আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ের খবর। ছবি: কোলাজ

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে। আজ বুধবার দুপুর ৩টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

লাখো মানুষ অংশ নেন এই বিদায় পর্বে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে।

বিবিসি

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি লিখেছে, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বুধবার দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজধানী ঢাকায় আসেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির এক কর্মী সেতারা সুলতানা আবেগঘন কন্ঠে বিবিসিকে বলেন, 'আমি জানি তার (খালেদা জিয়ার) মুখ দেখতে পারব না। কিন্তু অন্তত তাকে বহনকারী গাড়ি তো দেখতে পেলাম।'

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খালেদা জিয়ার মরদেহ বহনকারী গাড়ির পাশেই লাখো মানুষের হাতে ছিল তার ছবি সম্বলিত পতাকা। শোকাহতরা হাত তুলে প্রার্থনা করেছেন তার জন্য।

একজন গৃহিণী থেকে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী—রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে তার এই অসাধারণ যাত্রার সমাপ্তি ঘটে।

আল জাজিরা

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা লিখেছে, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বিদায় জানাতে রাজধানী ঢাকায় সংসদ ভবনে জড়ো হন শোকাহতরা।

ফুটেজে দেখা গেছে, জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খালেদা জিয়ার কফিনবাহী বহর যখন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সংসদ ভবনের দিকে তখন বিপুল জনতার ভিড়।

রয়টার্স

ব্রিটিশ সংবাদসংস্থা রয়টার্স সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'এক্সে' খালেদা জিয়ার শেষ বিদায় যাত্রা, সংসদ ভবনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা ও জিয়া উদ্যানে তার স্বামী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে তাকে শায়িত করা পর্যন্ত পুরো কার্যক্রমই সরাসরি সম্প্রচার করে। লাইভ স্ক্রিনে বিভিন্ন পকেটে দেখানো হয় সবগুলো স্থানের সর্বশেষ ছবি।

এএফপি

ফরাসী বার্তাসংস্থা এএফপি লিখেছে, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ে সংসদ ভবনের সামনে শোকাহত জনতার ঢল নামে।

৭০ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মিনহাজ উদ্দিন এএফপিকে জানান, তিনি কখনো খালেদা জিয়াকে ভোট দেননি। তারপরও নাতির সঙ্গে এসেছেন, একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদকে বিদায় জানাতে যার অবদান সর্বদা স্মরণীয় থাকবে।

আর শোকার্ত শারমিনা সিরাজ এএফপিকে বলেন, 'খালেদা জিয়া একজন অনুপ্রেরণা।'

এপি

মার্কিন বার্তাসংস্থা এপি তুলে ধরেছে খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষের শোক। নানা প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে মানুষ বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে জানাজায় অংশ নেন। মানুষের দুহাত তুলে খালেদা জিয়ার জন্য প্রার্থনা করেছেন। তার বিদায় কাঁদিয়েছে লাখো মানুষকে।

ডয়চে ভেলে 

জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে ভিডিও নিউজে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর মানুষের শোকের চিত্র তুলে ধরেছে।

খালেদা জিয়াকে 'গণতন্ত্রের জননী' উল্লেখ করে ডয়চে ভেলে জানায়, চার দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে অবিচল ছিলেন তিনি।

দ্য হিন্দু

ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দু খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনের খবর তাদের অনলাইন ভার্সনে লাইভ প্রচার করেছে। 

খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঢাকায় আগমনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, তিনি ভারতের জনগণের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

এতে আরও বলা হয়, খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বুধবার ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের আশপাশের এলাকায় জড়ো হন অসংখ্য মানুষ। জানাজায় অংশ নিতে সকাল থেকেই 
ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ও ঢাকার বাইরে থেকে দলে দলে মানুষ আসতে থাকেন।

প্রতিবেদনে পাকিস্তানের পার্লামেন্টের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিক এবং নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মালদ্বীপের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর ঢাকায় আসার কথাও জানানো হয়েছে।

দ্য হিন্দু সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের 'রাজনৈতিক আইকন' হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, লাখ লাখ মানুষ জানাজায় অংশ নেন। প্রিয় নেত্রীর মৃত্যুতে তারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

ডন

পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিত খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী গাড়ি ঢাকার সড়ক দিয়ে যখন দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছিলেন। এ সময় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ছিল অর্ধনমিত।

সংসদ ভবন সংলগ্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতির কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। 

খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক ঢাকায় এসেছেন। তিনি খালেদা জিয়ার বাসভবনে যান এবং সেখানে তিনি তার ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও কারাবাসের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

 

Comments

The Daily Star  | English

Hasina can’t evade responsibility for Khaleda Zia’s death: Nazrul

In 2018, Khaleda walked into jail, but came out seriously ill, he says

7h ago