ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়ছে

election-commission_symbolic_ds
প্রতীকী ছবি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করতে ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। 

আজ রোববার নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এ তথ্য জানিয়েছেন।

ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার তারিখ চূড়ান্ত করা এবং সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনার জন্য আজ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সভাপতিত্বে এই সভা হয়।

আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য তফসিল ঘোষণা করা হবে। তফসিল উপলক্ষে বিটিভির মাধ্যমে জাতির উদ্দেশে ভাষণ রেকর্ড করা হবে। আমরা বাংলাদেশ বেতার ও বিটিভিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভাষণ রেকর্ড করার জন্য আগামীকাল (সোমবার) চিঠি দেব। 

তিনি আরও বলেন, ৮ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে দুই ভোটের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, তফসিল পূর্ব কার্যক্রমের মধ্যে আমাদের কতগুলো রীতিগত কাজ আছে। আমরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করব, পুরো কমিশন।  

সানাউল্লাহ আরও বলেন, তফসিল পূর্ব যে কার্যক্রমগুলো ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলোর স্টেপ নেওয়া হয়েছে। যেমন—সংলাপ, আইন, বিধির সংস্কার এবং গত সপ্তাহে যে সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে, আজ বা কালকের মধ্যে সেগুলো আমরা হাতে পেয়ে যাবো। ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসার স্টকে নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের এই তালিকায় সংযুক্ত করব। বেসরকারি যে ব্যাংকগুলো আছে, সেগুলো আপাতত বিবেচনায় নিচ্ছি না। তারা রিজার্ভে থাকবে।

'নির্বাচন সামগ্রী আগের মতো আগের রাতেই সব কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে, ব্যালট পেপারসহ। যেহেতু আমাদের দুটো নির্বাচন একসঙ্গে করতে হচ্ছে। ম্যানেজমেন্টে নিয়ে আমরা একটা মক ভোটিং করেছিলাম। সেটার অভিজ্ঞতা, প্লাস মাঠপর্যায়ে যারা ইতোপূর্বে ভোট অনুষ্ঠান করেছেন তাদের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে', বলেন তিনি।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, যেসব কক্ষে স্থান সংকলন হবে, সেসব কক্ষে একাধিক মার্কিং প্লেস অর্থাৎ সিক্রেট বুথ, যেখানে ভোটার ছাপ দেন, সেই সিক্রেট বুথ স্থাপন করা হবে। যেখানে সিক্রেট বুথ আর বাড়ানোর জায়গা নেই, সেখানে প্রয়োজনে একটা আলাদা বুথই করতে হবে।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণভোট সংক্রান্ত প্রচার-প্রচারণা, যেটার সঙ্গে সরকার একটা ব্যাপক প্রোগ্রাম হাতে নিচ্ছে, এতে নির্বাচন কমিশন সহযোগিতা করবে। গণভোটের প্রশ্নটা যেন সহজে ভোটাররা কেন্দ্র প্রবেশের আগেই জেনে যান, এজন্য প্রত্যেকটা কেন্দ্রে এই ব্যালটটা বড় আকারে ছাপিয়ে ভোটের লাইনের সামনে ঝোলানো থাকবে।

সারা দেশে পোস্টার ছেয়ে গেছে, ইসি এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, জানতে চাইলে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, যেদিন তফসিল ঘোষণা করব, সেদিন থেকে আমাদের কার্যকরী ভূমিকা দেখতে পাবেন। তফসিল ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। সবকিছু সরানোর জন্য আমরা ৪৮ ঘণ্টা সময় দেব রাজনৈতিক দলগুলোকে। তারপর যদি না সরান, আচরণবিধির আওতায় যা যা করা দরকার, তাই করা হবে।

Comments

The Daily Star  | English

The magic of Khaleda Zia

Her last speeches call for a politics of ‘no vengeance’

13h ago