ছিনতাই করতে খোকন দাসকে ছুরিকাঘাতের পর পোড়ানোর চেষ্টা, আদালতে স্বীকারোক্তি

খোকন চন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় 'গ্রাম্য চিকিৎসক' খোকন চন্দ্রকে (৪৫) ছুরিকাঘাত ও পেট্রল দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল ছিনতাই। খোকন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৩ আসামি আদালতে এমন স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রবিউল হক দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, ছিনতাই করার উদ্দেশে ছুরিকাঘাত ও পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে মেরে ফেলার পরিকল্পনার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন ৩ আসামি।

তারা হলেন—সোহাগ খান (২৮), রাব্বি মোল্যা (২৪) ও পলাশ সরদার (২৫)।

ওসি জানান, রোববার রাতে তাদের ডামুড্যা থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাতেই পুলিশ ওই ৩ আসামিকে শরীয়তপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে।

বিচারক শুনানি শেষে তাদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করেন। এরপর তাদের আদালতে হাজির করা হয়।

ওসি বলেন, 'সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা আক্তারের কাছে আসামি রাব্বি মোল্ল্যা, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লাভলী শীলের কাছে সোহাগ খান ও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আকলিমা আক্তারের কাছে পলাশ সরদার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।'

গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের কেউরভাঙ্গা এলাকায় হামলার শিকার হন খোকন। 

পুলিশ জানায়, দুর্বৃত্তরা খোকনের তলপেটে ছুরি মেরে তার কাছে থাকা নগদ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এরপর তার শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রাণ বাঁচাতে খোকন পানিতে ঝাঁপ দেন। 

পরে ৩ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে খোকন দাসের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে কনেশ্বর এলাকার সোহাগ খান (২৭), রাব্বি মোল্যা (২১) ও পলাশ সরদারের (২৫) বিরুদ্ধে মামলা করেন।

Comments

The Daily Star  | English