নতুন বছর, নতুন চ্যালেঞ্জ: আশা ও সংকল্পে ২০২৬-কে বরণ ক্রীড়াবিদদের

নতুন বছর, নতুন প্রত্যাশা ও নতুন চ্যালেঞ্জ, এই বার্তাই সামনে রেখে ২০২৬ সালকে বরণ করে নিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের তারকারা। উদ্‌যাপনের চেয়ে আত্মসমালোচনা, দায়িত্ববোধ ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন বছরে পা রেখেছে দেশের ক্রীড়া পরিবার। আনন্দের সঙ্গে ছিল শোকের ছায়া, আবার সেই শোক থেকেই জন্ম নিয়েছে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ়তা।

এই অনুভূতির সবচেয়ে স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেছে বাংলাদেশ টি–টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাসের বার্তায়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যু এবং জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির কর্মী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীর প্রয়াণে দেশের শোকের কথা স্মরণ করে লিটন লেখেন, 'পুরো দেশ যখন শোকাহত, তখন সামনে আসা দিনগুলো যেন সবার জন্য শান্তি, ঐক্য ও ইতিবাচকতা বয়ে আনে।' একই সঙ্গে তিনি সবার জন্য একটি অর্থবহ ও সমৃদ্ধ নতুন বছরের কামনা করেন।

লিটনের এই বার্তা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন জাতীয় দলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আবেগকে সাফল্যে রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

জাতীয় দলের পেসার তাসকিন আহমেদ নতুন বছরের শুভেচ্ছায় সংক্ষিপ্ত কিন্তু অনুপ্রেরণামূলক বার্তা দেন। তিনি সবাইকে আহ্বান জানান ইতিবাচকতা, প্রেরণা ও সুখ নিয়ে বছর শুরু করার।

অন্যদিকে ওপেনার তানজিদ তামিম নতুন বছরকে দেখেছেন আত্মসমালোচনার আয়নায়। তার লেখায় উঠে এসেছে সমাজের দ্বিচারিতা, মানুষ বিশুদ্ধ বাতাস খোঁজে, অথচ সেটাকেই দূষিত করে; নিজের স্বাস্থ্যের কথা ভাবে, কিন্তু শব্দদূষণে হাসপাতালে কষ্ট পাওয়া রোগীদের কথা ভুলে যায়; কথা বলে অনেক, কাজ করে কম। তার নতুন বছরের প্রার্থনা, মানুষ যেন সত্যিকার অর্থেই আরও ভালো মানুষ হওয়ার সুযোগ পায়।

ফুটবল অঙ্গনেও ছিল নতুন বছরের প্রত্যাশা। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ২০২৫ সালকে বিদায় জানিয়ে ২০২৬ সালে দেশের মানুষের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।

নারী ফুটবলারদের জন্য ২০২৬ এসেছে বাড়তি গর্ব ও দায়িত্ব নিয়ে। ২০২৫ সালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান রোকেয়া পদক পাওয়া ফরোয়ার্ড ঋতুপর্ণা চাকমা লিখেছেন, 'ধন্যবাদ ২০২৫! নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে শুরু হোক নতুন বছর।' তার এই কথায় প্রতিধ্বনিত হয়েছে নারী দলের ঐতিহাসিক সাফল্য, প্রথমবারের মতো ২০২৬ এএফসি উইমেন্স এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়া, যা মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হবে।

শোক, দায়বদ্ধতা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার মিশেলে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা ২০২৬ সালকে স্বাগত জানিয়েছেন দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে। নতুন বছর তাদের কাছে শুধু ক্যালেন্ডারের পরিবর্তন নয়, বরং আরও ভালো করার, আরও দূর যাওয়ার এক নতুন অঙ্গীকার।

 

Comments

The Daily Star  | English

The magic of Khaleda Zia

Her last speeches call for a politics of ‘no vengeance’

1h ago