ইরানে ‘সরাসরি হস্তক্ষেপের’ হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, পাল্টা সতর্কবার্তা তেহরানের
অর্থনৈতিক সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ইরানে চলমান বিক্ষোভে হতাহতের ঘটনায় কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ইরান যদি গুলি চালায় এবং সহিংসপূর্ণ হত্যাযজ্ঞ চালায় তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে হতক্ষেপ করবে।
আজ শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন ট্রাম্প।
তিনি লিখেছেন, 'আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছি। যেকোনো সময় ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।'
বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থনৈতিক সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ইরানে টানা ৬ দিন ধরে বিক্ষোভ চলছে।
ইরানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ৬ জন নিহত হয়েছে।
বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও সরকারি সম্পদ নষ্ট করার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৩০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত রোববার ইরানের রাজধানী তেহরানে ধর্মঘট শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। দ্রুত এই আন্দোলন দেশের অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং বৃহস্পতিবার তা সহিংস রূপ নেয়।
এরপরই কড়া হুশিয়ারি দেন ট্রাম্প।
ইরানের প্রতিক্রিয়া
ট্রুথ স্যোশালে ট্রাম্পের পোস্টের পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় ইরান।
ইরানে মার্কিন হস্তক্ষেপ 'পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করবে' বলে সতর্ক করেন দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান আলী লারিজানি।
আজ শুক্রবার আলী লারিজানির বরাতে এ তথ্য জানায় এএফপি।
তিনি বলেন, 'ট্রাম্পের জানা উচিত যে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার পাশাপাশি তাদের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হবে।'
গত তিন বছরের মধ্যে ইরানে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এটি।
যে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে
চলতি সপ্তাহের শুরুতে তেহরানে রাস্তার মাঝখানে বসে এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলে থাকা এক পুলিশের দিকে তাকিয়েছিলেন—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
কেউ কেউ একে 'তিয়ানানমেন মুহূর্ত' হিসেবে অ্যাখ্যা দেন।
১৯৮৯ সালে বেইজিংয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন কঠোরভাবে দমনের চেষ্টা চালাচ্ছিলো সরকার। সেসময় এক বিক্ষোভকারীএকাই ট্যাংকের সামনে দাঁড়িয়ে যান। আর এই ছবিই পরবর্তিতে বিশ্বজুড়ে সাহস ও নৈতিক প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ওঠে।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন অভিযোগ করেছে, ফুটেজটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে তৈরি করা হয়েছে।
গত রোববার বিক্ষোভ শুরু হলেও মঙ্গলবার কমপক্ষে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যোগ দিলে তা তীব্র রুপ নিতে শুরু করে।


Comments