সৌদিতে ৩৬৫ দিনে ৩৫৬ জনের ফাঁসি

ড্রোন থেকে ধারণ করা ছবিতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ। ফাইল ছবি: রয়টার্স
ড্রোন থেকে ধারণ করা ছবিতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ। ফাইল ছবি: রয়টার্স

সৌদি কর্তৃপক্ষ গত বছর ৩৫৬ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। সৌদি আরবের ইতিহাসে এর আগে এককভাবে কোনো বছরে এত মানুষের ফাঁসি কার্যকর হয়নি।

আজ বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের দাবি, রিয়াদের এই গণহারে ফাঁসি দেওয়ার উদ্যোগের নেপথ্যে আছে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় পরিচালিত 'মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই' বা মাদকবিরোধী অভিযান।

সরকার প্রকাশিত তথ্য মতে—২০২৫ সালে শুধু মাদক সংক্রান্ত মামলায় ২৪৩ জনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালেও ফাঁসির রেকর্ড তৈরি করেছিল রিয়াদ। সে বছর ৩৩৮ জনকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছিল। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৩৫৬ হয়।

প্রায় তিন বছর মাদক মামলায় ফাঁসির বিধান স্থগিত রেখেছিল সৌদি আরব। এরপর ২০২২ সাল থেকে আবারও সর্বোচ্চ শাস্তির এই বিধান চালু হয়।

জাতিসংঘ প্রকাশিত তথ্য বলছে—মধ্যপ্রাচ্যে অবৈধ ক্যাপটাগন মাদকের সবচেয়ে বড় গন্তব্যের একটি সৌদি আরব।

সাবেক স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদের আমলে সিরিয়ায় ক্যাপটাগন সবচেয়ে বেশি পাওয়া যেত। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।

সিরিয়ার দামেস্কে ক্যাপটাগনের চালান আটক। ফাইল ছবি: রয়টার্স
সিরিয়ার দামেস্কে ক্যাপটাগনের চালান আটক। ফাইল ছবি: রয়টার্স

বড় আকারে মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর সৌদি আরবে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ও সীমান্ত এলাকায় তল্লাশি চৌকির সংখ্যা বেড়ে যায়।

ফলে, গত কয়েক বছরে সেসব এলাকা থেকে লাখো ক্যাপটাগন পিল জব্দ এবং শত-শত পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এখন পর্যন্ত এই অভিযানে সবচেয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন বিদেশিরা। বিবিসি ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুসারে, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তদের অর্ধেকেরও বেশি বিদেশি নাগরিক।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, সৌদি আরবে মাত্রাতিরিক্ত মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে সৌদি আরব গোটা বিশ্বের সামনে একটি আধুনিক ভাবমূর্তি তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে। অত্যধিক মৃত্যুদণ্ড সেই উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মত দেন।

মানবাধিকারকর্মীদের ভাষ্য, মাদকপাচারের মতো অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়ে যুবরাজ সালমানের ভিশন ২০৩০-কে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ ও শীর্ষ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজনে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে।

একমাত্র দেশ হিসেবে ২০৩৪ সালে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক হতে যাচ্ছে সৌদি আরব।

MBS
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ছবি: এএফপি ফাইল ফটো

মানবাধিকারকর্মীরা আরও মনে করেন—এসব উদ্যোগের বিপরীতে মৃত্যুদণ্ড, তথা ফাঁসির মতো শাস্তি বিস্ময়কর বললেও কম বলা হয়।

সৌদি কর্তৃপক্ষের যুক্তি—শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মৃত্যুদণ্ডের বিধানের বিকল্প নেই। সব ধরনের আবেদন ব্যর্থ হলেই কেবল কাউকে ফাঁসি দেওয়া হয়।

১৯৯০ সাল থেকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সৌদি আরবে ফাঁসির হিসাব রাখতে শুরু করে। এর আগের কতজনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না।

Comments

The Daily Star  | English

The magic of Khaleda Zia

Her last speeches call for a politics of ‘no vengeance’

3h ago