ডিসেম্বরে তফসিল ঘোষণার পরপরই দেশে ফিরতে পারেন তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই দেশে ফিরতে পারেন।

আজ শনিবার দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর বলেন, 'ডিসেম্বরের প্রথম দিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর তারেক রহমান দেশে ফিরবেন।'

তিনি বলেন, 'তারেক রহমানের নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে, এটা সবাই জানে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশে নেই। তাছাড়া তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে যাবেন এবং নির্বাচনে অংশ নেবেন। তাই তার উপস্থিতি যেন পুরো দেশ অনুভব করতে পারে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। সবাই অধীর আগ্রহে তার অপেক্ষায় থাকবে, আর তিনি যেখানে যাবেন, সেখানেই বিপুল জনসমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।'

তিনি আরও বলেন, যখন বিপুল জনসমাগম হয়, তখন নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকে। নিরাপত্তা হুমকির যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। যেন একদিকে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে, আবার অন্যদিকে তিনি যেন জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়েন।

এলাহী আকবর বলেন, এটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে। এই বিষয়ে সরকারের দায়িত্ব রয়েছে। সরকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসবে।

তারেক রহমানের নিরাপত্তা বিষয়ে সরকারের সঙ্গে বিএনপির কোনো বৈঠক হয়েছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, যখন আমরা তার আসার  সুনির্দিষ্ট তারিখ জানতে পারব, তখন সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হবে।

এদিকে, দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের জন্য একটি বুলেটপ্রুফ এসইউভি গাড়ি কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিএনপি।

তারেক রহমানের থাকার বিষয়ে আকবর বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাজধানীর গুলশান এভিনিউয়ে একটি ডুপ্লেক্স বাড়িতে অবস্থান করবেন।

দলীয় সূত্রে আরও জানা যায়, খালেদা জিয়ার বর্তমান বাসভবন ফিরোজার পাশে এই দুইতলা বাড়িটি সম্পূর্ণভাবে সংস্কার ও সজ্জিত করা হয়েছে। ৩২ কাঠা জমির ওপর নির্মিত এই বাড়িটি ১৯৮১ সালে সরকার খালেদা জিয়াকে দিয়েছিল। 

৫৯ বছর বয়সী তারেক রহমান ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে রয়েছেন। ২০০৯ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন এবং ধীরে ধীরে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের ভূমিকা গ্রহণ করেন। ২০১৮ সালে তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়। তখন থেকেই তিনি বিদেশ থেকে দল পরিচালনা করছেন, ভার্চুয়ালি সভা ও সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি পাঁচটি ভিন্ন মামলায় দণ্ডিত হন এবং তার বিরুদ্ধে প্রায় ১০০টি মামলা করা হয়। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কোনো পেন্ডিং মামলা নেই।

Comments

The Daily Star  | English
‘King’s parties’ rounded up for polls

Towards hope, with the vote in sight

We step into the new year with hope and optimism as new beginnings are wont to be, the national election on the horizon is all the more reason to look ahead to 2026.

7h ago