বিপিএল

রিপনের বীরত্বে সুপার ওভারের রোমাঞ্চে রংপুরকে হারাল রাজশাহী

Ripon Mondol
দলকে দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফিরিয়ে রিপন মন্ডলের উল্লাস। ছবি: রাজশহী ওয়ারিয়র্স

দাবিদ মালান ও তাওহিদ হৃদয়ের ফিফটিতে একসময় সহজ জয়ের পথেই ছিল রংপুর রাইডার্স। কিন্তু নাটকীয় শেষ ওভারে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন রিপন মন্ডল। ডানহাতি এই পেসারের অসাধারণ বোলিংয়ে ম্যাচ টাই হয়, পরে সুপার ওভারেও তার নিয়ন্ত্রিত স্পেলে জয় তুলে নেয় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার নির্ধারিত ২০ ওভারে দুই দলই করে ১৫৯ রান। সুপার ওভারে রিপন রংপুরকে আটকে দেন মাত্র ৬ রানে, যা রাজশাহী তুলে নেয় অনায়াসে।

অথচ মূল ম্যাচে না জেতার কোনো কারণই ছিল না শক্তিশালী রংপুরের। শেষ পাঁচ ওভারে তাদের দরকার ছিল মাত্র ৩৮ রান, হাতে ছিল ৯ উইকেট। এমনকি শেষ ওভারেও ম্যাচ ছিল একেবারেই রংপুরের নিয়ন্ত্রণে।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৬ বলে ৭ রান, হাতে তখনও ৭ উইকেট। সহজ জয়ের সেই সমীকরণ ভেঙে দেন রিপন মন্ডল। প্রথম বলেই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন খুশদিল শাহ। এরপর নুরুল হাসান সোহান এসে মারেন বাউন্ডারি, চার বলে প্রয়োজন দাঁড়ায় মাত্র ৩ রান। একটি ডট বলের পর চতুর্থ বলে দুই রান নিয়ে ম্যাচ টাই করেন সোহান। যখন কোনো শঙ্কাই দেখা যাচ্ছিল না, তখনই নাটকীয় মোড়—পঞ্চম বলে রান নিতে গিয়ে ফিরে যান সোহান। শেষ বলে ১ রান প্রয়োজন হলেও অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ তা নিতে ব্যর্থ হন; রান আউট হয়ে ম্যাচ নিয়ে যান সুপার ওভারে।

সুপার ওভারেও রিপনের দাপট অব্যাহত থাকে। কাইল মেয়ার্স, তাওহিদ হৃদয় ও খুশদিল শাহ মিলে তার ওভারে নিতে পারেন মাত্র ৬ রান। মোস্তাফিজুর রহমানের করা সুপার ওভার থেকে সেই রান তুলতে রাজশাহীর লাগে মাত্র ৩ বল।

মূল ম্যাচে রিপন ৪ ওভার বল করে দেন ৪৩ রান, নেন ২ উইকেট। খরুচে হলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন তিনি।

রান তাড়ায় লিটন দাস আগ্রাসী শুরু করলেও তিনটি চারে ফেরেন দ্রুত। এরপর মালান ও হৃদয়ের ব্যাটে জমে ওঠে রংপুরের ইনিংস। দ্বিতীয় উইকেটে ৭২ বলে ১০০ রানের জুটি গড়েন তারা। তবে দুজন আরও একটু সময় ধরে খেলতে পারতেন কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। ৫০ বলে ৬৩ করেন মালান, ৩৯ বলে ৫৩ করে থামেন হৃদয়। এই দুজনের বিদায়ের পর রংপুরের বাকি ব্যাটারদের ভীষণ হতভম্ব দেখিয়েছে।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই তানজিদ হাসান তামিমকে হারায় রাজশাহী। আলিস আল ইসলামের বলে মিড-অন থেকে কিছুটা পেছনে সরে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন লিটন দাস।

দ্বিতীয় উইকেটে ঘুরে দাঁড়ান সাহিবজাদা ফারহান ও নাজমুল হোসেন শান্ত। তাদের ৬৩ বলের জুটিতে আসে ৯৩ রান। দুরন্ত ছন্দে থাকা শান্ত রান আউটে বিদায় নেন ৩০ বলে ৪১ করে। ফারহান থামেন ফিফটির পর—৪৬ বলে ৮ চার ও ২ ছক্কায় করেন ৬৫ রান। তাকেও ফেরান আলিস।

মোহাম্মদ নাওয়াজ, মুশফিকুর রহিম ও ইয়াসির আলিদের ব্যর্থতায় ভালো ভিত গড়েও দেড়শোর বেশি এগোতে পারেনি রাজশাহী।

শিশির ভেজা মাঠে এই পুঁজি নিয়ে জেতা ছিল কঠিন, বাস্তবে জয়ের অবস্থাতেও ছিল না তারা। কিন্তু রিপন মন্ডলের বীরত্বে অসম্ভবকে সম্ভব করে নাটকীয় জয় তুলে নেয় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।

Comments

The Daily Star  | English
Khaleda Zia political legacy in Bangladesh

The magic of Khaleda Zia

Her last speeches call for a politics of ‘no vengeance’.

1d ago