স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক পিন্টুকে জয় উৎসর্গ শমিতের

Shamit Shome

শেখ মোরসালিনের শুরুর দিকে করা দারুণ গোল ধরে অসাধারণ দৃঢ়তায় ২২ বছর পর ফুটবলে ভারতকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু মঙ্গলবার ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়া ১-০ ব্যবধানের জয়ের শেষ বাঁশি বাজতেই, মধ্যমাঠের সেনানি শামিত শোমের চিন্তা চলে গেল উদযাপনের অনেক বাইরে। চলে গেল এক এমন মানুষের দিকে, যাঁর সঙ্গে কখনও দেখা হয়নি, কিন্তু যার গল্প শুনে শুনেই বড় হয়েছেন—স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টু, যিনি ঠিক এক বছর আগে এই দিনে পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। তাকেই জয় উৎসর্গ করলেন তিনি।

এই রাতে বাংলাদেশের মধ্যমাঠের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন শামিত। হেড কোচ হাভিয়ের কাবরেরা সেদিন ক্যাভালরি সিটির এই মিডফিল্ডারকে শুরুর একাদশে নামান। পুরো ম্যাচে দলের লিড ধরে রাখতে, প্রতিপক্ষের উপর চাপ বাড়াতে ভূমিকা রাখেন কানাডা লিগে খেলা শমিত।

ম্যাচ শেষে এই মিডফিল্ডার এই জয়কে অর্থবহ করেন এক কিংবদন্তিকে স্মরণ করে। নিজের ফেসবুকে তিনি লিখেছেন,  'এই জয়টা জাকারিয়া পিন্টুর জন্য—স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের কিংবদন্তি অধিনায়ক, যিনি ঠিক আজকের দিনেই গত বছর মারা গিয়েছিলেন'

 'তার সাহস, নেতৃত্ব আর বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা—এই জার্সি গায়ে দেওয়া প্রতিটি খেলোয়াড়কে আজও অনুপ্রাণিত করে।'

২২ ঘণ্টার দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে কানাডা থেকে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিয়েছিলেন শামিত। তাই জয়ের মূল্য যে কতটা, লুকালেন না তিনি। জাতীয় দলের জার্সিতে তো তার এটাই প্রথম জয়, 'আজকের রাতটা ছিল বিশেষ—এ কারণেই তো আমরা খেলি, লড়াই করি। বাংলাদেশের জন্য ম্যাচ জিততে। আমাদের মানুষকে গর্বিত করতে। ক্লান্তির প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি মাইল তখনই সার্থক হয়, যখন গ্যালারি থেকে আমাদের সমর্থকদের সেই গর্জন শুনতে পাই।'

পিন্টুর নাম বাংলাদেশের ক্রীড়া–ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলা দলের অধিনায়ক হিসেবে তিনি ভারতজুড়ে ঘুরে ঘুরে ফুটবলকে ব্যবহার করেছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের তহবিল সংগ্রহ, সচেতনতা তৈরি আর যুদ্ধদিনের আশার প্রতীক হিসেবে।

বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা যখন জয় উদযাপন করছিলেন, তখন মনে হচ্ছিল দুই যুগ যেন হাত ধরাধরি করে — মুক্তিযুদ্ধের ফুটবলযোদ্ধারা, যারা প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন; আর নতুন প্রজন্মের প্রবাসী-গড়া প্রতিভারা, যারা বদলের মশাল তুলে ধরছেন।

শামিতের শ্রদ্ধা সেই দুই সময়কে এক সুতোয় বেঁধে দিল, 'এই জয় তার জন্য। এই জয় আপনাদের সবার জন্য',  বললেন তিনি।

এদিন ম্যাচের ১১ মিনিটে রাকিব হোসেন দারুণ এক দৌড়ে উইং ভেদ করে বল বাড়ান, আর তার স্কোয়ার পাস থেকে মোরসালিন গুরপ্রীত সিং সান্ধুর পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দেন—বাংলাদেশের ২০০৩ সালের পর ভারতের বিপক্ষে প্রথম জয় নিশ্চিত হয় এই গোলেই।

২০২৭ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব থেকে আগেই ছিটকে গেছে বাংলাদেশ ও ভারত। নিয়মরক্ষার ম্যাচটা অনেকটা মর্যদার লড়াই হিসেবে দেখেছে দুই দল। সেদিক থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি দুই যুগের বেশি সময় পর ভারতকে হারাতে পারা।

Comments

The Daily Star  | English
Khaleda Zia political legacy in Bangladesh

The magic of Khaleda Zia

Her last speeches call for a politics of ‘no vengeance’.

1d ago