অ্যাশেজের প্রথম দিনে পড়ল ১৯ উইকেট
অ্যাশেজের বহুল প্রতীক্ষিত আরেকটি অধ্যায় যেন প্রথম দিনেই দাঁড়িয়ে গেল ইতিহাসের পাশে। পার্থের ফাস্ট ও বাউন্সি উইকেটে একদিনে দুই দলের মিলিয়ে পড়ে গেল ১৯ উইকেট। অ্যাশেজ টেস্টের গত ১০০ বছরের ইতিহাসে প্রথম দিনে এতো উইকেট পড়ার আর কোনো নজিরই ছিল না।
শুক্রবার পার্থে সিরিজের প্রথম টেস্টে ৪৯ রানে এগিয়ে থেকে ইংল্যান্ড দিন শেষ করলেও ম্যাচ পুরোপুরি দাঁড়িয়ে গেছে আগুন ঝরানো উত্তেজনার ওপর। নিজেদের প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড ১৭২ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর ১২৩ রানে অস্ট্রেলিয়ার ৯টি উইকেট তুলে নিয়েছে দলটি।
শুধু গত ১০০ বছরই নয়, প্রথম দিনে পার্থ স্টেডিয়ামেও এতো উইকেট হারানোরও রেকর্ড ছিল না। গত বছর ভারতের বিপক্ষে অজিদের টেস্টে পড়েছিল ১৭টি উইকেট। তবে টেস্টে প্রথম দিনে সবচেয়ে বেশি উইকেট হারানোর নজির ২৫টি। ১৯০২ সালে সেই মেলবোর্ন টেস্টে লড়েছিল এই ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়াই।
এদিন টস জিতে বিস্ময়করভাবে ব্যাটিং নেয় ইংল্যান্ড। কিন্তু বেন স্টোকসের দল ব্যাট হাতে শুরু থেকেই পড়ে 'বাজবলে'র জালে। মিচেল স্টার্কের আগুন ঝরানো বোলিংয়ে মাত্র ১৭২ রানে গুটিয়ে যায় দলটি। স্টার্ক একাই নেন ক্যারিয়ার সেরা ৭ উইকেট (৭/৫৮)।
এটি শুধু স্টার্কের সেরা বোলিংই নয়, পার্থ স্টেডিয়ামেও সেরা বোলিং ফিগার এবং ২১ শতকে অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কেবল দ্বিতীয়বার একজন বোলারের ৭ উইকেট পাওয়া। আরও বড় মাইলফলক হলো, এই স্পেল দিয়ে স্টার্ক অ্যাশেজে ছুঁলেন ১০০ উইকেট, অ্যাশেজ ইতিহাসে ২১তম, অস্ট্রেলিয়ার ১৩তম বোলার এবং প্রথম বাঁহাতি পেসার হিসেবে এই অর্জন ছুঁয়ে ফেললেন।
ইনিংসে একসময় ৫ উইকেটে ১৬০ ছিল ইংল্যান্ড। সেখান থেকে ইংল্যান্ডের শেষ পাঁচ উইকেট পড়ে যায় মাত্র ১২ রানে। ৩২.৫ ওভারে তাদের ইনিংস শেষ হওয়া ছিল গত ১২৩ বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজে সবচেয়ে ছোট প্রথম ইনিংসও বটে।
ইংল্যান্ডের ১৯৭ বলের ইনিংস অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজ ইতিহাসে এটি তৃতীয় 'ছোট' প্রথম ইনিংস। সিডনিতে ১৮৮৭ সালের ১৪৩ বল এবং মেলবোর্নে ১৯০২ সালের ১৯৩ বলের পরেই পার্থের আজকের ইনিংসটি জায়গা করে নিল ইতিহাসে।
তবে বল হাতে ইংল্যান্ড দেখায় তাদের সত্যিকারের রূপ। জোফরা আর্চারের নেতৃত্বে ইংল্যান্ডের পাঁচ পেসারের তাণ্ডবে অস্ট্রেলিয়া ১২৩ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে হাঁপিয়ে ওঠে। আর্চার প্রথম স্পেলে গড়ে ৯০ মাইলের বেশি গতিতে বোলিং করে শুরুতেই কাঁপিয়ে দেন অজিদের। তারপর ব্রাইডন কার্স তুলে নেন স্টিভ স্মিথকে। নিয়মিত ওপেনার খাওয়াজা বাইরে থাকায় নামতে হয় লাবুশেন-স্মিথকে, আর দু'জনেই ভোগেন ইংল্যান্ডের গতি আর বাউন্সে।
এরপর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন অধিনায়ক বেন স্টোকস। কাঁধের চোট কাটিয়ে ফেরা স্টোকস প্রমাণ করেন তিনি এখনও ইংল্যান্ডের আক্রমণের হৃদস্পন্দন। নিজের দ্বিতীয় টেস্টে টানা দ্বিতীয়বার পাঁচ উইকেট নিয়ে ধসিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ। লেগ-সাইডে ক্যাচ, ভয়ংকর লিফটার, নিখুঁত লাইন, স্টোকসের প্রতিটি ওভার ছিল আগ্রাসনের প্রদর্শনী।
অস্ট্রেলিয়া এখনো শেষ উইকেট হাতে রেখে ৪৯ রানে পিছিয়ে। চারদিকে আগুনঝরা গতি বোলিংয়ের প্রতিধ্বনি, পিচের 'স্পাইসি' চরিত্র এবং দুই দলের তীব্র লড়াই জানান দিচ্ছে, এই সিরিজ হতে চলেছে স্মরণীয় এক ক্লাসিক।


Comments