সাবিনার 'ব্যাখ্যাতীত' আবেগঘন প্রত্যাবর্তন
দীর্ঘ সময়ের নীরবতা পেরিয়ে আবার লাল-সবুজ জার্সি গায়ে তোলাটা সাবিনা খাতুনের কাছে যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পাওয়ার মতো। বাংলাদেশের জার্সিতে ফেরার এই মুহূর্তে তার অনুভূতি আবেগ, গর্ব আর নতুন দায়িত্ববোধে ভরপুর।
এক বছরেরও বেশি সময় জাতীয় দলের আলোচনার বাইরে থাকার পর পরিচিত সেই জার্সি আবার ফিরছে তার কাঁধে। সাবিনার কাছে এটি কেবল মাঠে ফেরার গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার প্রকৃত অর্থকে নতুন করে উপলব্ধি করার এক গভীর উপলক্ষ।
আগামী ১৩ থেকে ২৫ জানুয়ারি থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নামবেন সাবিনা। গত বছরের জানুয়ারিতে তৎকালীন প্রধান কোচ পিটার বাটলারের সঙ্গে মতবিরোধের পর প্রায় এক বছর নারী ফুটবল দলের বাইরে তিনি। তবে গত ডিসেম্বরে ঘোষিত প্রাথমিক ফুটসাল স্কোয়াডে তাকে অধিনায়ক করে ফেরানো হয়।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে, সেই ঘটনার পর প্রথমবার নিজের অনুভূতির কথা জানান সাবিনা, 'দেশের হয়ে খেলতে পারার অনুভূতিটা আসলে ব্যাখ্যা করা যায় না।'
তার কাছে লাল-সবুজ কেবল একটি জার্সি নয়, এটি সম্মান, ত্যাগ আর দায়িত্বের প্রতীক। দীর্ঘ বিরতির পর আবার সেই জার্সিতে ফেরা তাই তার কাছে আরও বেশি বিশেষ, আরও বেশি আবেগের।
এক মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শেষে ইরানি প্রধান কোচ সাঈদ খোদারাহমি পুরুষ ও নারী দুই দলের স্কোয়াডই ঘোষণা করেছেন। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই পরিবেশ, কোর্ট ও ফুটসাল সুবিধার সঙ্গে মানিয়ে নিতে দলগুলো আগেভাগেই থাইল্যান্ডে যাচ্ছে।
এই প্রস্তুতিকে স্বাগত জানাচ্ছেন সাবিনা। তার মতে, দলটি এখনো ফুটসাল খেলার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে, আর এই বাড়তি সময় সেই অভিযোজনকে আরও মজবুত করবে।
নিয়মিত ফুটবল থেকে ফুটসালে রূপান্তর সাবিনার কাছে এক নতুন, তবে রোমাঞ্চকর চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক ফুটসাল টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি নারী ফুটবলার হিসেবে তার অভিজ্ঞতা এই যাত্রায় বড় শক্তি হয়ে উঠছে। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে ফুটসাল কোর্টে আত্মবিশ্বাসী ও স্বাচ্ছন্দ্য করে তুলেছে বলে মনে করেন তিনি।
এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এটিকে তিনি দেশের জন্য নতুনভাবে অবদান রাখার এক অনন্য সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
'এখন মেয়েরা ফুটসাল সম্পর্কে জানে কীভাবে খেলতে হয়, নিয়মগুলো কী,' আশাবাদী কণ্ঠে বলেন সাবিনা। তার মতে, মাঠের ধরন ও খেলার গতি আলাদা হলেও দল দ্রুত মানিয়ে নিয়েছে এবং ইতিবাচক সম্ভাবনার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অধিনায়ক হিসেবে সাবিনার লক্ষ্য শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়; বরং নিজের নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা ও মানসিক শক্তি দিয়ে পরবর্তী প্রজন্মের মেয়েদের অনুপ্রাণিত করাই তার বড় দায়িত্ব।


Comments