পাবনার দুই আসনে নির্বাচন স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে ইসিকে আইনি নোটিশ
পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে নির্বাচন স্থগিতাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন।
আজ রোববার নাজিবুর রহমান মোমেনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী মোহাম্মদ ইলিয়াস এ নোটিশ পাঠান।
গত ৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন ৬ জানুয়ারি একটি নোটিশ জারি করে। ওই নোটিশে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পাবনা-১ (৬৯) এবং পাবনা-২ (৬৮) আসনের নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
ইসির নির্দেশনার পর গতকাল শনিবার পাবনার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার আনুষ্ঠানিকভাবে দুটি আসনের সব ধরনের নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেন।
জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে পাবনা-১ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এই স্থগিতাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আজ নির্বাচন কমিশনকে একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।
ইসি সিনিয়র সচিব এবং নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখা-২-এর উপসচিবকে পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, ইসির স্থগিতাদেশ 'বেআইনি'। নোটিশে নির্বাচন প্রক্রিয়া সচল রাখার স্বার্থে অবিলম্বে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করার দাবি জানানো হয়। দাবি মানা না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নাজিবুর রহমান মোমেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আপিল বিভাগ কেবল নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশটি স্থগিত করেছেন, নির্বাচন নয়। আমরা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচন চাই।'
গত ৪ সেপ্টেম্বর এক গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে পাবনা-১ আসনে সাঁথিয়া উপজেলা এবং পাবনা-২ আসনে সুজানগর ও বেড়া উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করে সীমানা নির্ধারণ করেছিল ইসি।
তার আগে পাবনা-১ আসনে সাঁথিয়া ও বেড়া উপজেলার আংশিক ও পাবনা-২ আসনে সুজানগর ও বেড়া উপজেলার বাকি অংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। হাইকোর্ট ইসির নির্ধারিত নতুন সীমানা প্রত্যাখ্যান করে আগের সীমানা বহাল রাখার পক্ষে রায় দেন।
হাইকোর্টের এই রায় পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হয়। গত ৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের সেই আদেশটি স্থগিত করেন। পরের দিন এ দুই আসনে নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দেয় ইসি।
এতে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার কারণে উভয় আসনের ভোটার ও প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ে ভোট হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সুজানগর উপজেলার বাসিন্দা মো. তৌফিক হাসান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে, মনোনয়ন জমা ও যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে, কিন্তু এখন আমাদের আসনে ভোট হবে কি না, তা নিয়ে আমরা বিভ্রান্ত।'
পাবনা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সেলিম রেজা হাবিব জানান, তিনি নতুন বা পুরোনো যেকোনো সীমানাতেই নির্বাচন করতে প্রস্তুত।
দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, 'গত ১৫-১৬ বছর ধরে মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ভোটাররা অধীর আগ্রহে ভোটের জন্য অপেক্ষা করছে। আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন ধরে তফসিল অনুযায়ী কাজ করছি।'

Comments