নারী অনূর্ধ্ব-১৯ দল নির্বাচনে অনিয়ম খুঁজে পায়নি বিসিবি
অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে কোনো অনিয়ম খুঁজে পায়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। পাশাপাশি দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, নারী ক্রিকেটার জাহানারা আলমের তোলা অভিযোগসহ আরও যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো তাদের গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি যাচাই করছে।
শনিবার বিসিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, 'গত ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) বিভিন্ন সাম্প্রতিক অভিযোগ নিয়ে যে চিঠিটি পাঠায়— যেখানে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলের নির্বাচন প্রক্রিয়া ও নারী ক্রিকেট সম্পর্কিত কিছু বিষয় উল্লেখ ছিল— সেই বিষয়গুলো নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কথা বলতে চাচ্ছে। বিসিবি নিশ্চিত করছে, ওই চিঠিটি এমন একটি সময়ে পাওয়া যায়, যখন তারা সাধারণ পরিষদ গঠন ও পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন নিয়ে পুরোপুরি ব্যস্ত ছিল। তখন বিসিবির বেশিরভাগ বিভাগ শুধু জরুরি দৈনন্দিন কাজ ও নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় দায়িত্বগুলো পালনেই সীমাবদ্ধ ছিল।'
তারা যোগ করেছে, 'সাধারণ পরিষদ গঠন, পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন ও নতুন স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব বণ্টন শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কমিটি ও বিভাগগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করা হয় এবং সব ধরনের নথি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। এই পর্যালোচনার ভিত্তিতে বিসিবি নিশ্চিত করতে পারে যে, অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি।'
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারার তোলা অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর নারী ক্রিকেট খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির পক্ষে রিয়া আখতার শিখা এনএসসির নির্বাহী পরিচালককে আরও যেসব অভিযোগ জমা দিয়েছেন, সেগুলোও খতিয়ে দেখবে এই কমিটি।
শুরুতে গত ৮ নভেম্বর বিসিবি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি তারিক উল হাকিমকে আহ্বায়ক করা হয়। সদস্য হিসেবে রাখা হয় বিসিবি পরিচালক রুবাবা দৌলা এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা। চারদিন পর আরও দুজন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও আইন কমিশনের বর্তমান সদস্য অধ্যাপক ড. নাঈমা হক এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান খান।
সবশেষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার প্রতি বিসিবি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে। তদন্ত কমিটি তাদের অনুসন্ধান ও সুপারিশ জমা দিলে বোর্ড প্রয়োজনীয় ও যথাযথ সব পদক্ষেপ নেবে।'


Comments