সুবেদার ওহাবের অপারেশন দেউস: অনালোচিত এক অবিস্মরণীয় যুদ্ধ
দুপাশে কয়েকটি খাল এসে মিশেছে সালদা নদীতে, পাড়েই মন্দভাগ বাজার। বাজারের পশ্চিম দিকে পাঁচ কিলোমিটার এগোলেই পড়ে চান্দলা বাজার। আর পূর্ব দিকে কয়েক মাইল এগিয়ে গেলে নয়নপুর বাজার। দুই বাজারের মধ্যবর্তী এই মন্দভাগ বাজারটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার অন্তর্গত।
অক্টোবর, ১৯৭১। চান্দলা ও নয়নপুর বাজারে ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর দুটি শক্তিশালী ক্যাম্প। কাছেই ছিল ভারত সীমান্তবর্তী সালদা নদী রেলওয়ে স্টেশন ও মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনে অন্য দুটি ক্যাম্প। সালদা নদী ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা দখলে মন্দভাগ বাজারে ক্যাম্প গড়ে তুলতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল ৩৩ বেলুচ রেজিমেন্টের পাকিস্তানি সেনারা।
মূল লক্ষ্য যে করেই হোক মন্দভাগ বাজার দখল করা। কারণ একবার মন্দভাগ বাজারে প্রবেশ করতে পারলেই এই অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য পুরোপুরি ফিরে পাবে তারা। এখান থেকে সোজা নদী ধরে চলে যাওয়া যাবে সালদা নদী রেল স্টেশনে।
কিন্তু কিছুতেই মন্দভাগ বাজার নিজেদের দখলে নিতে পারছিল না তারা।
মুক্তিবাহিনীর দুর্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার আবদুল ওহাব বীর বিক্রমের নেতৃত্বে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা তখন সালদা নদী ও মন্দভাগ সাব সেক্টরের অধীনস্থ কালতা দীঘিরপাড়, শালগড়, লোত্তামুড়া, ঝিকরা, গোবিন্দপুর, মীরপুর, মাধবপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক দুঃসাহসিক গেরিলা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছিল।
অপারেশন দেউস ছিল এক মরণকামড়ের নাম
১৯৭১ সালের ১৭ অক্টোবর বিকেলে কালামুড়া ক্যাম্পে অবস্থান করা চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গলের চার্লি কোম্পানির মুক্তিযোদ্ধাদের একটি টহল দল পাকিস্তানিদের অবস্থান ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য দেউস গ্রামে যায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর একটি দলও টহলের উদ্দেশে আসে। তারা বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান টের পেয়ে হামলা চালায়। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে প্রায় ১৫-২০ মিনিট স্থায়ী এক যুদ্ধ হয়। এক পর্যায়ে মুক্তিবাহিনীর ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে পাকিস্তানি সেনারা পিছু হটে চান্দলা ক্যাম্পে ফিরে যায়। ফলে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে কেউই হতাহত হয়নি।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই খণ্ডযুদ্ধের পরপরই মুক্তিবাহিনীর টহল দলের যোদ্ধারা রাতেই কালামুড়ায় ফিরে গিয়ে কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আবদুল ওহাবকে বিস্তারিত খুলে বলেন। তিনি বুঝতে পারেন, ওই পথ দিয়েই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর চান্দলা থেকে মন্দভাগ আসার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে এবং একইসঙ্গে তারা মন্দভাগ বাজার দখল করে ঘাঁটি স্থাপন করতে পারে। তৎক্ষণাৎ তিনি তার কোম্পানির মুক্তিযোদ্ধাদের দেউস গ্রামে অতর্কিত আক্রমণের জন্য অ্যামবুশের ফাঁদ পাততে বলেন।
