গাজা যুদ্ধ

২ বছরে ইসরায়েলকে ৩৩ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু। ফাইল ছবি: রয়টার্স
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু। ফাইল ছবি: রয়টার্স

সবাই ইতোমধ্যে জেনে গেছেন গাজায় গত দুই বছর ধরে চলা ভয়ঙ্কর যুদ্ধ বন্ধে মূল ভূমিকা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু, তারা জানেন কি— সেই যুক্তরাষ্ট্রই গাজায় যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ইসরায়েলকে দিয়েছে ৩৩ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা।

গতকাল বুধবার লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ২১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে। ইয়েমেন, ইরান ও অন্যান্য আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলায় আরও ৯ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ১২ দশমিক শূন্য ৭ বিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র ইসরায়েলকেই অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফাইল ছবি: এএফপি
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র ইসরায়েলকেই অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফাইল ছবি: এএফপি

এতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র গাজা যুদ্ধ চালাতে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা হিসেবে মোট ৩৩ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির কুইনসি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফট অ্যান্ড দ্য কস্টস অব ওয়ার প্রজেক্টের নতুন গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট মনিটর জানায়, গত দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে গাজা যুদ্ধের জন্য সরাসরি ২১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে। জাতিসংঘ এই যুদ্ধকে গণহত্যা আখ্যা দিয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিংয়ের (এফএমএফ) মাধ্যমে ইসরায়েলে সরাসরি অস্ত্র সরবরাহ করেছে। এ থেকে এটাও বোঝা যায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থন ছাড়া দীর্ঘ সময় লড়াই চালিয়ে যাওয়া ইসরায়েলের পক্ষে সম্ভব নয়।

'এটা পরিষ্কার যে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) গাজায় এতটা ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারতো না,' বলেও গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের মজুত থেকে নিয়মিত কামানের গোলা পায় ইসরায়েল। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মজুত থেকে নিয়মিত কামানের গোলা পায় ইসরায়েল। ফাইল ছবি: সংগৃহীত

এতে আরও বলা হয়, ইসরায়েলে পাঠানো মার্কিন অস্ত্রের চালানের মধ্যে আছে ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র, স্থলমাইন, অ্যাসল্ট রাইফেল ও অন্যান্য মারণাস্ত্র। এসব অস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েল গাজায় ৬৭ হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। তাদের অধিকাংশ শিশু ও নারী।

গবেষণা প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কীভাবে ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ করেছে তা বিস্তারিত বলা হয়েছে। গত মাসে ইসরায়েলে ৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির ঘোষণার কথাও এতে বলা হয়েছে।

গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান জনরোষ উপেক্ষা করে অস্ত্রের চালান অব্যাহত রাখা হয়েছে। গবেষণা প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন সমর্থন ছাড়া ইসরায়েল যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে না। এমনকি, ইসরায়েল যুদ্ধবিমান থেকে বোমা ফেলার সামর্থ্যও হারিয়ে ফেলবে।

Comments

The Daily Star  | English
mob violence in South Asia

Why mob violence is rising across South Asia

In South Asia, the mob has evolved into a calculated tool for political mobilisation and social policing.

8h ago