২০২৬ বিশ্বকাপ: কারা এগিয়ে, কারা কতটা ফেভারিট
২০২৬ সালের বিশ্বকাপকে ঘিরে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে উত্তর আমেরিকার তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো আয়োজন করতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর। শুক্রবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ড্রয়ের আগে ফুটবলবিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন, কারা এই বিস্তৃত ও প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় দাবিদার? ইউরোপের দুর্ধর্ষ স্পেন থেকে শুরু করে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, আর দুই ফাইনালের ক্ষত বয়ে বেড়ানো ফ্রান্স, সবাইই তাকিয়ে আছে সোনালি শিরোপার দিকে। শুরু হয়ে গেছে শক্তির ও সম্ভাবনার বড় হিসাব-নিকাশ।
বিশ্বকাপের ড্রয়ের আগে নজর দেওয়া যাক টুর্নামেন্টের শীর্ষ শক্তিগুলোর দিকে। বর্তমান বিশ্ব র্যাঙ্কিং অনুযায়ী তালিকাটি এমন:
স্পেন (র্যাঙ্কিং ১)
ইউরো ২০২৪-এর দারুণ সাফল্যের পর থেকে এখনো পর্যন্ত অপরাজিত স্পেন আসরটির অন্যতম বড় ফেভারিট। লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল যেন নিখুঁতভাবে চলা এক মেশিন। কিশোর প্রতিভা লামিন ইয়ামাল দলের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকা। মাঝমাঠে আরও আছেন ব্যালন ডি'অরজয়ী রদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ, মার্টিন জুবিমেন্দি ও আর্সেনালের মিকেল মেরিনো, যিনি ২০২৫ সালে জাতীয় দলে ১০ ম্যাচে ৮ গোল করেছেন। ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন নেশনস লিগের ফাইনালে পেনাল্টিতে হারের পর বাছাইপর্বে ছয় ম্যাচে ২১ গোল করে অপরাজিতভাবেই বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে।
আর্জেন্টিনা (র্যাঙ্কিং ২)
২০২২ কাতার বিশ্বকাপজয়ী লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন দেখছে। সেটাই হবে তাদের চতুর্থ বিশ্বকাপ। মেসি এবারে ৩৯ বছরে পা দেবেন, আগের মতো উজ্জ্বলতা দেখানো কঠিন হলেও তাকে ঘিরেই এখনো আর্জেন্টিনার আক্রমণ সাজানো। দলটি গত বছর কোপা আমেরিকাও জিতেছে এবং বাছাইপর্বে সহজেই শীর্ষে ছিল। মেসির সঙ্গে আছেন লাউতারো মার্টিনেজ ও জুলিয়ান আলভারেজের মতো গোলমেশিন।
ফ্রান্স (র্যাঙ্কিং ৩)
দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স শেষ সাত বিশ্বকাপের চারটিতেই ফাইনাল খেলেছে, যদিও দুবার পেনাল্টিতে হেরেছে। কোচ দিদিয়ের দেশঁম শেষ আসর হওয়ায় দলটি বাড়তি অনুপ্রেরণা নিয়ে খেলবে। ইউরো ২০২৪-এ গোল করতে না পারার দুর্বলতা কাটিয়ে এবার বাছাইপর্বে অনায়াসে উত্তীর্ণ হয়েছে। নেতৃত্বে রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা কিলিয়ান এমবাপে, সঙ্গে আছেন ব্যালন ডি'অরজয়ী উসমান দেম্বেলে ও বায়ার্ন মিউনিখের মাইকেল অলিস।
ইংল্যান্ড (র্যাঙ্কিং ৪)
দীর্ঘদিনের হতাশার পর গ্যারেথ সাউথগেটের জায়গায় এনে থমাস টুখেলের ওপর ভরসা রাখছে ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালের পর প্রথম শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে দলটি। বাছাইপর্বে আট ম্যাচের সবকটিতে জয়, একটিও গোল হজম করেনি। টুখেল-বেলিংহাম সম্পর্ক নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা থাকলেও দলে প্রতিভার গভীরতা প্রচুর। হ্যারি কেইন দুর্দান্ত ফর্মে, নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ২৫ ম্যাচে ২৯ গোল।
ব্রাজিল (র্যাঙ্কিং ৫)
ফুটবল মানেই ব্রাজিল, এখনো বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীকী দল তারা। তবে ২০০২ সালের পর আর শিরোপা ছুঁয়ে দেখা হয়নি। নতুন কোচ কার্লো আনচেলোত্তির অধীনে ব্রাজিলকে দেখার আগ্রহ বেশি। নেইমার-নির্ভরতা ছাড়াই এবার নতুন করে দল গড়ার চেষ্টা চলছে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র লিগে আগের ফর্মে ফিরতে চান, আর কিশোর প্রতিভা এস্তেভাও নজর কাড়তে পারেন। তবে বাছাইপর্বে পাঁচে থাকা এবং ১৮ ম্যাচে ছয় হার দলকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
পর্তুগাল (র্যাঙ্কিং ৬)
মোট জনসংখ্যার তুলনায় অবিশ্বাস্য প্রতিভা তৈরি করা পর্তুগাল এবারও ফেভারিটদের তালিকায়। তবে ৪১ বছর বয়সেও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর উপস্থিতি কিছুটা চাপ তৈরি করতে পারে। মিডফিল্ডেই পর্তুগালের সবচেয়ে বড় শক্তি ভিতিনহা, জোয়াও নেভেস, বের্নার্দো সিলভা ও ব্রুনো ফার্নান্দেজ একসঙ্গে দারুণ ভারসাম্য গড়ে। নেশনস লিগজয়ী দলটি অবশ্য বাছাইপর্বে আয়ারল্যান্ডের কাছে রোনালদোর লাল কার্ডের ম্যাচে হেরে নড়বড়ে হয়েছিল।
জার্মানি (র্যাঙ্কিং ৯)
নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের নিচে থাকা জার্মানিকে ফেভারিট ধরা একটু বাড়াবাড়ি মনে হতে পারে। ২০১৪ সালের পর টানা দুই বিশ্বকাপে গ্রুপপর্ব থেকে ছিটকে যাওয়া এবং ইউরো ২০২৪-এ কোয়ার্টার-ফাইনালেই বিদায়, দলটি পরিবর্তনের সন্ধানে। তবুও জশুয়া কিমিখ, ফ্লোরিয়ান ভির্টস এবং নতুন স্ট্রাইকার নিক ভল্টেমাডে একটি শক্তিশালী দল গড়ে তুলেছে। স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত হার কাটিয়ে বাছাইপর্বে গ্রুপসেরা হয়ে বিশ্বকাপে এসেছে জার্মানি।


Comments