তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘিরে বিমানবন্দরে কড়া নিরাপত্তা
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালের প্রধান ফটকে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বসানো হয়েছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, বিমান বাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
র্যাবের ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং একটি বিশেষ সেনা দলও মোতায়েন করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দল (সিএসএফ) কাজ করছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বিমানবন্দর এলাকায় এসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা গেছে। বিমানবন্দরের বাইরে বনানীসহ বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ি তল্লাশি করা হচ্ছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল জানান, তারেক রহমান সিলেট বিমানবন্দরে অবতরণ করেছেন। সেখানে যাত্রাবিরতি কমিয়ে সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে ঢাকায় পৌঁছাতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে (৩০০ ফিট সড়ক) ইতোমধ্যে মানুষের ঢলে ভরে গেছে। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা খুব সংক্ষিপ্ত হবে। শুধু বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরাই তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানাবেন।
এরপর তারেক রহমান তার অসুস্থ মাকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন। পথে ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়েতে একটি সংক্ষিপ্ত জনসমাবেশে তিনি ছোট বক্তব্য দেবেন। সেখানে তিনি দেশের মানুষকে ধন্যবাদ জানাবেন এবং সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জানান, পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
তারেক রহমান বুধবার রাত ১২টা ১৫ মিনিটে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। তার সঙ্গে আছেন স্ত্রী জোবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানায়, ফ্লাইটটি সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে ঢাকায় অবতরণের কথা রয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দলের শীর্ষ নেতারা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন। এরপর তিনি সড়কপথে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন। পথে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়েতে বিএনপি একটি সংক্ষিপ্ত কর্মসূচির আয়োজন করেছে। সেখানে তারেক রহমান দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানাবেন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন। এরপর তিনি হাসপাতালে যাবেন এবং পরে গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসায় যাবেন।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান। এক বছর কারাভোগের পর ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে লন্ডনে যান। এরপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছিলেন।


Comments