তারেক রহমান বলেছেন একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশের ভিত্তি: বজলুর রশীদ ফিরোজ
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ জানিয়েছেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া বাংলাদেশের অস্তিত্ব সম্ভব হতো না বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ সোমবার সকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বামপন্থী জোট 'ডেমোক্রেটিক ইউনাইটেড ফ্রন্ট'-এর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে আসেন জোটের নেতারা।
দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ।
বৈঠকে তারেক রহমান জোর দেন, একটি উদার গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে, যেখানে বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী, সংশয়বাদীসহ সবাই একসঙ্গে কাজ করবে।
এ সময় দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয় দুপক্ষের।
বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, 'আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল একজন সন্তান হিসেবে ও শোকাহত পরিবারের সদস্য হিসেবে তারেক রহমানকে সমবেদনা জানানো। তিনি দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন, দেশে ফেরার পর তার পরিবার এই শোকের সম্মুখীন হয়েছে। আমরা আমাদের সহমর্মিতা জানাতে এসেছি।'
ডেমোক্রেটিক ইউনাইটেড ফ্রন্টের প্রতিনিধি দলে ছিলেন—সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফি রতন, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মোস্তাক হোসেন।
আরও ছিলেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের নির্বাহী সভাপতি আবদুল আলী, ডেমোক্রেটিক রেভ্যুলুশনারি পার্টির সাধারণ সম্পাদক মুশরেফা মিশু, বাংলাদেশ রেভ্যুলুশনারি কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আবদুস সাত্তার এবং বাসদ (মার্কসবাদী)-এর সমন্বয়ক মাসুদ রানা।
বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, গত ২৯ নভেম্বর দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জাসদসহ নয়টি বামঘেঁষা প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল ডেমোক্রেটিক ইউনাইটেড ফ্রন্ট গঠন করে।
'১৯৭১ আমাদের ভিত্তি'
বজলুর রশীদ জানান, তারেক রহমান তাদের জানিয়েছেন যে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশের ভিত্তি।
'তিনি (তারেক রহমান) আমাদের বলেছেন, ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর তিনি তার বক্তৃতায় স্পষ্ট করে বলেছেন যে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধই আমাদের ভিত্তি। মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া বাংলাদেশের অস্তিত্ব সম্ভব হতো না। তাই ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করেই আমাদের সামনে এগোতে হবে,' দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন এই বাসদ নেতা।
তিনি আরও বলেন, 'তারেক রহমান বলেছেন, তারা একটি উদার গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন এবং অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে সেই পথে কাজ করতে চান। মানুষের কল্যাণই তাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। শুধু পরিকল্পনা করাই নয়, বাস্তবায়নের মাধ্যমেও মানুষ যেন উপকৃত হয়—সেই লক্ষ্যেই তারা এগোতে চান।'
বজলুল রশীদ বলেন, 'তারেক রহমান বলেছেন, অনেক বিষয়ে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু জাতীয় বিষয় ও জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে অবশ্যই সংলাপ হওয়া উচিত।"
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি রাজনীতিতে জায়গা না পায়- সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা আলোচনা হয়েছে বলে জানান বজলুর রশীদ।
জাতীয় সরকার প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক বক্তব্য সম্পর্কে বাসদ নেতা বলেন, 'তারেক রহমান পরিষ্কার করে জানিয়েছেন যে এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।'
'সমালোচনা থাকবেই'
বজলুর রশীদ বলেন, ডেমোক্রেটিক ইউনাইটেড ফ্রন্টের নেতারা তারেক রহমানকে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারাই হয়তো দলের অন্যতম কঠোর সমালোচক হবেন।
'তিনি (তারেক) বলেছেন, গণতন্ত্রের জন্য সমালোচনা অপরিহার্য। সমালোচনা ছাড়া গণতন্ত্র চলতে পারে না। সমালোচনা ও সংলাপ—দুটিই থাকবে এবং সবার সঙ্গে এ ধরনের আলোচনা অব্যাহত থাকা উচিত,' বলেন তিনি।
এরপর গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলও তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং রাজনীতি ও আসন্ন নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

Comments