আড়াইশো বছরের ইতিহাসে অনন্য নজির ল্যাথাম-কনওয়ের
টেস্ট ক্রিকেট তো বটেই, ২৫৩ বছর ধরা চলা প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটেও এমন নজির আগে ছিলো না। টম ল্যাথাম আর ডেভন কনওয়ে তাই ঢুকে গেলেন ইতিহাসে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাউন্ট মাঙ্গানুই টেস্টে এই দুজন দুই ইনিংসেই করেছেন সেঞ্চুরি। একটা প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে দুজন ওপেনারের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরির নজির আর নেই। প্রথম ইনিংসে ল্যাথাম করেন ১৩৭, কনওয়ে করেন ২২৭ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে ল্যাথামের ব্যাট থেকে আসে ১০১ রান, কনওয়ে খেলেন ১০০ রানের ইনিংস।
চলমান এই টেস্টে এছাড়াও হয়েছে আরও কিছু রেকর্ড।
১ - প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ইতিহাসে টম লাথাম এবং ডেভন কনওয়ে প্রথম উদ্বোধনী জুটি হিসেবে এক ম্যাচের উভয় ইনিংসে শতরান করার নজির গড়েছেন।
এমনিতে টেস্ট ক্রিকেটে এক দলের যেকোনো পজিশনের দুই ব্যাটারের একই ম্যাচের উভয় ইনিংসে শতরান করারও এটি মাত্র চতুর্থ ঘটনা। এর আগের নজিরগুলো হলো: ২০২৪ সালে সিলেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ও কামিন্দু মেন্ডিস; ২০১৪ সালে আবুধাবিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আজহার আলী ও মিসবাহ-উল-হক এবং ১৯৭৪ সালে ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইয়ান চ্যাপেল ও গ্রেগ চ্যাপেল।
৫১৫ - দ্বিতীয় টেস্টে নিউজিল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটির দুই ইনিংস মিলিয়ে মোট রান। এটি এক টেস্ট ম্যাচে যেকোনো উদ্বোধনী জুটির সর্বোচ্চ সংগ্রহ, যা আগের রেকর্ডকে ১০০ রানের ব্যবধানে ছাড়িয়ে গেছে। ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার নিল ম্যাকেঞ্জি ও গ্রায়েম স্মিথ ৪১৫ রান যোগ করেছিলেন।
১০ - টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে মাত্র ১০ম ব্যাটার হিসেবে এক টেস্টে দ্বিশতরান ও শতরান করার কৃতিত্ব গড়লেন কনওয়ে। ২০২৫ সালে শুভমান গিলের (এজবাস্টনে জুলাই মাসে ২৬৯ ও ১৬১ রান) পর দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করলেন।
১ - কনওয়ে ও ল্যাথামের আগে নিউজিল্যান্ডের মাত্র একজন উদ্বোধনী জুটি এক টেস্টে দুটি শতরানের জুটি গড়েছিলেন। ১৯৯২ সালে বুলাওয়ে টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে রড লাথাম (টম লাথামের বাবা) ও মার্ক গ্রেটব্যাচ এই কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন।
০ - এক টেস্টে একটি ট্রিপল সেঞ্চুরি (৩০০+) এবং একটি সেঞ্চুরি (১০০+) জুটি গড়ার নজির লাথাম ও কনওয়ের আগে আর কোনো জুটির নেই। তাদের আগে মাত্র তিনটি জুটি এক টেস্টে ২৫০+ রান এবং একটি শতরানের জুটি গড়তে পেরেছিলেন— ১৯৭৬ সালে মুশতাক মোহাম্মদ ও জাভেদ মিয়াঁদাদ, ২০২২ সালে ইমাম-উল-হক ও আবদুল্লাহ শফিক এবং ২০২৫ সালে মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত।
৬৬৯ -* এই টেস্টে প্রথম উইকেট জুটিতে দুই দল মিলিয়ে মোট রান। নিউজিল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটি ৫১৫ রান যোগ করার বিপরীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্বোধনী জুটি এখন পর্যন্ত ১৫৪ রান (অজেয় ৪৩ রানসহ) যোগ করেছে। এটি ১৯৫৬ সালের চেন্নাই টেস্টের ৫৭৭ রানের রেকর্ডকে অনায়াসেই ছাড়িয়ে গেছে।
২ - কনওয়ে ও ল্যাথামের আগে নিউজিল্যান্ডের মাত্র দুই জন ওপেনার এক টেস্টের দুই ইনিংসে শতরান করেছিলেন। গ্লেন টার্নার (১৯৭৪) এবং পিটার ফুলটন (২০১৩)। এছাড়া জেফ হাওয়ার্থ (১৯৭৮), অ্যান্ড্রু জোন্স (১৯৯১) এবং কেন উইলিয়ামসন (২০২৪) নিউজিল্যান্ডের অন্য ব্যাটার যারা টেস্টের যেকোনো পজিশনে নেমে দুই ইনিংসে শতরান করেছেন।
৫৬৫ - এই টেস্টে নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার (কনওয়ে ৩২৭ ও লাথাম ২৩৮) মিলে মোট যত রান করেছেন। এটি এক ম্যাচে ওপেনারদের করা সর্বোচ্চ সংগ্রহ। আগের সর্বোচ্চ ছিল ২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনিং জুটি স্মিথ ও হার্শেল গিবসের ৫৫০ রান।
৩২৭ - এক টেস্টে কনওয়ের করা রান, যা নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের মধ্যে এক ম্যাচে তৃতীয় সর্বোচ্চ। কেবল ২০০৩ সালে স্টিফেন ফ্লেমিং (৩৪৩) এবং ১৯৯১ সালে মার্টিন ক্রোর (৩২৯) রান কনওয়ের উপরে রয়েছে।
৮৮১ - এই টেস্টে নিউজিল্যান্ডের করা মোট রান। এটি এক ম্যাচে কিউইদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ১৯৯০ সালে অকল্যান্ডে ভারতের বিপক্ষে করা ৮৭৪ রানের রেকর্ডটি তারা আজ ভেঙে দিয়েছে।


Comments