রশিদকে ছাড়িয়ে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি উইকেটের রেকর্ড হোল্ডারের
২০২৫ সালটি স্মরণীয় করে রাখলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার জেসন হোল্ডার। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক পঞ্জিকাবর্ষে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়লেন তিনি। আফগানিস্তানের লেগ স্পিনার রশিদ খানের কীর্তি ভেঙে এখন তিনি তালিকার শীর্ষে।
রোববার আইএল টি-টোয়েন্টির ম্যাচে এই রেকর্ডের মালিক হন হোল্ডার। দুবাইতে আবুধাবি নাইট রাইডার্সের হয়ে গালফ জায়ান্টসের বিপক্ষে ২৪ রানে ২ উইকেট শিকার করেন তিনি। ফলে টি-টোয়েন্টিতে এ বছর খেলা ৬৯ ম্যাচে তার মোট উইকেট সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৭টি। তার বোলিং গড় ২১.৪২ ও ইকোনমি রেট ৮.৩১। আগের রেকর্ডের অধিকারী রশিদ ২০১৮ সালে ৬১ ম্যাচে নিয়েছিলেন ৯৬টি উইকেট।
ম্যাচটি শুরুর আগে রশিদের চেয়ে এক উইকেটে পিছিয়ে ছিলেন ৩৪ বছর বয়সী হোল্ডার। অধিনায়ক হিসেবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে ৩২ রানের জয় পাইয়ে দেন তিনি। এতে ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে চলমান টুর্নামেন্টে গালফকে টপকে পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে আবুধাবি। তারা জায়গা করে নিয়েছে নকআউট পর্বে।
২০২৫ সালে হোল্ডারের এই উইকেটগুলো এসেছে বিশ্বের পাঁচটি ভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগের পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দল ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় দলের জার্সিতে। এক নজরে এ বছর তার উইকেটের পরিসংখ্যান:
আবুধাবি নাইট রাইডার্স (আইএল টি-টোয়েন্টি): ১৮ ম্যাচে ২৯ উইকেট
ইসলামাবাদ ইউনাইটেড (পিএসএল): ৮ ম্যাচে ১৫ উইকেট
খুলনা টাইগার্স (বিপিএল): ২ ম্যাচে ০ উইকেট
লস অ্যাঞ্জেলেস নাইট রাইডার্স (মেজর লিগ ক্রিকেট): ৯ ম্যাচে ৯ উইকেট
সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টস (সিপিএল): ১০ ম্যাচে ১৩ উইকেট
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২২ ম্যাচে ৩১ উইকেট
সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতে হোল্ডার ডেথ ওভারে (১৭-২০) একজন কার্যকর বোলার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন। চাপের মুখে নিয়ন্ত্রিত বোলিং তাকে আগের চেয়ে অনেক বেশি উইকেট এনে দিচ্ছে। ২০২৫ সালে তিনি ডেথ ওভারেই ৪৫টি উইকেট নিয়েছেন, যা অন্য যে কোনো ক্রিকেটারের চেয়ে বেশি।
এ বছর হোল্ডারের কাছাকাছি ছিলেন কেবল আফগানিস্তানের বাঁহাতি স্পিনার নূর আহমেদ। তিনি ৬৪ ম্যাচে ৮৫টি উইকেট নিয়ে ২০২৫ সাল শেষ করেছেন। এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা পাকিস্তানের পেসার হাসান আলীর উইকেট ৩৫ ম্যাচে ৭১টি।
বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিং দক্ষতার কারণে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে হোল্ডারের চাহিদা অনেক বেড়েছে। কিছুদিন আগে আইপিএলের খেলোয়াড় নিলামেও সেটার প্রমাণ মিলেছে। ২ কোটি রুপি ভিত্তিমূল্য থাকলেও চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে তীব্র লড়াই করে ৭ কোটি রুপিতে তাকে দলে নিয়েছে গুজরাট টাইটান্স।


Comments