ব্যাটারদের ব্যর্থতার দিনে টেল এন্ডাররা বাড়ালেন আক্ষেপ

ছবি: ফিরোজ আহমেদ

শেই হোপ, রভমান পাওয়েলের ঝড়ে মন্থর উইকেটে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জবাব দিতে পারল না বাংলাদেশ। মূল ব্যাটারদের প্রায় সবাই হলেন ব্যর্থ। শেষ দিকে টেল এন্ডাররা বাড়ালেন কেবল আক্ষেপ।

সোমবার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে  ১৬  রানে হেরেছে । আগে ব্যাট করে হোপের ২৮ বলে ৪৬ ও পাওয়েলের ২৮ বলে ৪৪ রানে ১৬৫ রান করে ক্যারিবিয়ানরা। ব্যাটিং ব্যর্থতায় বাংলাদেশ থামে ১৪৯  রানে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন পেসার তানজিম হাসান সাকিব (২৭ বলে ৩৩)।  এই হারে তিন ম্যাচ সিরিজে শুরুতেই পিছিয়ে গেল লিটন দাসের দল। 

রান তাড়ায় প্রথম ওভারে ১২ রান আনার পর দ্বিতীয় ওভারেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। জেডন সিলসের বলে টাইমিং গড়বড় করে তানজিদ হাসান তামিম ধরা দেন মিড অনে, লাফিয়ে সেই ক্যাচ লুফেন রোমারিও শেফার্ড।

চোট কাটিয়ে ফিরে অধিনায়ক লিটন দাস টিকতে পারেন ৮ বল। রিভার্স সুইপে এক চার মারার পর আকিল হোসেনের থমকে যাওয়া বলে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ৫ রান করে।

সাইফ হাসান ছক্কা মেরে ঝাঁজ দেখালেও আকিলের বলে আউট হন বাজে শটে। লেগ স্টাম্পের বাইরের বল শর্ট ফাইন লেগে ধরা দেন তিনি, ৭ বলে ৮ করে বিদায় নেন এই ওপেনার। পাঁচে নেমে শামীম হোসেন পাটোয়ারি হয়েছেন ব্যর্থ। ৪ বলে ১ রান করে তিনি বোল্ড জেসন হোল্ডারের বলে। তার বিদায়ে ৪১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ।

ছয়ে নেমে নুরুল হাসান সোহান ভুগতে থাকেন ক্রমাগত, ১০ বলের ভোগান্তি থামান ৫ রান করে। পিয়েরের বলে কাট করতে গিয়ে হন বোল্ড।

হৃদয়কে সঙ্গ দিতে তানজিম সাকিবকে উপরে পাঠিয়ে সুবিধা হয়নি। এই জুটিতে যোগ হয় ২১ বলে ২০ রান। ২৫ বলে ২৮ রান করা হৃদয় গতির তারতম্যে হন কাবু।

৭৭ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে যখন দল দিকহারা ঠিক তখনই দারুণ ঝড়ে ঘুরে দাঁড়ান নাসুম আহমেদ, তানজিম সাকিব। ৭ম উইকেটে দুজনে মিলে যোগ করেন ২৩ বলে ৪০ রান। ২৭ বলে ৩৩ করা তানজিমের বিদায়ে ভাঙে এই জুটি।

নাসুম আরও কিছুটা চেষ্টা চালান, পারেননি। সিলসের বলে বাউন্ডারি লাইনে ধরা দিয়ে তিনি ফেরেন ১৩ বলে ২০ রান করে। শেষ দিকে তাসকিন ও মোস্তাফিজ ১০ ও ১১ করে হারের ব্যবধান কমান। তাসকিন শেফার্ডের বলে ছক্কা মারলেও পা দিয়ে স্টাম্প ভেঙে হন হিট উইকেট।

এর আগে  টস জিতে ব্যাট করতে নেমে সতর্ক শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাওয়ার প্লেতে প্রত্যাশিত ঝড় তুলতে পারেনি তারা। বাংলাদেশও পারেনি উইকেট ফেলতে। পাওয়ার প্লের পর নবম ওভারে প্রথম আঘাত হানেন রিশাদ হোসেন।

রিভার্স সুইপের চেষ্টায় রিশাদের বলে এলবিডব্লিউতে কাটা পড়েন আলিক আথানেজ। ২৭ বলে তিনি করেন ৩৪ রান। ব্র্যান্ডন কিং ডানা মেলতে পারছিলেন না। আড়ষ্ট থাকা এই ওপেনার ৩৬ বল খুইয়ে ৩৩ রান করে সহজ ক্যাচে বিদায় নেন। শেরফাইন রাদারফোর্ড প্রথম বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিলে বিপাকে পড়ে সফরকারী দল। 

এরপর জুটি বাঁধেন দুই অভিজ্ঞ পাওয়েল ও হোপ। শুরুতে রানের চাকায় গতি আনতে পারছিলেন না পাওয়েল। হোপ একা টানছিলেন দলকে। এক পর্যায়ে ২১ বলে ১৬ রান ছিলো পাওয়েলের সংগ্রহ। এরপর শেষ দিকে টানা চারটি ছক্কা মেরে দেন যিনি। যার তিনটাই মারেন তানজিম হাসান সাকিবের বলে।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৪৬ বলে ৮৩ রান যোগ করে ট্রিকি উইকেটে ভালো সংগ্রহ পেয়ে যান তারা। ওই পুঁজিই হয়েছে যথেষ্ট।

Comments

The Daily Star  | English

The magic of Khaleda Zia

Her last speeches call for a politics of ‘no vengeance’

8h ago