‘বাংলাদেশের দরকার বিস্ফোরক হিটার’
দুইবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য স্যামুয়েল বাদ্রি বিশ্বাস করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে উত্থান ঘটেছে তাদের বোলিং গভীরতা বাড়ার কারণে এবং রিশাদ হোসেনের আবির্ভাবের ফলে। সাবেক এই লেগ-স্পিনারের মতে, বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গেলে বাংলাদেশকে খুঁজে পেতে হবে লোয়ার অর্ডারে বিস্ফোরক ব্যাটার।
দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকারে বাংলাদেশের অগ্রগতি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনের বিপক্ষে সংগ্রাম এবং আগামী বছরের আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে দুই দলকেই কী বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে তা নিয়ে কথা বলেছেন।
বাংলাদেশে ধারাভাষ্যকার হিসেবে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?
স্যামুয়েল বাদ্রি: হ্যাঁ, ধারাভাষ্যকার হিসেবে আমি এবারই প্রথম এসেছি। এর আগে খেলোয়াড় হিসেবে এসেছিলাম। দারুণ উপভোগ করছি। ওয়ানডে সিরিজে যেমন ক্রিকেট দেখেছি, টি-টোয়েন্টি সিরিজের শুরুটাও বেশ উপভোগ্য ছিল।
আপনি নিজেও সফল লেগ-স্পিনার ছিলেন। রিশাদ হোসেনকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
বাদ্রি: হ্যাঁ, আমি তাকে গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দেখেছি, এবং এখানেও দেখছি সে দারুণ উন্নতি করছে। তার বলের নিয়ন্ত্রণ অসাধারণ—এটাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। সে বল বেশি টার্ন করায় না, বৈচিত্র্যও খুব বেশি নয়, কিন্তু তার রিলিজ পয়েন্ট উঁচু এবং স্টাম্প আক্রমণ করার প্রবণতা বেশি। যদি সে নিয়মিতভাবে গুগলি ব্যবহার করতে পারে এবং তাতে আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, তবে আরও ভালো বোলার হয়ে উঠবে। এখন পর্যন্ত যা করেছে, তা চমৎকার। বাংলাদেশের মানসম্পন্ন রিস্ট-স্পিনার খুব একটা ছিল না, অথচ বিশ্বসেরা দলগুলোর কাছে এটাই শক্তি। রিশাদ সেই ঘাটতি পূরণ করছে, এবং আশা করি এটা দীর্ঘদিন চলবে।
বাংলাদেশ সম্প্রতি টি-টোয়েন্টিতে বেশ কিছু দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ জিতেছে, আপনার কি মনে হয় এখন বিশ্বকাপে হুমকি হয়ে উঠতে পারে তারা?
বাদ্রি: অবশ্যই, তারা সাম্প্রতিক সময়ে অসাধারণ করছে। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ঘরের মাঠে ৩-০ তে হারিয়েছে, আফগানিস্তানকেও ৩-০ তে হারিয়ে এসেছে। আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হবে শ্রীলঙ্কা ও ভারতে—তাদের পরিচিত কন্ডিশন। সেক্ষেত্রে তারা কিছু বড় দলের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। পুরোটা জেতার মতো সক্ষমতা আছে কি না, তা সময় বলবে। তবে তাদের বর্তমান ফর্ম, কন্ডিশনের সঙ্গে পরিচিতি, এবং আত্মবিশ্বাস বিবেচনায় কিছু অঘটন ঘটাতে পারে বলেই আমি মনে করি।
তাদের তরুণ ক্রিকেটাররা এখন নিজেদের ভূমিকা বুঝে খেলছে। দারুণ একটি বোলিং ইউনিট আছে—মোস্তাফিজ অনেক দিন ধরেই অসাধারণ, রিশাদও এখন বড় অবদান রাখছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সাম্প্রতিক সময়ে টি-টোয়েন্টিতে ভয়াবহ সময় পার করছে। কোথায় সমস্যা, সমাধান কী হতে পারে?
বাদ্রি: তারা গত কয়েক মাসে ১৫ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ৩টি জিতেছে—খুবই খারাপ রেকর্ড। ধীর ও টার্নিং উইকেটে তারা সবসময় সংগ্রাম করে। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এমন অবস্থায় হেরেছে। তাই এই সিরিজ তাদের জন্য বড় সুযোগ, যাতে তারা স্পিনে নিজেদের উন্নতি প্রমাণ করতে পারে এবং আত্মবিশ্বাস ফিরে পায়।
তারা স্ট্রাইক রোটেট করতে পারে না, ছক্কা বা ডট বল—এই দুইয়ের মধ্যে আটকে যায়। এর ফলে বড় সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়। তাদের ব্যাটিং পদ্ধতিতে ভারসাম্য দরকার—বাউন্ডারির পাশাপাশি সিঙ্গেল, ডাবল, ট্রিপল নেওয়ার অভ্যাস গড়তে হবে।
বোলিংয়েও তাদের সমস্যা আছে, বিশেষ করে ডেথ ওভারে। নির্ভরযোগ্য ইয়র্কার বা স্লোয়ার বল ছোড়ার মতো বোলার দরকার। রামন সিমন্স বা ওবেড ম্যাককয় ফিরলে সেটা সমাধান হতে পারে। ব্যাটিং-বোলিংয়ে ভারসাম্য এলে তারা আবার প্রতিযোগিতামূলক হতে পারবে।
শেষবার যখন ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হয়েছিল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এবারও কি তারা সক্ষম?
বাদ্রি: দশ বছর অনেক সময়। তখনকার বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই এখন নেই। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপে তাদের পারফরম্যান্স হতাশাজনক। তাই বাস্তবসম্মতভাবে বলতে গেলে তারা এখন ফেভারিট নয়। তাদের একটি পরিষ্কার রোডম্যাপ ও পরিকল্পনা দরকার—কীভাবে সফল হবে, কোন ভূমিকায় কে খেলবে—এসব ঠিক করতে হবে। তবে হ্যাঁ, সঠিক পরিকল্পনায় তারা এখনো বড় দলগুলোর চ্যালেঞ্জ নিতে পারে।
আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী—পূর্ণকালীন ধারাভাষ্যকার, না আবার কোচিংয়ে ফিরবেন?
বাদ্রি: প্রশ্নটা আমাকে অনেকেই করে। দুটোই আমার পছন্দ। ধারাভাষ্যে নতুন এক দৃষ্টিকোণ পাওয়া যায়, পারফরম্যান্সের চাপ কম থাকে। কিন্তু কোচিংয়েও আনন্দ আছে, কারণ তখন সরাসরি খেলোয়াড়দের উন্নতিতে ভূমিকা রাখা যায়। তাই দুটোকেই সমানভাবে উপভোগ করি। যেটার ডাক পাব, সেটাই করব—পুরোপুরি মন দিয়ে।


Comments