১৮ অক্টোবর সকালে চার্লি কোম্পানির কমান্ডার সুবেদার আবদুল ওহাব ও সহ অধিনায়ক মঙ্গল মিয়ার নেতৃত্বে দুই প্লাটুন মুক্তিযোদ্ধা কালামুড়া থেকে দেউস গ্রামে এসে স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছক্কার মার বাড়ির পাশে রাস্তার দুধারে অ্যামবুশের ফাঁদ রচনার জন্য বাঙ্কার খনন করতে শুরু করেন। নজরদারির দায়িত্বে থাকেন ওই গ্রামের জেলে হামিদ আলী। তার কাজ, পাকিস্তানি বাহিনীকে আসতে দেখলেই সংকেত দেওয়া।
সন্ধ্যার পর থেকেই সুবেদার ওহাবের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা বাঙ্কারে অবস্থান নিয়ে আক্রমণের ফাঁদ পাতেন। গুপ্তচর হামিদ আলীকে পাঠানো হয় পাশেই জেলের ছদ্মবেশে নদীতে মাছ ধরতে।
রাত ১১টার দিকে চান্দলা ক্যাম্প থেকে আসা পাকিস্তানি সেনাদের নৌ বহর দেউস গ্রামের সীমানায় এসে পৌঁছানো মাত্র হামিদ সংকেত দেন।
ওই অপারেশনে অংশ নিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সার্জেন্ট ফরিদ মিয়া। তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, সংকেত পাওয়া মাত্রই সুবেদার আবদুল ওহাব সুবেদার মঙ্গল মিয়াকে ওয়্যারলেসে বলেন, 'মিলিটারি ঢুকবে এখনই। আমার নির্দেশ বাদে কেউ একটা গুলিও ছুড়বে না।'
পাকিস্তানি সেনারা অনুমানও করতে পারেনি কী হতে যাচ্ছে। যখন পাকিস্তানি সেনাদের পুরো বহর মুক্তিযোদ্ধাদের অ্যামবুশের ফাঁদে ঢুকে যায়, তখনই গর্জে উঠে সুবেদার ওহাবের স্টেনগান। সঙ্গে সঙ্গে চতুর্দিক থেকে বাঙ্কারে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্রও গর্জে উঠে। মুহূর্তেই দিশাহারা হয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনারা। অতর্কিত আক্রমণে পাকিস্তানি সেনারা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করলেও মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে অধিকাংশ সেনা নিহত হন। বাকিরা প্রাণ বাঁচাতে নৌকা নিয়ে পালিয়ে যান। তবে পাঁচজনকে আটক করেন মুক্তিযোদ্ধারা।
এক ঘণ্টারও কম সময়ের এই যুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী একজন মেজর, একজন লেফটেন্যান্টসহ শতাধিক সেনা প্রাণ হারিয়েছিল। যুদ্ধ শেষে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, বারুদ ও রসদ উদ্ধার করে নিজেদের দখলে নিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা।
'আমরা নিজেরাও ভাবতে পারিনি এতো পাকিস্তানি সেনা মরবে,' বলেন অপারেশনে অংশ নেওয়া আরেক মুক্তিযোদ্ধা হাবিলদার ফরিদ মিয়া। তিনি আরও বলেন, 'সেদিন ছিল জ্যোৎস্না রাত। অপারেশন শেষে আমরা দেখেছিলাম চারদিকে শুধু সেনাদের লাশ। অনেক লাশ সেদিন খালের স্রোতে ভেসে চলে গিয়েছিল। পাকিস্তানি সেনারা সকালে বিমান হামলা চালাতে পারে এই আশঙ্কায় আমরা শেষ রাতের দিকে ত্রিপুরার কোনাবন ক্যাম্পে চলে যাই।'
ওই গ্রামের বাসিন্দা সখিনা বেগম বলেন, 'মিলিটারির এমন লাশের বহর আমি জন্মে আর দেখি নাই। খালে, নদীতে যেদিকেই চোখ গেছে, দেখছি লাশ আর লাশ। পরে আরও বিপদে পড়মু কি না এই ভাইবা ভোরেই আমরা গ্রাম ছাইড়া পালাইয়া যাই।'
১৯ অক্টোবর সকালে পাকিস্তানি বাহিনী দেউস ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে বিমান হামলা চালিয়েছিল। তাতে ৯-১০ জন নিরীহ গ্রামবাসী শহীদ হন।
মুক্তিযোদ্ধা শিরন মিয়া ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ঝিকুরা অপারেশনে সুবেদার ওহাবের নেতৃত্বে আমরা পাকিস্তানিদের হাঁটু ভেঙে দিছিলাম। আর দেউস অপারেশনের মাধ্যমে মন্দভাগ ও সালদা নদী বলা যায় একপ্রকার মুক্ত হয়ে গিয়েছিল।'
