ইতালিকে ঝুঁকিতে ঠেলে দিয়ে বিশ্বকাপে ফিরল হালান্ডের নরওয়ে

ছবি: এএফপি

প্রায় অসম্ভব এক সমীকরণ ছিল ইতালির সামনে। দরকার ছিল নয় গোলের বিশাল ব্যবধান রেখে জয়। কিন্তু প্রথমার্ধের শুরুতে এগিয়ে যাওয়া দলটি আর জাল খুঁজে না পেয়ে দ্বিতীয়ার্ধে উল্টো পড়ল মুখ থুবড়ে। ভীষণ ছন্দে থাকা আর্লিং হালান্ড করলেন জোড়া গোল। তার নৈপুণ্যে দুর্দান্ত জয়ে দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষা শেষে বিশ্বকাপে ফিরল নরওয়ে।

রোববার রাতে ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইপর্বের শেষ রাউন্ডের ম্যাচে নিজেদের মাঠে পাত্তা পায়নি ইতালি। চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে নরওয়ে। গত জুনে দুই দলের আগের দেখায় ঘরের মাঠেও ৩-০ গোলের দাপুটে জয় পেয়েছিলেন হালান্ডরা।

আট ম্যাচের সবকটিতে জিতে এবারের বাছাই শেষ করেছে নরওয়ে। পূর্ণ ২৪ পয়েন্ট নিয়ে 'আই' গ্রুপের শীর্ষে তারা। দুইয়ে অবস্থান করা ইতালির পয়েন্ট ১৮। সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা পেতে ব্যর্থ হলেও সুযোগ এখনও শেষ হয়ে যায়নি তাদের। দলটিকে খেলতে হবে প্লে-অফে, যা অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছরের মার্চে। বিস্ময় জাগিয়ে গত দুটি আসরের টিকিট পায়নি তারা। তাই টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে না পারার ঝুঁকিতে রয়েছে আজ্জুরিরা।

তাছাড়া, প্লে-অফে খেলার অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর নয় ইতালির জন্য। প্লে-অফে দুই লেগ মিলিয়ে সুইডেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে ২০১৮ সালের আসরে দর্শক হয়ে থাকে তারা। এরপর প্লে-অফের সেমিফাইনালে উত্তর মেসিডোনিয়ার বিপক্ষে একই ব্যবধানে পরাস্ত হওয়ায় সবশেষ ২০২২ সালের বিশ্বকাপে খেলা হয়নি তাদের।

এই ম্যাচে ইতালির একমাত্র গোলদাতা একাদশ মিনিটে জাল কাঁপানো পিও এসপোসিতো। অন্যদিকে, ১৯৯৮ সালে শেষবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া নরওয়ের সবগুলো গোল আসে বিরতির পর। ম্যাচে লম্বা সময় ধরে নিজের ছায়া হয়ে থাকা হালান্ড হঠাৎ তেতে উঠে পরপর দুই মিনিটে লক্ষ্যভেদ করেন (৭৮ ও ৭৯তম মিনিটে)। তার আগে-পরে জাল খুঁজে নেন অ্যান্টোনিও নুসা (৬৩তম মিনিটে) ও ইয়র্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেন (শেষ বাঁশি বাজার কিছুক্ষণ আগে)।

ছবি: এএফপি

বাছাইপর্বের আট ম্যাচে গোলের বন্যা বইয়ে দিয়েছে নরওয়ে। মোট ৩৭টি গোল করেছে তারা। ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার হালান্ড সবগুলো ম্যাচেই জাল খুঁজে পেয়েছেন। সব মিলিয়ে ১৬টি গোল রয়েছে তার নামের পাশে। এতে ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইয়ের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন তিনি। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ১৬টি গোল করেছিলেন পোল্যান্ডের রবার্ত লেভানদোভস্কিও।

নরওয়ে এর আগে তিনবার খেলেছে বিশ্বকাপের মূলপর্বে— ১৯৩৮, ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ সালে। ফুটবলের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতায় তাদের সেরা সাফল্য ১৯৯৮ সালের আসরের শেষ ষোলোতে ওঠা। সেবার গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ব্রাজিলকে হারিয়ে দিয়েছিল তারা।

Comments

The Daily Star  | English

The magic of Khaleda Zia

Her last speeches call for a politics of ‘no vengeance’

10h ago