বিক্ষোভে উত্তাল ইরানে সংঘর্ষে নিহত ৬, গ্রেপ্তার ৩০

২৯ ডিসেম্বর তেহরানে দোকানি ও ব্যবসায়ীরা রাস্তায় প্রতিবাদ করছিলেন। ছবি: এএফপি

মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার প্রতিবাদে ইরানে বিক্ষোভ চলছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এমনটি বলা হয়েছে। 

এর আগে রোববার তেহরানে দোকানিরা মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ-ধর্মঘট ঘোষণা করেন। এরপর বিক্ষোভ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

ইরানি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানায়, বৃহস্পতিবার চাহারমাহাল ও বাখতিরি প্রদেশের লর্দেগান শহরে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। পার্শ্ববর্তী লোরেস্তান প্রদেশের আজনা শহরে তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন।

ফার্স আরও জানায়, লর্দেগানে বিক্ষোভকারীরা শহরের প্রশাসনিক ভবনগুলোতে পাথর নিক্ষেপ শুরু করে। এর মধ্যে প্রাদেশিক গভর্নরের অফিস, মসজিদ, শহিদ ফাউন্ডেশন, টাউন হল ও ব্যাংক ভবনও ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল ব্যবহার করে।

আজনা শহরে কিছু মানুষ প্রতিবাদ সমাবেশকে ব্যবহার করে পুলিশ স্টেশনের ওপর আক্রমণ চালায়। ফার্স তাদের 'দাঙ্গাবাজ' বলে উল্লেখ করেছে।  আগের প্রতিবাদ আন্দোলনগুলোর সময়েও রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রতিবাদকারীদের 'দাঙ্গাবাজ' হিসেবে উপস্থাপন করে।

বৃহস্পতিবার সকালে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, রাতে পশ্চিমাঞ্চলীয় কুহদাশত শহরে প্রতিবাদ চলাকালে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন।

লোরেস্তান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর সৈয়দ পুরালিকে উদ্ধৃত করে টিভি চ্যানেলটি জানায়, কুহদাশত শহরের ২১ বছর বয়সী বাসিজ সদস্য নিহত হয়েছেন। বাসিজ হলো স্বেচ্ছাসেবী সামরিক বাহিনী, যা ইরানের বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে যুক্ত।

পুরালি বলেন, কুহদাশতে প্রতিবাদের সময় ১৩ জন পুলিশ ও বাসিজ সদস্য পাথর নিক্ষেপে আহত হয়েছেন।

পশ্চিমাঞ্চলের হামেদান শহরে বিক্ষোভকারীরা একটি মোটরসাইকেল জ্বালিয়ে দিয়েছেন।  সংবাদ সংস্থা তাসনিম এটিকে একটি 'মসজিদ জ্বালিয়ে দেওয়ার' ব্যর্থ চেষ্টা হিসেবে দেখিয়েছে।

একই সংস্থা জানায়, তেহরানের এক এলাকায় গত রাতে ৩০ জনকে জনশৃঙ্খলাবিরোধী অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটি ছিল নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বাহিনীর সমন্বিত অভিযান।

Comments

The Daily Star  | English
Khaleda Zia political legacy in Bangladesh

The magic of Khaleda Zia

Her last speeches call for a politics of ‘no vengeance’.

23h ago