‘এই দল থেকেই মিলবে আগামীর রোমাঞ্চকর ক্রিকেটার’
শুক্রবার পাকিস্তানের কাছে আট উইকেটের সেমিফাইনাল হারে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ মিশন হতাশায় শেষ হয়েছে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে টানা দুবার শিরোপা জেতার পর এই প্রথম গত তিন বছরের মধ্যে জুনিয়র টাইগাররা ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হলো। তবে প্রধান কোচ নাভিদ নেওয়াজ এই হারকে জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠেয় আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আগে একটি সময়োপযোগী বাস্তব শিক্ষা হিসেবে দেখছেন। ১৫ জানুয়ারি থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ লড়বে কঠিন গ্রুপ 'এ'-তে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র। এই লঙ্কান কোচ এশিয়া কাপের সফর, বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এবং আরও অনেক বিষয়ে কথা বলেছেন দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে।
এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
নাভিদ নেওয়াজ: আফগানিস্তান সিরিজ, এশিয়া কাপ, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলার এই কঠিন পথচলা শেষে বিশ্বকাপের আগে আমি এটিকে ছেলেদের জন্য একটি ভালো শিক্ষার প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছি। এটিই ভবিষ্যৎ গড়ে দেয়। আশা করি আমরা পর্যাপ্ত শিক্ষা নিয়েছি। সব মিলিয়ে ছেলেরা তাদের সেরাটা দিয়ে খেলেছে, তাই কোনো আক্ষেপ নেই।
বাংলাদেশ ইদানীং প্রায় সবকিছুই জিতছিল; আপনি কি মনে করেন এই হার বিশ্বকাপের আগে আত্মতুষ্টি রোধ করতে সাহায্য করবে?
নাভিদ নেওয়াজ: আপনি বিষয়টি সেভাবেও দেখতে পারেন। তারা জানে পরিস্থিতি এখন কঠিন। জিম্বাবুয়েতে (নামিবিয়ার সঙ্গে যৌথ আয়োজক) বিশ্বকাপও চ্যালেঞ্জিং হবে কারণ তখন সেখানে বর্ষাকাল থাকবে। সব মিলিয়ে, গত দুই বছরে এই ছেলেরা যেভাবে পরিপক্ক ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে উঠেছে তাতে আমি খুশি। আমি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী যে এই দল থেকেই দেশের জন্য বেশ কিছু রোমাঞ্চকর ক্রিকেটার বেরিয়ে আসবে।
এশিয়া কাপের সময় টপ-অর্ডারের তুলনায় মিডল-অর্ডার থেকে পর্যাপ্ত রান বা ভালো ফিনিশিং দেখা যায়নি। বিশ্বকাপের আগে এটি কি চিন্তার বিষয়?
নাভিদ নেওয়াজ: আসলে তা নয়। আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ২৮৪ রান তাড়া করতে মিডল-অর্ডার যা করার প্রয়োজন ছিল তা-ই করেছে। এরপর টুর্নামেন্টের সূচি এমন ছিল যে প্রতিদিন খেলা থাকায় এবং পিচে পর্যাপ্ত পানি না দেওয়ায় উইকেটগুলো ধীরগতির ও স্পিন-সহায়ক হয়ে পড়েছিল। টুর্নামেন্ট যত গড়িয়েছে, সংগ্রহের পরিমাণ তত কমেছে। শুধু আমাদের জন্য নয়, সব দলের জন্যই পুরনো বলে খেলা কঠিন ছিল। তাছাড়া রিজান (হোসেন) অসুস্থ ছিল। সে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জ্বর নিয়ে খেলেছে এবং সেমিফাইনালে নামতে পারেনি। আমাদের অন্যতম প্রধান অলরাউন্ডারকে ছাড়া খেলাটা ছিল এক বড় ধাক্কা। তাই আমি বলব, কিছু বিষয় আমাদের পক্ষে যায়নি।
আপনারা কি বিশ্বকাপের দল চূড়ান্ত করেছেন? এশিয়া কাপের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই কি সেখানে থাকছেন?
নাভিদ নেওয়াজ: সেটি করার জন্য আমাদের হাতে এখনো সময় আছে। কৌশলগত কোনো পরিবর্তন না আনলে এশিয়া কাপের এই দলের সবাই সেখানে থাকবে।
আগামী মাসের মূল আসরের আগে এটিই ছিল আপনাদের শেষ টুর্নামেন্ট। বিশ্বকাপের সামগ্রিক প্রস্তুতিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
নাভিদ নেওয়াজ: প্রস্তুতি ভালো ছিল, যদিও আমরা কিছু ইনজুরি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। পেসার ফাহাদ (আল) বর্তমানে ইনজুরির কারণে বাইরে আছে এবং ইমন (ইকবাল হোসেন) আগে বাইরে থাকলেও এখন ফিট। আমরা আমাদের প্রায় ৭০ শতাংশ ম্যাচ জিতেছি, তাই এটি একটি মিশ্র অভিজ্ঞতা এবং ভালো একটি শিক্ষার প্রক্রিয়া।
জিম্বাবুয়েতে আমরা খুব কঠিন এক গ্রুপে আছি। আপনি কি মনে করেন দল ২০২০ সালের মতো সাফল্য আবার ফিরিয়ে আনতে পারবে?
নাভিদ নেওয়াজ: আগে থেকে কিছু বলা কঠিন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সবাই যেন ফিট, সুস্থ এবং ভালো ছন্দে থাকে। দক্ষতার দিক থেকে আমরা অনেক কাজ করেছি এবং এই দলের সামর্থ্য গড়ে তুলেছি যাতে তারা যেকোনো পরিস্থিতি সামলাতে পারে।


Comments