১৫ সেনা কর্মকর্তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে আনতে হবে: চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, সেনাবাহিনীর হেফাজতে থাকা ১৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে যদি সত্যিই আটক করা হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করতে হবে। এটা আইনের বিধান।

আজ রোববার দুপুরে ট্রাইব্যুনালের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

তাজুল ইসলাম বলেন, সংবিধান, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন ১৯৭৩ এবং আমাদের ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী কোনো গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে হাজির না করে ২৪ ঘণ্টার বেশি আটক রাখা যায় না। আদালত বিশেষভাবে অনুমতি দিলে সেই সময়ের বাইরে আটক রাখা যায়। 

এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন ১৯৭৩ একটি বিশেষ আইন, যা বিশেষভাবে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনারি ফোর্সের (আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী) বিচারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই আইনে যে অপরাধগুলো বিচার করা হচ্ছে, তা বাংলাদেশের সাধারণ কোনো আইনে নেই। এমনি সেনা আইন, নৌবাহিনী আইন বা বিমানবাহিনীর যে নিজস্ব আইন আছে, সেখানেও নেই। এসব বিচার করার ক্ষমতা শুধু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আছে।

তিনি আরও বলেন, ট্রাইব্যুনালের এই আইনটা সংবিধান ধারা সুরক্ষিত। সংবিধানের ৪৭(৩) এবং ৪৭(ক) অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচার করার জন্য কোনো আইন প্রণীত হলে, তা সংবিধানের অন্যান্য বিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও সেই আইনই প্রাধান্য পাবে। 

তাজুল ইসলাম আরও বলেন, সংবিধান নিজেই বলেছে, ১৯৭৩ সালের আইনটি সুরক্ষিত এবং শক্তিশালী। তাই এই আইনের কোনো ধারা সুপ্রিম কোর্টসহ অন্য কোনো আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যায় না। এমনকি এ নিয়ে দায়ের করা রিট আবেদনও গ্রহণযোগ্য নয়।

সামরিক হেফাজতকে গ্রেপ্তার বা আটক হিসেবে গণ্য করা যায় কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাইব্যুনালে না আসা পর্যন্ত আমি কোনো মন্তব্য করতে পারি না। আদালতের বাইরে যা ঘটছে, তা ব্যাখ্যা করা আমার এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না।

তাজুল ইসলাম বলেন, আইনি প্রক্রিয়া স্বাধীনভাবে চলবে এবং সবাইকে আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আজ ট্রাইব্যুনালে চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছে।

Comments

The Daily Star  | English
‘King’s parties’ rounded up for polls

Towards hope, with the vote in sight

We step into the new year with hope and optimism as new beginnings are wont to be, the national election on the horizon is all the more reason to look ahead to 2026.

7h ago