সুবেদার ওহাব: এক কিংবদন্তির নাম
আকারে ছোটখাটো চেহারার দুর্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার আবদুল ওহাব ছিলেন পাকিস্তানি বাহিনীর কাছে এক সাক্ষাৎ ত্রাসের নাম। যুদ্ধের সময়ই তিনি নিজের 'ওহাব' নাম বদলে সাংকেতিক নাম রেখেছিলেন 'ল্যাংড়া'। ওয়্যারলেসে অপর প্রান্তে গোলা চেয়ে পাঠানো বার্তায় বলতেন, 'ল্যাংড়া কইতাছি, কলার থোড় পাঠাইয়া দ্যাও।'
পাকিস্তানি বাহিনী দুই-দুবার ঘোষণা করেছিল ওহাবকে জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় কেউ ধরে আনতে পারলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। পাকিস্তানিরা তো বটেই, স্থানীয় মানুষও বিশ্বাস করতো তার সঙ্গে জিন রয়েছে।
খালের পাড়ে দাঁড়িয়ে আছেন, কোমরে থাকতো পান রাখার বাক্স। দেখা যেত ঠোঁট লাল করে তিনি দাঁড়িয়ে আছেন। এক হাতে মাছ রাখার খালুই, আর কাঁধে জাল। দেখে মনে হবে কোনো জেলে মাছ ধরছেন। কোথাওবা তিনি লাঙ্গল কাঁধে জোড়া গরু নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। যে কেউ দেখলেই ভাববে হালচাষ করতে যাচ্ছে গ্রামের কোনো কৃষক। কিন্তু না—এটিই হলো তার কৌশল। পাকিস্তানি সেনা বা রাজাকারদের ওই এলাকা দিয়ে যাওয়া মানে সাক্ষাৎ যমের মুখে পড়া।
তেমনই ছিল অপারেশন ঝিকুরা। মুক্তিযুদ্ধের ১০ জুলাই মন্দভাগ বাজার দখলে নিতে সালদা নদী দিয়ে মন্দভাগে আসছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর এক বহর। পথে সুবেদার ওহাবের নেতৃত্বে এক প্লাটুন মুক্তিযোদ্ধা সালদা নদী তীরবর্তী ঝিকুরা গ্রামের নদীর পাড় থেকে অতর্কিত আক্রমণের জন্য অ্যামবুশের ফাঁদ পাতেন।
পাকিস্তানি সেনাদের স্পিডবোটগুলো মুক্তিযোদ্ধাদের অ্যামবুশের আওতায় আসতেই সুবেদার ওহাবের নেতৃত্বে গর্জে উঠে মুক্তিযোদ্ধাদের মারনাস্ত্র। দুর্ধর্ষ এই অতর্কিত আক্রমণে নিহত হয়েছিল পাকিস্তানি বাহিনীর দুজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল, দুজন মেজর, চারজন ক্যাপ্টেন, একজন সুবেদার মেজরসহ নয়জন অফিসার ও ২০ থেকে ২৫ জন পাকিস্তানি সেনা। নিহতদের মধ্যে ছিল কুমিল্লা অঞ্চলে সাক্ষাৎ নরঘাতক ক্যাপ্টেন বুখারি।
একাত্তরের শুরুতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন সুবেদার আবদুল ওহাব। চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গলের অবস্থান ছিল কুমিল্লা সেনানিবাসে। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে প্রাথমিক প্রতিরোধ যুদ্ধে যোগ দেন তিনি। এপ্রিলে ভারতের সোনামুড়াতে গিয়ে সংগঠিত হয়ে ক্যাপ্টেন আবদুল গাফফার হালদারের নেতৃত্বে দেবীপুর চলে যান সুবেদার আবদুল ওহাব। তখন ক্যাপ্টেন গাফফারের নেতৃত্বাধীন চার্লি কোম্পানির সাত নম্বর প্লাটুনের কমান্ডার হন সুবেদার ওহাব।
মুক্তিযুদ্ধের ১২ এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনীর প্রায় ৭০ জনের একটি দল সালদা নদীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে—খবর পেয়ে কালতাদীঘির পাড়ে অ্যামবুশের ফাঁদ পাতেন সুবেদার ওহাব। ততক্ষণে পাকিস্তানি সেনারা সালদা নদী এলাকায় পৌঁছে গিয়েছিল। পাকিস্তানি সেনারা যখন পুনরায় সেই এলাকা দিয়ে ফিরছিল, সে সময় সুবেদার ওহাব তাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালান। দুর্ধর্ষ সেই অ্যামবুশে ১৮ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত ও নয়জন আহত হয়েছিল।