মোস্তাফিজ বিতর্কে ঢাকার অবস্থান যথাযথ, বললেন ২ উপদেষ্টা

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। ছবি: সংগৃহীত

ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর বাংলাদেশে টুর্নামেন্টটির সম্প্রচার বন্ধ রাখা এবং ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত দুটিকে যথাযথ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। 

তবে এসব পদক্ষেপ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে মত তার।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে মোস্তাফিজ ইস্যু নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এটা তো বাংলাদেশ থেকে করা হয়নি। ওরা হঠাৎ করে একজন খেলোয়াড়কে বাদ দিল। এটা তো সাধারণভাবে ভালো নয়। মোস্তাফিজ একজন ভালো খেলোয়াড়, এমন নয় যে দয়াদাক্ষিণ্য করে তাকে দলে নিয়েছে। তিনি সেরা খেলোয়াড়দের একজন। সেটা সবাই স্বীকার করে, ওরাও (ভারত) করে।

তিনি বলেন, এ জন্য তাকে যেতে দেওয়া হয়নি। অতএব, বাংলাদেশ যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ 'রোবাস্ট' (দৃঢ়) এবং ওইটাই 'অ্যাপ্রোপ্রিয়েট' (যথাযথ)।

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই ধরনের অ্যাকশন কেউ যদি শুরু করে, তার একটা রিয়্যাকশন হবে। নিউটনের ল, অ্যাকশন-রিয়্যাকশন।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আইপিএলের আগামী আসরে কলকাতার হয়ে খেলার কথা ছিল মোস্তাফিজের। দলের প্রয়োজনে চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে লড়াইয়ে জিতে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে বাংলাদেশি পেসারকে দলে টানে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। তবে চাইলেও আগামী মৌসুমে তাকে খেলাতে পারছে না তারা। 'বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে' এমন দাবি তুলে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আইপিএল থেকে বাদ দিতে বলে ভারতের বেশকিছু ধর্মীয় সংগঠন ও রাজনৈতিক দল।

তাদের সঙ্গে পেরে না উঠে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত মোস্তাফিজকে ছেড়ে দিয়েছে কলকাতা। বাঁহাতি পেসারের সঙ্গে এমন ঘটনায় ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলাও অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

বিসিবি গতকাল সোমবার বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো খেলতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকি এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে আইসিসিকেও ই-মেইল বার্তার মাধ্যমে জানিয়েছে বিসিবি।

এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুই দেশের রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে কি না, জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, যৌক্তিকভাবেই আমরা সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছি। ফলে আমার কাছে মনে হয় না যে অর্থনৈতিকভাবে, বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে আমাদের ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়বে।

সামনে নির্বাচন, বিষয়টি রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুরুটা কিন্তু বাংলাদেশ থেকে করা হয়নি। এটা আপনি স্বীকার করবেন? খেলাধুলা, খেলোয়াড়দের আমরা দেশের প্রতিনিধি বলি। একজন ভালো খেলোয়াড়, বিখ্যাত একজন খেলোয়াড় ভারতে খেলতে যাবে, তাকে তো কৌশলগত কারণেই নেওয়া হয়েছিল, দয়াদাক্ষিণ্য করে তো নয়। একটা কারণে সেটা হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া, বিষয়টি খুব দুর্ভাগ্যজনক। এটা দুঃখজনক, দুই দেশের কারো জন্যই এটা ভালো নয়।

উপদেষ্টা আরও বলেন, এটা আর সামনে আগানো উচিত নয়। দুই দেশের পক্ষ থেকেই বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার।

সালেহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, হিটলারের সময় তো অলিম্পিক হয়েছিল, তাই না? পৃথিবীর লোকজন জার্মানি যায়নি? হিটলারকে ঘৃণা করত সবাই, কিন্তু ওখানে গিয়েছিল তো।

তিনি আরও বলেন, আমার মনে হয়, এখানে একটা আবেগ কাজ করেছে। এটা দুই পক্ষই বিবেচনা করে সমাধান করবে। রাজনৈতিক সম্পর্ক হোক কিংবা অর্থনৈতিক, আমরা কোনোভাবেই ক্ষতি চাই না।

এ সময় জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ভারত আমাদের খেলোয়াড়কে ডেকে নিয়ে আবার প্রত্যাহার করছে। আমরা সেটার প্রতিবাদে বলেছি, যেহেতু আইপিএল নিয়ে, তো এখানে এই খেলার সম্প্রচার বন্ধ।

জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, এজন্য আমি মনে করি, এটা একটা যথাযথ প্রতিক্রিয়া। এটা ছাড়াও আমাদের (টি-টোয়েন্টি) বিশ্বকাপ ভেন্যু পরিবর্তন করার কথা বলা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে আমি মনে করি, আমাদের প্রতিক্রিয়া দৃঢ় ও যথাযথ। এটা ওদেরও ভাবাচ্ছে।

তবে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, আমরা যেটা আশা করি, দুই পক্ষ—প্রধানত ওখান থেকে যেখান থেকে এটা শুরু হয়েছে, সেখানে শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং আমরা খেলা চালিয়ে যেতে পারব। আমাদের অর্থনৈতিক-বাণিজ্যিক সম্পর্ক চালিয়ে যেতে পারব।

Comments

The Daily Star  | English

LPG prices soar on artificial scarcity

Traders call indefinite strike for higher distribution charges

9h ago