খুলনায় ২৮৯ কেন্দ্রের মধ্যে ১৬১টি ঝুঁকিপূর্ণ

আগামী ১২ জুন খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন। আজ শনিবার শেষ দিনের প্রচারণায় নেমেছেন মেয়র প্রার্থী ও কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকরা। খুলনা মহানগরীর খালিশপুর বাস্তহারা এলাকা থেকে তোলা ছবি। ছবি: হাবিবুর রহমান/স্টার

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের 'ঝুকিপূর্ণ' কেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। খুলনা সিটির ৩১টি ওয়ার্ড রয়েছে। ওয়ার্ডগুলোর আওতায় ভোট কেন্দ্র রয়েছে ২৮৯টি।

এবার নির্বাচনে ১৬১টি কেন্দ্রকে 'গুরুত্বপূর্ণ' (ঝুঁকিপূর্ণ) ও ১২৮টি কেন্দ্রকে 'সাধারণ' হিসেবে চিহ্নিত করেছে কেএমপি। তালিকা অনুযায়ী প্রায় ৫৬ শতাংশ কেন্দ্রই 'ঝুকিপূর্ণ'। 

নির্বাচন কমিশন ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে 'গুরুত্বপূর্ণ' ও ঝুঁকিহীন কেন্দ্রগুলোকে 'সাধারণ' কেন্দ্র হিসেবে অভিহিত করে থাকে। ওই গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ কেন্দ্র অনুযায়ী ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।  

এবারের তালিকা অনুযায়ী ৪, ৬, ৭, ১০ ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সবগুলো ভোট কেন্দ্রকে 'গুরুত্বপূর্ণ' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বাদে অন্য সব কেন্দ্র রয়েছে গুরুত্বপূর্ণের তালিকায়।

তবে ১৩, ২৫ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কোনো কেন্দ্রকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই তিনটি ওয়ার্ডে ২৩টি কেন্দ্র রয়েছে। ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৬টি, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৯টি, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৪টি, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ১২টি ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৯টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। ওই ৫টি ওয়ার্ডের ৪০টি ভোট কেন্দ্রের সব কেন্দ্রই গুরুত্বপূর্ণ।  এর বাইরে ১ নম্বর ওয়ার্ডের ৮টি কেন্দ্রের ৬টি, ২ নম্বর ওয়ার্ডের ৪টি কেন্দ্রের ১টি, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ১১ টি কেন্দ্র ৪টি, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৬টি কেন্দ্রের ৩টি, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ৫টি কেন্দ্রের ২টি, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ১৩টি কেন্দ্রের ৯টি, ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ৭টি কেন্দ্রের ৫টি, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ৮টি কেন্দ্রের ৪টি, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ১২টি কেন্দ্রের ৪টি, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৭টি কেন্দ্রের ৩টি, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের ১৩ টি কেন্দ্রের ১০টি, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১২ কেন্দ্রের ৫টি, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের ১০টি কেন্দ্রের ৪টি, ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ৮টি কেন্দ্রের ৬টি, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের ১০টি কেন্দ্রের ৫টি, ২২ নম্বর ওয়ার্ডের ৮টি কেন্দ্রের ৬টি, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৮টি কেন্দ্রের ৩টি, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ১৬টি কেন্দ্রের ১০টি, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১৪টি কেন্দ্রের ৬টি, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৮টি কেন্দ্রের ৩টি, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের ১৪টি কেন্দ্রের ৮টি ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫টি কেন্দ্রের ৭টি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। 

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান ভূঞা ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সাধারণত নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রের তালিকা নিয়ে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এ তালিকাগুলো করা হয়। সেখানে দেখা হয় একাধিক কেন্দ্র কাছাকাছি কি না, প্রার্থী সংখ্যা বেশি কি না, একাধিক কেন্দ্রের সংখ্যা একই ভ্যালুতে কি না এসব সার্বিক দিক বিবেচনা করে 'গুরুত্বপূর্ণ' কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়। 

'আমরা গুরুত্বপূর্ণ এবং সাধারণ এই বিবেচনায় ভোটকেন্দ্র গুলোকে আইডেন্টিফাই করি। ঝুঁকিপূর্ণ বলি না', বলেন তিনি

প্রাথমিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে ৭ জন পুলিশ ও ১২ জন আনসার এবং সাধারণ প্রতিটি কেন্দ্রে ৭ জন পুলিশ ও ১০ জন আনসার মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে ৭১টি মোবাইল পেট্রোল টিম, ২০টি অতিরিক্ত মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স ও প্রতিটি থানায় স্ট্যান্ডবাই ফোর্স থাকবে। নির্বাচনের কাজে মোট ৪ হাজার ৮২০ জন পুলিশ ও ৩ হাজার ৪৬৭ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা মাঠে থাকবেন বলে জানান তিনি।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা গেছে, এবার খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ৫ জন, সাধারণ ৩১টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ১৩৬ জন ও সংরক্ষিত ১০টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ৩৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সিটি করপোরেশনের মধ্যে ভোটার রয়েছেন ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫২৯ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ৬৬ হাজার ৬৯৬ জন। মোট ২৮৯ ভোটকেন্দ্রের ১ হাজার ৭৩২টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটকেন্দ্র সার্বক্ষণিক পযবেক্ষণের জন্য মোট ২ হাজার ৩১০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ ইতোমধ্যে শেষ করা হয়েছে।

Comments

The Daily Star  | English

Hasina can’t evade responsibility for Khaleda Zia’s death: Nazrul

In 2018, Khaleda walked into jail, but came out seriously ill, he says

9h ago