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ২৫ এপ্রিল ২২ জন মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন সুবেদার ওহাব। ২৬ এপ্রিল ভোর ৪টায় একাই সিঅ্যান্ডবি রোড রেকি করেন। পাকিস্তানি সেনাদের বড় একটি বহর কুমিল্লা থেকে সিলেট যাবে এমন তথ্য পেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে অ্যামবুশের ফাঁদ পাতেন তিনি। রাত ১১টার দিকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ২৭টি গাড়ির সামরিক বহর অ্যামবুশের আওতায় এলে সুবেদার ওহাবের নেতৃত্বে অতর্কিত আক্রমণ চালান মুক্তিযোদ্ধারা। সে সময় পাকিস্তানি সামরিক বহরের ১০টি গাড়ি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় আটটি। সেই অপারেশনে শতাধিক পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছিল।
মুক্তিযুদ্ধের ১৩ মে প্রায় ২০০ পাকিস্তানি সেনার বহর সালদা নদীর দিকে অগ্রসর হওয়ার খবর পেয়ে সুবেদার ওহাবের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা অতর্কিত আক্রমণ চালান। তাতে ২৫ জন হানাদার সেনা নিহত হয়।
এর এক সপ্তাহ পরে ২১ মে পাকিস্তানি সেনাদের সালদা নদীর দিকে অগ্রসর হওয়ার খবর জানতে পেরে অতর্কিত আক্রমণ চালান সুবেদার আবদুল ওহাব ও তার প্লাটুন। সে সময় পাকিস্তানি সেনাদের দুটি গাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে নয়জন নিহত হয়।
মুক্তিযুদ্ধের ১৮ জুন ৪০ জন পাকিস্তানি সেনার একটি দল সালদা নদী থেকে কসবার দিকে যাওয়ার সময় অ্যামবুশের ফাঁদ পেতে অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে নয় সেনাকে হত্যা করেন সুবেদার ওহাব। মুক্তিযুদ্ধের ২০ জুন তিনি মন্দভাগ ছেড়ে দেবীপুরে চলে যান। মেজর খালেদ মোশাররফ ক্যাপ্টেন গাফফারকে বিলোনিয়া যুদ্ধে পাঠালে তিনি সুবেদার ওহাবকে তার কোম্পানির দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। সুবেদার ওহাবের অধীনস্থ মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২০০ জন।
মুক্তিযুদ্ধের ২৭ জুন ১৮ জন পাকিস্তানি সেনার কসবা থেকে ইমামবাড়ি যাওয়ার খবর পেয়ে কসবা রেলস্টেশনের কাছে অতর্কিত আক্রমণ চালান সুবেদার ওহাব। সে সময় ১৭ হানাদার সেনা নিহত হয়, কেবল মাত্র একজন হানাদার সেনাই বাঁচতে পেরেছিল।
অক্টোবরের মাঝামাঝিতে প্রথম বাংলাদেশ ওয়ার কোর্সে সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জামিল উদদীন আহসানকে চার্লি কোম্পানির অধিনায়কত্বের দায়িত্ব দিলেও অনেক অপারেশনই পরিচালনা করেছিলেন ওহাব। মুক্তিযুদ্ধের ২৩ নভেম্বর সালদা নদী মুক্ত করার জন্য তিন দিক থেকে সালদা নদী আক্রমণ করে মুক্তিবাহিনী।
ওহাবের নেতৃত্বে ছিল তার ৮ নম্বর প্লাটুন। অপারেশনে তিনি নিজেই এলএমজি ও দুই ইঞ্চি মর্টার দিয়ে পাঁচটি পাকা বাঙ্কার উড়িয়ে দেন। সুবেদার ওহাব ও তার বাহিনীর দুর্ধর্ষ আক্রমণে ৫০ জন হানাদার সেনা নিহত হয়। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানি সেনারা সালদা নদী ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
(প্রতিবেদনটি তৈরি করতে 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সেক্টরভিত্তিক ইতিহাস সেক্টর ২', 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র - নবম খণ্ড' ও এইচ এম আব্দুল গাফফার বীর উত্তমের লেখা 'স্মৃতিময় মুক্তিযুদ্ধ ও আমার সামরিক জীবন' গ্রন্থ থেকে তথ্যগত সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে।)


Comments