গাজায় ফুটবল ফেরাতে সহায়তা করবে ফিফা

গাজায় যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের ভেতর ফুটবল ফেরাতে এগিয়ে আসছে ফিফা। দেশটির ধ্বংসপ্রাপ্ত ফুটবল অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে ফিফা সরাসরি সহায়তা করবে সংস্থাটি। মিশরের শার্ম আল-শেখে অনুষ্ঠিত সোমবারের ঐতিহাসিক শান্তি সম্মেলনের পর এমন ঘোষণাই দিয়েছেন বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

রেড সি উপকূলের এই সম্মেলনে ইনফান্তিনোসহ বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান উপস্থিত ছিলেন। সেখানে যুদ্ধোত্তর পুনর্গঠন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনার পর একটি গুরুত্বপূর্ণ নথিতে স্বাক্ষর হয়। আর সেখানেই ফিফা সভাপতির কণ্ঠে শোনা গেল মানবিক অঙ্গীকারের সুর।

'এই শান্তি প্রক্রিয়া সফল করতে ফিফার এখানে থাকা, সমর্থন দেওয়া, সহায়তা করা ও পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত জরুরি। আমরা চাই এই উদ্যোগ বাস্তব রূপ পাক,' বলেন ইনফান্তিনো।

ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত গাজা ও ফিলিস্তিনের অন্যান্য অঞ্চলে ফুটবলের প্রাণ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নিয়েছে ফিফা। ওই অভিযানে ৬৭ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, আর ধ্বংস হয়েছে অসংখ্য স্কুল, হাসপাতাল ও খেলাধুলার মাঠ।

এই প্রেক্ষাপটে ফিফা শুধু মাঠ নয়, ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত মানুষের মনেও আশা জাগাতে চায়। ইনফান্তিনো বলেন, 'ফুটবলের ভূমিকা হলো সহায়তা করা, একত্রিত করা এবং আশা জাগানো। আমরা গাজার ফুটবল অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ করব, ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে মিলে আবার ফুটবল ফিরিয়ে আনব, এবং শিশুদের জন্য খেলাধুলার মাধ্যমে নতুন জীবনের সুযোগ তৈরি করব।'

ফিফা সভাপতি আরও জানান, সংস্থাটি একটি বিশেষ তহবিল গঠন করবে, যার মাধ্যমে ধ্বংস হয়ে যাওয়া স্টেডিয়াম, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও মাঠ পুনর্গঠন করা হবে। পাশাপাশি গাজা ও ফিলিস্তিনের বিভিন্ন স্থানে তৈরি করা হবে 'মিনি-পিচ' ও আধুনিক 'ফিফা এরিনা'।

এ উদ্যোগে ফিফা একা থাকবে না, ইনফান্তিনো অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদার, সংগঠন ও দাতাদেরও আহ্বান জানিয়েছেন এই প্রচেষ্টায় যুক্ত হতে। তার ভাষায়, 'ফুটবল শিশুদের মধ্যে আশার আলো জ্বালায়, আর এখন সেটাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আমরা সবাই মিলে এমন এক ভবিষ্যৎ গড়তে চাই, যেখানে একটি বল আবার শিশুদের হাতে ফিরবে, হাসি ফিরে আসবে তাদের মুখে।'

Comments

The Daily Star  | English

Trump says US oil firms to head into Venezuela

US companies to invest heavily in Venezuela’s oil sector, Trump says

2h ago