কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণ

মহেশখালী চ্যানেলে নির্মিত স্থাপনা অপসারণের সুপারিশ বিআইডব্লিউটিএর

কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে বঙ্গোপসাগরের মহেশখালী চ্যানেলে পাইলিং দিয়ে নির্মিত স্থাপনাগুলো অপসারণ করতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) চিঠি দেওয়ার সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

মহেশখালী চ্যানেলের ভৌগোলিক ক্ষতি নিরূপণ ও পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে একটি মূল্যায়ন কমিটি গঠন করে বিআইডব্লিউটিএ। ওই কমিটি এ সুপারিশ করে।

গতকাল বুধবার বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমোডর আরিফ আহমেদ মোস্তফার সই করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কমিটির সুপারিশগুলো নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে পাঠানো হয়।

'কক্সবাজার এয়ারপোর্ট রানওয়ে এক্সটেনশন' প্রকল্পের আওতায় মহেশখালী চ্যানেলের ভেতরে জেটি ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মিত হয়েছে। এই এলাকাগুলো বিআইডব্লিউটিএর কক্সবাজার (কস্তুরাঘাট) নদী বন্দরের আওতাভুক্ত।

কমিটি আরও বলেছে, কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ের অংশ এই স্থাপনাগুলো যদি সিএএবি অপসারণ না করে, তবে বিআইডব্লিউটিএ উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করতে পারে।

রানওয়ে সম্প্রসারণের ফলে ভবিষ্যতে মহেশখালী চ্যানেল ও আশপাশের জলপথে কী প্রভাব পড়বে তা মূল্যায়নের জন্য সিএএবি একটি গবেষণা অর্থায়ন করতে পারে বলেও সুপারিশ করেছে কমিটি। গবেষণায় থাকবে হাইড্রো মরফোলজিক্যাল স্টাডি, হাইড্রোডাইনামিক ও সেডিমেন্ট ট্রান্সপোর্ট মডেলিং, ফ্লো ইন্টারাপশন অ্যানালাইসিস এবং পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন।

এছাড়া রানওয়ে সম্প্রসারণের সময় ফোরশোর ল্যান্ড ব্যবহার, লোডিং–আনলোডিং কার্যক্রম ও অস্থায়ী জেটি নির্মাণের জন্য সিএএবির কাছে বিআইডব্লিউটিএর বকেয়া প্রায় ৪ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এর আগে এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে নোট পাঠানো হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। সংকট সমাধানে দ্রুত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়।

বঙ্গোপসাগরের উপকূলজুড়ে অবস্থিত কক্সবাজার বিমানবন্দর। এর ১০ হাজার ৭০০ ফুট দৈর্ঘ্যের রানওয়েটির ১ হাজার ৭০০ ফুট নির্মিত হচ্ছে সমুদ্রের মহেশখালী চ্যানেলের ওপর।

শুরুতে রানওয়েটির দৈর্ঘ্য ছিল ৬ হাজার ৭৭৫ ফুট। প্রথম দফায় এর দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ও প্রস্থ ২০০ ফুটে উন্নীত করা হয়। চলমান প্রকল্পে সমুদ্রের দিকে আরও বাড়িয়ে রানওয়ের দৈর্ঘ্য ১০ হাজার ৭০০ ফুটে নেওয়া হয়েছে।

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার বিমানবন্দরটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার তিনটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

এর মধ্যে কক্সবাজার এয়ারপোর্ট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে ২ হাজার ১৫ কোটি টাকা, রানওয়ে এক্সটেনশন প্রকল্পে ৩ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা এবং ইন্টারন্যাশনাল প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল বিল্ডিং প্রকল্পে ২৭৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

Comments

The Daily Star  | English
Khaleda Zia political legacy in Bangladesh

The magic of Khaleda Zia

Her last speeches call for a politics of ‘no vengeance’.

1d ago