সুন্দরবনে শিকারির পাতা ফাঁদ থেকে উদ্ধার হলো বাঘ
সুন্দরবনে হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়া একটি স্ত্রী বাঘ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।
আজ রোববার সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের বৈদ্যমারী ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির অন্তর্ভুক্ত বনাঞ্চলে এ ঘটনা ঘটে।
চেতনানাশক দিয়ে অচেতন করার পর বাঘটিকে ফাঁদ থেকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর দুপুর ৩টার দিকে লোহার খাঁচায় করে বাঘটিকে বন থেকে বের করা হয়। এরপর প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাঘটিকে নিয়ে খুলনার পথে রওনা হন বন বিভাগের কর্মীরা।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্চের করমজল ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, 'বাঘটি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ায় তাকে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। বাঘটিকে খুলনায় বন বিভাগের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে চিকিৎসা শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আটকে পড়া বাঘটি আমরা আজ দুপুরে ফাঁদ থেকে উদ্ধার করেছি। যেহেতু খুলনায় ভেটেরিনারি সার্জন নেই তাই গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে সার্জন এনে ট্রাঙ্কুলাইজার গান দিয়ে অচেতন করে আমরা বাঘটিকে খুলনায় নিয়ে আসবো।'
খুলনায় এনে চিকিৎসাশেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের খুলনা কার্যালয়ের মৎস্য বিশেষজ্ঞ ও স্মার্ট ডেটা কো-অর্ডিনেটর মো. মফিজুর রহমান চৌধুরী দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, প্রাপ্ত বয়স্ক স্ত্রী বাঘটির সামনের দিকে বাম পায়ে বেশ ভালো আঘাত এবং ক্ষত রয়েছে।
যেভাবে উদ্ধার করা হলো বাঘটিকে
গতকাল শনিবার দুপুরের পর বন বিভাগের কাছে খবর আসে, লোকালয়কে সুন্দরবন থেকে আলাদা করা শরকির খাল দিয়ে আধা কিলোমিটার ভেতরে হরিণ শিকারের ফাঁদে একটি বাঘ আটকে আছে।
সুন্দরবনের ওই এলাকাটি বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার বৈদ্যমারী ও জয়মনি বাজারের মাঝামাঝি। বন বিভাগের কর্মীরা সেখানে গিয়ে বাঘটি আটকে থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হন। বাঘটিকে উদ্ধারের জন্য ঢাকা থেকে ভেটেরিনারি সার্জনসহ বিশেষজ্ঞ দল ও খুলনা থেকে বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারা আসেন।
বন বিভাগের বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের খুলনা কার্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুর আড়াইটার দিকে বাঘটিকে ট্রাঙ্কুইলাইজার দিয়ে অচেতন করা হয়। উদ্ধারের পর এটিকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
উৎসুক জনতার ভিড়
আটকা পড়া বাঘটি দেখতে গতকাল সন্ধ্যা থেকে ওই এলাকায় উৎসুক জনতা ভিড় করতে শুরু করে। তবে বন বিভাগ কাউকে বনে প্রবেশ করতে দেয়নি। আজ সকালে উদ্ধারকাজ শুরু হবে—এই খবরে দূর–দূরান্ত থেকে বিভিন্ন বয়সী মানুষ সেখানে আসতে শুরু করে।
বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অনেকে বনের ভেতরে ঢোকে। উদ্ধার অভিযান শুরুর আগেই কেউ কেউ সেখানে গিয়ে ছবি তুলে ও ভিডিও করে নিয়ে আসে। দুপুরের আগে শরকির খাল পাড়ে কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হয় বাঘ দেখার জন্য।
প্রাপ্ত বয়স্ক স্ত্রী বাঘটি উদ্ধারের পর তা দেখার জন্য উৎসুক মানুষের ঢল নামে। এতে বিপাকে পড়েন উদ্ধার করতে আসা বন বিভাগের কর্মীরাও। বন বিভাগের কর্মী এবং উৎসুক জনতার মাঝে একাধিকবার ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।
এ পরিস্থিতিতে বাঘটিকে নিয়ে মোংলা দিয়ে না গিয়ে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা হয়ে খুলনায় পথে রওনা হয়েছেন বন বিভাগের কর্মীরা।


Comments