দল রেলিগেটেড হওয়ায় স্টেডিয়ামই পুড়িয়ে দিল তিন কিশোর

ফিনল্যান্ডের প্রায় শতবর্ষী ফুটবল স্টেডিয়াম টেহতান কেন্টতা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর সেই আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে ১৫ বছরের নিচের তিন কিশোরের বিরুদ্ধে। ভেইকাউসলিগা থেকে দ্বিতীয় স্তরের ইয়াক্কোসলিগায় অবনমন হওয়ার ঠিক পরই এ ঘটনা ঘটে, যা নড়েচড়ে বসিয়েছে পুরো দেশকে।

হেলসিঙ্কি থেকে ১৪৭ কিলোমিটার উত্তরের শহর ভালকিয়াকস্কিতে অবস্থিত এ স্টেডিয়ামটি নয়বারের ফিনিশ শীর্ষ লিগ চ্যাম্পিয়ন এফসি হাকা-র ঘরের মাঠ। তিন দিক জুড়ে গ্যালারি থাকা এই মাঠের কাঠের স্ট্যান্ড রোববার রাত ৮টার দিকে আগুনে পুড়ে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। স্থানীয় পুলিশের বরাতে জানা যায়, ঘটনাস্থলে থাকা তিন কিশোরের একজন অজ্ঞাত বস্তুতে আগুন ধরিয়ে দিলে মুহূর্তেই ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা মাইয়াস্টিনা তাম্মিস্তো জানান, আগুনে কাঠের স্ট্যান্ডের সবকিছুই পুড়ে গেছে, শুধু ছাদের কাঠামোর বিমগুলো কোনোভাবে টিকে আছে। বিজ্ঞাপন বোর্ড ও কৃত্রিম ঘাসের কিছু অংশও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অপরাধের তীব্রতা থাকলেও সন্দেহভাজনদের বয়স ১৫ বছরের কম হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা করা সম্ভব নয়। তবে তাম্মিস্তো সতর্ক করে বলেন, 'ফৌজদারি দায় নেই মানেই ক্ষতিপূরণ থেকে অব্যাহতি নয়। ফিনল্যান্ডে ক্ষতিপূরণের জন্য কোনো ন্যূনতম বয়সসীমা নেই।'

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক বাড়তে থাকায় পুলিশ অনুপযুক্ত মন্তব্য বা ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে, কারণ এগুলো নিজেরাই নতুন অপরাধ তদন্তের জন্ম দিতে পারে।

এদিকে, এফসি হাকা এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে 'ক্লাবের পুরো সম্প্রদায়ের জন্য বড় ধাক্কা' বলে উল্লেখ করেছে। মাঠের ক্ষতির কারণে এটি এখন আংশিকভাবে ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

দলের বোর্ড চেয়ারম্যান মার্কো লাকসোনেন বলেন, 'এটি সত্যিই মর্মান্তিক। খেলোয়াড় থেকে শুরু করে সমর্থক সবাই গভীরভাবে মর্মাহত। ভালো দিক হলো, কেউ আহত হয়নি এবং দমকল বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে স্টেডিয়ামের বাকি ভবনগুলো রক্ষা পেয়েছে।'

তিনি আরও জানান, আর্থিক ক্ষতির পূর্ণ মাত্রা এখনো নিরূপণ করা যায়নি, তবে এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং ক্লাবের কার্যক্রম কিছুদিন ব্যাহত হতে পারে।

'এই বিপর্যয় সামলে উঠতে আমাদের পুরো সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। তবুও দল প্রায় স্বাভাবিকভাবেই মৌসুমের প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে পারবে, এটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তি,' যোগ করেন লাকসোনেন।

Comments

The Daily Star  | English

The magic of Khaleda Zia

Her last speeches call for a politics of ‘no vengeance’

7h ago