বিজয় দিবসে তাজউদ্দীন আহমদের গাজীপুরের জন্মভিটায় নেই কোনো দর্শনার্থী

ছবি: স্টার

স্বাধীনতার পর এই প্রথম মহান বিজয় দিবসে বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদের গাজীপুরের কাপাসিয়ার বাড়িতে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায়নি।  

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, স্বাধীনতা সংগ্রামের পুরোধা ব্যক্তিত্ব, মুক্তিযুদ্ধের সফল সংগঠক, বাংলাদেশের রাজনীতিতে মেধা, দক্ষতা, সততা, যোগ্যতা, আদর্শবাদের এক অনন্য দৃষ্টান্ত বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, তাজউদ্দীন আহমদের জন্মস্থান হিসেবে এই বাড়িটি ঐতিহাসিকভাবে বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। বাড়ির মূল ঘরটি মাটির তৈরি, যা তার শৈশব স্মৃতি ও সরলতার পরিচয় বহন করে। বাড়িটির চারপাশে কোনো সীমানা দেয়াল নেই।

বাড়িটির চত্বর সকলের জন্য উন্মুক্ত। বাড়ির পাশে মসজিদ, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বিশাল খেলার মাঠ রয়েছে। চারপাশের বৃক্ষরাজি, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল, পুকুর— মিলিয়ে এক নান্দনিক পরিবেশ। সবুজ শ্যামলে ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে বাড়িটির অবস্থান হওয়ায় এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায় তাজউদ্দীনের সাধারণ জীবনযাপনে।

মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাড়িটি একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়। 

শ্রীপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সিয়াম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি প্রতি বছরের মতো এবারও এই বাড়িতে এসেছি। আজকে এসে একেবারেই হতাশ। কেউ নাই। মনে হচ্ছে মানুষ মুক্তিযুদ্ধকে ভুলেই যাচ্ছে।'

বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক খোকা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আগে বিজয় দিবসে অনেক লোকজন আসতো। এবার কেউ আসে নাই। মুক্তিযুদ্ধের শক্ত অবস্থান এত তাড়াতাড়ি বিলিন হবে জানতাম না। এর আগে বিজয় দিবসে বীর মুক্তিযোদ্ধারা আসত। এবার তারাও আসেননি। 

পাশেই অবস্থিত দরদরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আজকে তাজউদ্দীন আহমদের বাড়িতে দর্শনার্থীদের দেখা যায়নি। তবে বিদ্যালয়ে বিজয় দিবস পালন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সাথে স্কুল শিক্ষক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বসে আলোচনা সভা করেছে।' 

স্থানীয় লেখক ও কলামিস্ট বাদশাহ আব্দুল্লাহ বলেন, 'এটি একটি স্মৃতিবিজড়িত স্থান। সারাবছরই তাজউদ্দীন আহমদের বাড়িতে দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে। বিশেষ জাতীয় দিনগুলোতে এ বাড়িতে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশি থাকে। প্রতি বছর দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এখানে পিকনিক করতে আসে। গত এক বছর আগেও মানুষের উপচে পড়া ভীড় ছিল। বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে এসে দর্শনার্থীরা অনুপ্রাণিত হয়। এবার কেন হলো না, জানি না।'

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কাপাসিয়া উপজেলা শাখার আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন খান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'যেহেতু তাজউদ্দীন আহমদ আওয়ামী লীগ করতেন। আওয়ামী লীগের লোকজন সবাই এদিক সেদিক পলাতক এবং তাদের উপর প্রচণ্ড চাপ। বিশেষ করে তাজউদ্দীন আহমদের বাড়িতে কে বা কারা গেছে এসব চিহ্নিত হতে পারে। এছাড়াও মানুষ এখন কোথাও যেতে নিরাপদ মনে করছে না।'

মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতি ছিল না কেন জানতে চাইলে শামসুদ্দিন খান বলেন, 'আমাদের শহরকেন্দ্রীক অনুষ্ঠান ছিল। এ জন্য যেতে পারিনি।'

Comments

The Daily Star  | English

Hasina can’t evade responsibility for Khaleda Zia’s death: Nazrul

In 2018, Khaleda walked into jail, but came out seriously ill, he says

9h ago