ঐকমত্য কমিশন প্রতারণা করেছে: মির্জা ফখরুল

জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি বই প্রকাশের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: স্টার

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই কমিশন সুপারিশমালায় রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া ভিন্নমত বা 'নোট অব ডিসেন্ট' উপেক্ষা করেছে, যা কোনোভাবেই 'ঐকমত্য' হতে পারে না।

আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল বলেন, 'গতকাল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন তাদের সুপারিশ প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা এই কমিশনের চেয়ারম্যান। আমরা অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করেছি, আমরা যে বিষয়গুলোর সঙ্গে একমত ছিলাম না, সেখানে পরিষ্কারভাবে "নোট অব ডিসেন্ট" দিয়েছিলাম। সেগুলো লিপিবদ্ধ করার একটা প্রতিশ্রুতিও ছিল। কিন্তু কালকে যখন তারা (সুপারিশ) প্রকাশ করলেন, সেই বিষয়গুলো নেই। নোট অব ডিসেন্টগুলো পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে।'

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, 'এটা তো ঐকমত্য হতে পারে না। তাহলে ঐকমত্য কমিশনটা করা হয়েছিল কেন? এই ঐকমত্য কমিশন… আমি বলব, এটা জনগণের সঙ্গে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে একটা প্রতারণা।'

মির্জা ফখরুল বলেন, 'এটা অবিলম্বে সংশোধন করা প্রয়োজন।'

প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, 'আমি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, আপনি জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আপনি এখানে সত্যিকার অর্থেই যেটুকু সংস্কার দরকার, সেই সংস্কারগুলো করে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন দেবেন। সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পার্লামেন্ট আসবে এবং সেই পার্লামেন্ট এই দেশের সংকটগুলো সমাধান করবে।'

'আজকে যদি এর থেকে কোনো ব্যত্যয় ঘটে, এর বাইরে যদি যান, তার দায়দায়িত্ব সম্পূর্ণ আপনাকেই বহন করতে হবে। এ কথাটা আমি খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই। আমি আশা করব, তাদের এই উপলব্ধি আসবে।'

মির্জা ফখরুল অবিলম্বে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বলেন, 'অতি দ্রুত সংস্কার কমিশনে সব দলের মধ্যে যেগুলো আমরা একমত হয়েছি এবং যেগুলোতে দ্বিমত পোষণ করেছি, সবকিছুকে নিয়ে আপনি অবিলম্বে একটি নির্বাচন দেবেন।'

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, 'এ কারণেই আমরা ৫ আগস্ট বিপ্লবের পরপরই নির্বাচনের কথা বলেছিলাম। তখন অনেকে বলেছিলেন, আমরা ক্ষমতা চাই, তাই অতি দ্রুত নির্বাচন চাচ্ছি। কিন্তু আজকে প্রমাণিত হচ্ছে যে এই নির্বাচন যত দেরি হচ্ছে, তত বেশি সেই ফ্যাসিবাদের পক্ষের শক্তিগুলো শক্তিশালী হচ্ছে।'

বিচার সংস্কার নির্বাচন অন্তর্বর্তী আমলে বাংলাদেশ শীর্ষক এই বইয়ের লেখক এহসান মাহমুদ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক সোহরাব হাসান, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, সাংবাদিক শাহনাজ মুন্নী, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নূরুল হক নুর প্রমুখ।

Comments

The Daily Star  | English
Khaleda Zia political legacy in Bangladesh

The magic of Khaleda Zia

Her last speeches call for a politics of ‘no vengeance’.

1d ago