। দলের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই, এখন শুধু নির্বাচনের ওপর মনোযোগ দিচ্ছি।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, যদিও আসনটি জামিয়াত উলামায়ে ইসলামের জন্য রাখা হয়েছে।

ভোলা-১ আসনটি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমানে পার্থের জন্য ছেড়ে দেওয়া হলেও বিএনপির গোলাম নবী আলমগীর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে বিএনপির পাঁচ নেতা নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, যদিও আসনটি গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকির জন্য রাখা হয়েছে।

পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। যদিও আসনটি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হকের জন্য ছাড়া হয়েছে।

অন্যান্য আসনেও বিদ্রোহীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। যেমন নাটোর-১, ঝালকাঠি-১, কিশোরগঞ্জ-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ প্রতি আসনে চারজন করে; রাজশাহী-৫, পঞ্চগড়-২  প্রতি আসনে তিনজন করে এবং বাগেরহাট-১, বাগেরহাট-২, চট্টগ্রাম-১৪, কুষ্টিয়া-৪ প্রতি আসনে দু'জন করে।

Comments

The Daily Star  | English

Is NEIR a surveillance tool?

At its core, NEIR is a national database that records the identity of mobile phones and links them to SIM (Subscriber Identity Module) cards.

11h ago