মাদুরোর মতো জার্মানির মের্ৎসকেও অপহরণ করা হতে পারে, হুঁশিয়ারি মেদভেদভের

রুশ নেতা দিমিত্রি মেদভেদভ ও জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। কোলাজ ছবি: রয়টার্স
রুশ নেতা দিমিত্রি মেদভেদভ ও জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। কোলাজ ছবি: রয়টার্স

বিশ্বরাজনীতির বিভিন্ন বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বারবার সংবাদপত্রের শিরোনাম হন রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদভ। সম্প্রতি আরেকটি 'বোমা ফাটিয়েছেন' তিনি। হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মতো জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস-কেও তুলে নেওয়া হতে পারে।

গতকাল রুশ সরকারি সংবাদমাধ্যম তাস ও তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ বিষয়টি জানা গেছে।

মেদভেদভের হুঁশিয়ারি

বর্তমানে রাশিয়ার নিরাপত্তা কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন মেদভেদভ। রোববার নিকোলাস মাদুরোর মতো অন্যান্য বিশ্বনেতাদেরও অপহরণ করা হতে পারে, এমন হুঁশিয়ারি দেন মেদভেদভ। নেতাদের মধ্যে আলাদা করে জার্মান চ্যান্সেলরের নাম উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, 'চলমান পরিস্থিতিতে একটি চমৎকার এবং মোড় ঘোরানো ঘটনা হতে পারে নব্য-নাৎসি মের্ৎসকে অপহরণ করা।'

তিনি মত দেন, এমন পরিস্থিতি মোটেও অবাস্তব নয়।

মেদভেদভ বলেন, 'জার্মানিতেই তার বিচার করার মতো যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ রয়েছে। এ কারণে, এতে কারও কোনো ক্ষতি হবে না। বিশেষত যখন দেশটির নাগরিকরা বিনা কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।'

জার্মানির নিন্দা

সোমবার জার্মানি মেদভেদভের এসব উক্তির নিন্দা জানায়।

সরকারের মুখপাত্র সেবাস্তিয়ান হিল বার্লিনে গণমাধ্যম ব্রিফিংয়ে বলেন, 'আপনারা নিশ্চয়ই বিষয়টা বুঝতে পারছেন। আমরা এসব বক্তব্য আমলে নিয়েছি। স্বভাবতই, (জার্মানির) কেন্দ্রীয় সরকার এ ধরনের যেকোনো বক্তব্য ও হুমকির প্রতি কঠোরতম ভাষায় নিন্দা জানাচ্ছে।'

তিনি জানান, রাশিয়ার হুমকি সত্ত্বেও, চ্যান্সেলর 'সুরক্ষিত ও নিরাপদ আছেন'।

যে কারণে হুঁশিয়ারি

শনিবার মার্কিন ডেল্টা ফোর্স কারাকাসে অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে অপহরণ করে। এ সময় কারাকাসে ২০০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা উপস্থিত ছিল বলে জানা গেছে।

বর্তমানে মাদক পাচারের অভিযোগে নিউইয়র্কে বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন মাদুরো।

২০০৮ থেকে ২০১২ পর্যন্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন মেদভেদভ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি ক্রেমলিনের উচ্চকণ্ঠ সমর্থক হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন।

প্রায় প্রতিদিনই ইউক্রেন ও পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে একের পর এক মৌখিক আক্রমণে ব্যস্ত থাকেন এই নেতা।

ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরো একজন 'অবৈধ' প্রেসিডেন্ট—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি নাকচ করেন মেদভেদভ। কারাকাসে ওয়াশিংটনের অভিযোগকেও 'অবৈধ' আখ্যা দেন এই রুশ নেতা।

মাদুরো ও তার স্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা। ছবি: রয়টার্স
মাদুরো ও তার স্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা। ছবি: রয়টার্স

মের্ৎসের পর ইউক্রেনের নেতা ভলোদিমির জেলেনস্কির দিকে নজর ফেরান মেদভেদভ। দাবি করেন, 'দীর্ঘদিন আগেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে জেলেনস্কির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে।'

নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন না করায় জেলেনস্কিকে অবৈধ নেতা আখ্যা দিয়েছে মস্কো। সেই বয়ানে সুর মেলান মেদভেদভও। 

তবে ইউক্রেনের সংবিধানে বলা হয়েছে, যুদ্ধকালীন সময়ে বিনা যুক্তিতে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বাড়তে পারে।

Comments

The Daily Star  | English