রোকেয়া পদক পেয়ে উচ্ছ্বসিত ঋতুপর্ণা
এ বছরের মর্যাদাপূর্ণ রোকেয়া পদক বিজয়ীদের মধ্যে ঋতুপর্ণা চাকমার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের তারকা ফরোয়ার্ড ভীষণ আনন্দিত ও সম্মানিত। দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, এই সম্মাননা তার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অর্জনগুলোর মধ্যে একটি।
গত বছর বাংলাদেশ সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়। চলতি বছর তারা ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো এএফসি নারী এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। দুটোতেই ঋতুপর্ণা দারুণ পারফর্ম করে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। তাকে 'নারী জাগরণ (ক্রীড়া)' বিভাগে পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। গত রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ বছরের রোকেয়া পদকের জন্য ঋতুপর্ণাসহ চার নারীর নাম ঘোষণা করেছে। স্ব স্ব ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদেরকে এই সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পদক পাওয়ার অনুভূতি নিয়ে ঋতুপর্ণা বলেন, 'যে কোনো পুরস্কার বা সম্মাননা আমার জন্য অনেক বড় বিষয়। এটি আমাকে অনেক উৎসাহ দেয়। এই প্রথম কোনো ফুটবলার রোকেয়া পদক পেল, তাই এটা আমার কাছে বিরাট সাফল্য মনে হচ্ছে। আমি খুব, খুব খুশি।'
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস চারজন নারীকে পুরস্কার তুলে দেন। নারী শিক্ষা (গবেষণা) বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন চিকিৎসক রুবহানা রাকিব, নারী অধিকার (শ্রম) বিভাগে সম্মানিত হয়েছেন শ্রমিকনেত্রী কালপনা আক্তার। মানবাধিকার বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন মানবাধিকারকর্মী নাবিলা ইদ্রিস, আর নারী জাগরণ (ক্রীড়া) বিভাগে সম্মাননা পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের সদস্য রিতু পর্না চাকমা।
নারী শিক্ষা ও সমতার পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া শাখাওয়াত হোসেনের নামে নামকরণ করা এই পুরস্কার প্রতি বছরের ৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়া দিবসে প্রদান করা হয়।
সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে পুরস্কার নিতে পারবেন বলে উচ্ছ্বসিত ঋতুপর্ণা, 'আমি খুবই রোমাঞ্চিত। এটি একটি রাষ্ট্রীয় পুরস্কার। তাই এটি আমার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।'
বাংলাদেশে নারী ফুটবলারদের নানা ধরনের সামাজিক বাধার মুখোমুখি হতে হয়। সংগ্রাম করে উঠে আসতে হয় তাদের। এমন বাস্তবতায় ঋতুপর্ণার এগিয়ে চলা অসাধারণ ব্যাপারের চেয়ে কম কিছু নয়। তিনি বলেন, এই স্বীকৃতি শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, 'এই পুরস্কার শুধু আমার একার নয়— এটি বাংলাদেশের সব নারীর জন্য অনুপ্রেরণা। এটি আগামী প্রজন্মের ওপর ভালো প্রভাব ফেলবে।'
একজন খেলোয়াড় কী কী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন জানতে চাওয়া হলে তিনি দেন উতরে যাওয়ার বার্তা, 'জীবনে সবাই বাধার মুখে পড়ে, ছেলে-মেয়ে উভয়েই। আমাদের সবার সেই বাধাগুলো পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।'
ঋতুপর্ণা এখন ঢাকায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ক্যাম্পে আছেন। কারণ সামনে শুরু হবে নারী ফুটবল লিগ। রাঙ্গামাটি থেকে আসা এই লেফট উইঙ্গার নিজের পরিচিতি কাজে লাগিয়ে আরও বড় পরিসরে কাজ করতে চান, 'আমি ইউনিসেফের হয়ে কাজ করছি। ভবিষ্যতে আরও সুযোগ পেলে আমি তা গ্রহণ করব।'
বেগম রোকেয়া পদকের জন্য নির্বাচিত হওয়া সবচেয়ে কমবয়সী নারী ঋতুপর্ণা। তিনি এমন একটি সম্মানজনক তালিকার অংশ হলেন, যে নারীদের অবদান বাংলাদেশের উন্নতিতে সাহায্য করছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উৎসাহ দিচ্ছে।


Comments