‘মাদুরোই ভেনেজুয়েলার একমাত্র প্রেসিডেন্ট’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ সেই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। অথচ, নিজ দেশে মার্কিন হামলার পর রদ্রিগেজ জনগণের উদ্দেশে প্রথম ভাষণে মাদুরোকেই ভেনেজুয়েলার 'একমাত্র প্রেসিডেন্ট' বলেছেন।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার ভেনেজুয়েলা হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে সস্ত্রীক নিউইয়র্কে নিয়ে যাচ্ছে ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, মাদুরোর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট শপথ নিয়েছেন।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, রদ্রিগেজ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং 'ভেনিজুয়েলাকে আবার মহান করে তোলার জন্য আমরা (যুক্তরাষ্ট্র) যা প্রয়োজন মনে করি তা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।'
ট্রাম্পের এই দাবির সত্যতা ভেনেজুয়েলার কোনো মিডিয়া এখনো নিশ্চিত করেনি।
এর মধ্যেই ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ বলেছেন, 'আমরা অবিলম্বে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীর মুক্তি দাবি করছি। ভেনেজুয়েলার একমাত্র প্রেসিডেন্ট হলেন নিকোলাস মাদুরো।'
ওদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন, মাদুরো ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট ছিলেন না।
মার্কো রুবিও বলেন, 'নিকোলাস মাদুরোকে ২০২০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। তিনি ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট নন। এটি কেবল আমরা বলছি না। প্রথম ট্রাম্প প্রশাসন, বাইডেন প্রশাসন, দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসন—কেউই তাদের স্বীকৃতি দেয়নি। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতিও পাননি।'
ট্রাম্প যাকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের আসনে রাখতে চাইছে, সেই রদ্রিগেজ ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা ও মাদুরোকে আটক করাকে 'জনগণের ইচ্ছাকে বিকৃত করার জন্য' বলপ্রয়োগের এক 'নৃশংস' কার্যক্রম বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি বলেছেন, ভেনেজুয়েলা কখনও কোনো জাতির উপনিবেশ হবে না। টেলিভিশন ভাষণে তিনি বলেন, 'আজ ভেনেজুয়েলার ওপর যা করা হয়েছে, তা অন্য যেকোনো দেশের ওপরও করা হতে পারে।'
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ টেলিফোনে কথা বলেছেন রদ্রিগেজের সঙ্গে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটা 'স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের অগ্রহণযোগ্য লঙ্ঘন'।
এমনকি ভেনেজুয়েলার শক্তিশালী মিত্র রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে মুক্তি দিতে।


Comments