গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিতে ৮ দলের আহ্বান

যুগপৎ আন্দোলনে থাকা আট দলের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: স্টার

একইদিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের ঘোষণায় দেশবাসীর মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে অভিন্ন পাঁচ দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা আট দল।

এ সংশয় সরকারকেই দূর করতে হবে জানিয়ে দলগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই গণভোটে তারা সম্মিলিতভাবেই 'হ্যাঁ' এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

একইসঙ্গে জাতিকেও তারা 'হ্যাঁ'-এর পক্ষে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করবেন বলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।

আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ আন্দোলনরত দলগুলোর পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দলগুলোর পক্ষে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, 'সংস্কার প্রস্তাবনাকে আইনি বৈধতা দেওয়ার জন্য জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোটের তারিখ ঘোষণা করার প্রয়োজন ছিল। সেটা না করার কারণে দেশবাসীর মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। জনমনে বিদ্যমান এ সংশয় সরকারকেই দূর করতে হবে।'

গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, 'আট দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ একমত হয়েছেন যে, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির প্রয়োজনে গণভোট যখন হবে তাতে সংস্কারের পক্ষে আমরা সবাই হ্যাঁ বলব এবং জাতিকে আমরা হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করব।'

একটি দলের কর্মীরা অনলাইনে 'না' ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে—অভিযোগ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, 'এটা দিয়েই প্রমাণ হলো যে, নতুন অভিযাত্রায় সংস্কারের কারা বিরোধিতা করছে। গোটা জাতি সংস্কারের পক্ষে, আর যদি কেউ এটার বিপক্ষে যায় জাতি নিশ্চয় তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করবে।'

আট দলের আন্দোলন অব্যাহত থাকছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পরওয়ার বলেন, 'আমাদের কর্মসূচির বিষয়ে লিয়াজোঁ কমিটির ওপর দায়িত্ব আছে, তারা বসবেন এবং ঘোষণা করবেন। আমাদের আন্দোলনের সব দাবি তো পূরণ হয়নি। এজন্য আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।'

তিনি সরকারের কাছে দাবি করেন, গণভোটের জন্য সরকার যেন সংস্কার প্রস্তাবগুলো জাতির সামনে সহজ করে তুলে ধরে। প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ হাজির করে।

গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেন, 'একটি দলকে খুশি করার জন্য সভা-পরামর্শ চলছে। অথচ প্রধান উপদেষ্টা আমাদের নিরপেক্ষ থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা হয়নি। তিনি কি কোনো একটি বিশেষ দলের রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে অসহায় হচ্ছেন?'

পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, 'আট দলের একটা লিয়াজোঁ কমিটি আছে। শীর্ষ নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে তাদের ওপরে দায়িত্ব দেওয়া আছে। পরবর্তী বৈঠক থেকে তারা কর্মসূচি নির্ধারণ করবেন।'

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ইউনুস আহমাদ, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল আহমেদ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দিন আহমদ প্রমুখ।

Comments

The Daily Star  | English
Khaleda Zia political legacy in Bangladesh

The magic of Khaleda Zia

Her last speeches call for a politics of ‘no vengeance’.

1d ago