বুমরাহর তোপে নাকাল দক্ষিণ আফ্রিকা গুটিয়ে গেল অল্পতে
ঘাসের ছোঁয়া থাকা পিচে ইনিংসের শুরুতে, মাঝে ও শেষে আঘাত হানলেন জসপ্রিত বুমরাহ। ভারতের বোলিং আক্রমণের সেরা অস্ত্রকে যোগ্য সঙ্গ দিলেন মোহাম্মদ সিরাজ ও কুলদীপ যাদব। তাদেরকে জবাব দেওয়ার কোনো উপায় খুঁজে না পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা গুটিয়ে গেল অল্পতে।
শুক্রবার কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে দুই ম্যাচে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে দাপট দেখিয়েছে ভারত। তাদের বিপক্ষে টস জিতে আগে ব্যাট করে প্রোটিয়ারা টিকতে পেরেছে মাত্র ৫৫ ওভার। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাধারীরা প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়ে গেছে ১৫৯ রানে। তাদের ছয় ব্যাটার দুই অঙ্কে গেলেও ত্রিশের ঘর পর্যন্ত যেতে পারেন কেবল একজন।
আলোকস্বল্পতায় দিনের খেলা শেষ হয়েছে আগেভাগে। স্বাগতিকরা ২০ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে তুলতে পেরেছে ৩৭ রান। ১২২ রানে পিছিয়ে আছে তারা।
ডানহাতি পেসার বুমরাহ ২৭ রান খরচায় নেন ৫ উইকেট। ৫১ টেস্টের ক্যারিয়ারে এই নিয়ে ১৬তম বার ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার স্বাদ পেলেন তিনি। ক্রিকেটের সবচেয়ে কুলীন সংস্করণে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চবার ৫ উইকেট নেওয়ার তালিকায় তার অবস্থান এখন যৌথভাবে পঞ্চম স্থানে। ভগত চন্দ্রশেখর ১৬ বার ৫ উইকেট পান ৫৮ টেস্ট খেলে।
তালিকাটির শীর্ষে আছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ১০৬ টেস্টে ৩৭ বার ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি রয়েছে তার। দ্বিতীয় স্থানে আছেন অনিল কুম্বলে (১৩২ টেস্টে ৩৫ বার), তৃতীয় স্থানে হরভজন সিং (১০৩ টেস্টে ২৫ বার) ও চতুর্থ স্থানে কপিল দেব (১৩১ টেস্টে ২৩ বার)।
দুটি করে উইকেট দখল করেন আরেক ডানহাতি পেসার সিরাজ ও বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার কুলদীপ। বাকি উইকেটটি যায় বাঁহাতি স্পিনার অক্ষর প্যাটেলের ঝুলিতে।
ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো মনে হওয়া উইকেটে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা হয় দুর্দান্ত। চালিয়ে খেলে ৯.২ ওভারে স্কোরবোর্ডে পঞ্চাশ রান তুলে ফেলে তারা। তবে বুমরাহর ছোবলে পরের ওভার থেকে শুরু হয় ছন্দপতন। ৫৭ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর ১০২ রানে বাকি ১০ উইকেট হারায় সফরকারীরা। এর মধ্যে শেষ ৫ উইকেট পড়ে স্রেফ ১৩ রানে।
একাদশ ওভারে বুমরাহ বোল্ড করেন ওপেনার রায়ান রিকেলটনকে (২২ বলে ২৩ রান)। নিজের পরের ওভারে আরেক ওপেনার এইডেন মার্করামকে (৪৮ বলে ৩১ রান) উইকেটরক্ষক রিশভ পান্তের ক্যাচ বানান তিনি। অধিনায়ক টেম্বা বাভুমাকে টিকতে দেননি কুলদীপ।
এরপর প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন ভিয়ান মুল্ডার ও টনি ডি জর্জি। তবে কেউই ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। মুল্ডারকে (৫১ বলে ২৪ রান) এলবিডব্লিউ করে তাদের ৪৩ রানের জুটিতে ফাটল ধরান কুলদীপ। ডি জর্জি (৫৫ বলে ২৪ রান) একই কায়দায় শিকার হন বুমরাহর। তারপর ট্রিস্টান স্টাবস (৭৪ বলে অপরাজিত ১৫ রান) কেবল সতীর্থদের আসা-যাওয়া দেখতে থাকেন।
কাইল ভেরেইনা ও মার্কো ইয়ানসেনকে একই ওভারে বিদায় করেন সিরাজ। করবিন বশকে সাজঘরে পাঠান অক্ষর। আর সাইমন হার্মারকে বোল্ড করার দুই বল পর কেশভ মহারাজকে এলবিডব্লিউ করে ৫ উইকেট পূর্ণ করেন বুমরাহ।
জবাব দিতে নেমে সপ্তম ওভারে ধাক্কা খায় ভারত। যশস্বী জয়সওয়ালকে (২৭ বলে ১২ রান) বোল্ড করেন ইয়ানসেন। বাকি সময় আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি লোকেশ রাহুল (৫৯ বলে অপরাজিত ১৩ রান) ও নাইটওয়াচম্যান ওয়াশিংটন সুন্দর (৩৮ বলে অপরাজিত ৬ রান)।
পাঁজরে চোট পাওয়ায় এই টেস্টে প্রোটিয়ারা পাচ্ছে না বোলিং বিভাগের মূল ভরসা কাগিসো রাবাদাকে। তাকে ছাড়া নেমে এদিন অবশ্য খারাপ করেননি দলটির পেসাররা। ইয়ানসেন, মুল্ডার ও বশ বেশ ভোগান ভারতের ব্যাটারদের।


Comments